আপনি পড়ছেন

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত রূপরেখা চুক্তি তেহরানের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাড়তি সময় ও সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। বুধবার টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে এ কথা বলেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি উল্লেখ করেন, কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে যুদ্ধকৌশলের পাশাপাশি সমঝোতা প্রক্রিয়াও সমানতালে এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।

স্পিকার: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে সামরিক সক্ষমতা বেড়েছে ইরানের
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র, বিশ্ব এবং এই অঞ্চলের দেশগুলোকে এটি বোঝাতে আমাদের যথেষ্ট শক্তিশালী হতে হবে যে তারা তাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে না।’

গালিবাফ যুক্তি দেন, কেবল সমঝোতা বৈঠক ও স্বাক্ষরিত চুক্তি কিংবা একনাগাড়ে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া—এর কোনোটিই ভবিষ্যতে ইরানের ওপর সম্ভাব্য হামলা প্রতিহত করার জন্য যথেষ্ট নয়। তিনি বলেন, তেহরানের উচিত ‘যুদ্ধ, আলোচনা ও প্রতিরোধ’—এই চক্র অনুসরণ করা; যেখানে প্রয়োজনে লড়াই করার পাশাপাশি সামরিক সাফল্যকে আলোচনার টেবিলে রাজনৈতিক সুবিধা অর্জনে কাজে লাগানো হবে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য হলো নিজেদের আরও শক্তিশালী করে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং শত্রুর মনে সেই শক্তির বার্তা স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠা করা।’

গালিবাফ উল্লেখ করেন, ইরানের উচিত সামরিক বিজয়গুলোকে রাজনৈতিক অর্জনে রূপান্তর করা এবং নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় রসদ ও সময় পেতে সমঝোতা প্রক্রিয়াকে ব্যবহার করা।

জুন মাসে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পাদিত রূপরেখা চুক্তির কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হবে—এমনটি আগেই আঁচ করতে পেরেছিল তেহরান; আর সে কারণেই চুক্তিটি দুই ধাপে সাজানো হয়েছিল।

তিনি দাবি করেন, ওয়াশিংটনকে চুক্তি মেনে নিতে বাধ্য করার আগেই ইরান যুদ্ধক্ষেত্রে ‘কৌশলগত সুবিধা’ অর্জন করেছিল। একই সঙ্গে তিনি এই চুক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপিয়ে দেওয়া একটি ‘পরাজয়ের দলিল’ হিসেবে অভিহিত করেন।

গালিবাফ বলেন, এই চুক্তি ইরানকে দেশের ‘শক্তির উপাদানগুলোকে’ জোরদার করার জন্য ‘পর্যাপ্ত সময় ও রসদ’ জুগিয়েছে। তিনি জানান, এই চুক্তি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীকে শক্তিশালী হতে সহায়তা করার পাশাপাশি লেবাননের হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীকেও তাদের সক্ষমতা বাড়াতে সুযোগ করে দিয়েছে।

ইরানের প্রতিরোধ সক্ষমতা কেবল সামরিক শক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় উল্লেখ করে তিনি ‘প্রতিরোধ অক্ষের’ শক্তি, হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ, জাতীয় সংহতি, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সহনশীলতা এবং দেশের জনসংখ্যাকে প্রতিরোধ ব্যবস্থার অন্যান্য উপাদান হিসেবে তুলে ধরেন।

সামরিক সক্ষমতার বিষয়ে তিনি দাবি করেন, গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধ এবং বর্তমান সংঘাতের মধ্যকার সময়ে ইরানের আক্রমণাত্মক যুদ্ধক্ষমতা ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার লক্ষণীয় উন্নতি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ, আলোচনা ও প্রতিরোধ’-এর এই চক্র ততদিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে, যতদিন না ইরান এমন এক শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছায় যাতে শত্রুরা আর কখনো দেশটিতে হামলার চিন্তাও করতে না পারে।

গালিবাফ আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই ‘আচরণ পরিবর্তন করতে হবে’ এবং ইরানি জনগণের যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নিতে হবে।

ফেব্রুয়ারি মাসে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া কয়েক মাসের সংঘাতের পর, পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় ১৮ জুন ইসলামাবাদে এই রূপরেখা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

চুক্তিতে সংঘাতের অবসান, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া এবং অমীমাংসিত বিরোধ নিষ্পত্তিতে আলোচনা শুরু করার রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছিল। তবে নতুন করে সামরিক সংঘাত এবং পারস্পরিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মতবিরোধের কারণে এর বাস্তবায়ন জটিল রূপ নেয়।

চুক্তি লঙ্ঘনের জন্য ওয়াশিংটনকে দায়ী করেছে ইরান। দেশটির পক্ষ থেকে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, এই কৌশলগত নৌপথ পুরোপুরি উন্মুক্ত করা নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি পূরণের ওপর, যার মধ্যে নৌ অবরোধ শিথিল করা এবং নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত পদক্ষেপ প্রত্যাহার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

হরমুজ প্রণালী ও এর আশপাশের অঞ্চলে চরম উত্তেজনার মধ্যেই আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরান ও ওয়াশিংটন তাদের পরোক্ষ কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রেখেছে। ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা নতুন করে আলোচনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছেন; তবে কোনো আলোচনা শুরুর আগে অবশ্যই তেহরানের পূর্বশর্ত পূরণ করতে হবে।

হরমুজ প্রণালী ও তার আশপাশে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্যবস্তু হওয়া এবং অননুমোদিত বিবেচিত নৌপথে তেহরানের বিধিনিষেধ আরোপের ফলে সমুদ্রপথে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এই কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.