নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে খাবার গ্রহণের বহুল জনপ্রিয় পদ্ধতি ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং ওজন কমাতে সাধারণ ক্যালরি নিয়ন্ত্রণের চেয়ে বাড়তি কোনো সুবিধা দেয় না। সাম্প্রতিক বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এই পদ্ধতি অনুসরণে সামান্য ওজন কমলেও তা প্রচলিত খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের চেয়ে বেশি ফলপ্রসূ নয়। এছাড়া পদ্ধতিটি সবার জন্য সমান কার্যকর বা নিরাপদও নয়।

ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ে কি আসলেই দ্রুত মেদ কমে?
ছবি - সংগৃহীত

চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, প্রতিদিন দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার এই কঠোর নিয়ম সবার পক্ষে মেনে চলা সহজ নয় এবং এতে উল্টো স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা নারী, খাদ্যাভ্যাসসংক্রান্ত মানসিক সমস্যায় ভোগা ব্যক্তি এবং ডায়াবেটিসের ওষুধ গ্রহণকারীদের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া উপবাস থাকা ক্ষতিকর হতে পারে। একই সঙ্গে মানবদেহে আয়ু বৃদ্ধি, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ানো কিংবা কোষ মেরামতের মতো যেসব চটকদার দাবি এই পদ্ধতি নিয়ে করা হয়, সেগুলোর সপক্ষেও এখন পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ক্যানসারের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতির ভূমিকা নিয়ে কিছু আলোচনা হলেও গবেষকেরা স্পষ্ট করেছেন, এটি কোনোভাবেই মূল চিকিৎসার বিকল্প নয়। স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত নারীদের ওপর পরিচালিত একটি ছোট গবেষণায় চিকিৎসার পাশাপাশি উপবাসের সম্ভাব্য কিছু সুবিধার ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য আরও ব্যাপক গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খাবার খেলে মূলত অপ্রয়োজনীয় ক্যালরি গ্রহণের পরিমাণ কমে বলেই কিছুটা ওজন কমে। ২০২৫ সালে প্রকাশিত ৯৯টি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের একটি বড় পর্যালোচনা এবং ২০২৪ সালের গবেষণায় দেখা গেছে, স্বাভাবিক খাবার খাওয়া ব্যক্তিদের তুলনায় এই পদ্ধতিতে সামান্য ওজন বা পেটের চর্বি কমলেও প্রচলিত ডায়েটের চেয়ে এর কোনো লক্ষণীয় পার্থক্য নেই। অর্থাৎ কেবল সময় সীমিত করলেই বাড়তি মেদ দ্রুত ঝরে যাবে, চিকিৎসা বিজ্ঞানে এমন কোনো নিশ্চয়তা মেলেনি।

সাধারণত ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ে ১৬ ঘণ্টা উপবাস থেকে বাকি ৮ ঘণ্টায় খাবার খাওয়া হয় অথবা সপ্তাহে দুই দিন অতি অল্প ক্যালরি গ্রহণ করা হয়। রক্তে শর্করার মাত্রা কমে শরীর জমা চর্বি ব্যবহার করবে—এমন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা প্রচলিত থাকলেও বাস্তবে রাতে নাশতা খাওয়ার অভ্যাস বন্ধ হওয়া এবং সামগ্রিক ক্যালরি কম হওয়াই মূল ভূমিকা রাখে। ফলে সামাজিক মাধ্যমের চটকদার প্রচারণায় বিভ্রান্ত না হয়ে দীর্ঘমেয়াদে সুষম খাদ্য গ্রহণই ওজন ব্যবস্থাপনার প্রধান উপায় বলে মত গবেষকদের।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.