আপনি পড়ছেন

ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনকে কাজে লাগিয়ে একতাবদ্ধ ও টেকসই ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে দ্রুত এগিয়ে চলেছে তুর্কি বিশ্ব। অভিন্ন ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা তুর্কি রাষ্ট্র সংস্থা (ওটিএস) এখন কেবল রাজনৈতিক আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবমুখী সহযোগিতার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিচ্ছে। সংস্থাটির মহাসচিব অ্যাম্বাসেডর কুবানিচবেক ওমুরালিয়েভের মতে, পূর্ব ও পশ্চিমকে সংযুক্তকারী সুবিশাল ভৌগোলিক অঞ্চলের প্রায় ১৮ কোটি মানুষকে একত্রিত করে এই অনন্য রূপান্তর এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

অভিন্ন ইতিহাস থেকে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথে তুর্কি বিশ্ব
তুর্কি রাষ্ট্র সংস্থার সদস্য দেশগুলোর জাতীয় পতাকা

ওমুরালিয়েভ উল্লেখ করেন, জাতি ও রাষ্ট্রের জীবনে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ সময় আসে যখন অভিন্ন ইতিহাস নিছক স্মৃতি হয়ে থাকে না, বরং ভবিষ্যৎ গঠনের চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়। বর্তমান সময়কে তুর্কি বিশ্বের জন্য তেমনই এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন তিনি। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে যে সম্পর্ক সাধারণ ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং সম্মিলিত স্মৃতির ওপর টিকে ছিল, তা এখন ওটিএসের ছত্রচ্ছায়ায় বাণিজ্য, পরিবহন, বিনিয়োগ, শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমে বাস্তব রূপ পাচ্ছে।

২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংস্থাটি মূলত রাজনৈতিক সংলাপ এবং সাংস্কৃতিক নৈকট্যের প্ল্যাটফর্ম থেকে একটি সমন্বিত ও কর্মমুখী সহযোগিতার রূপরেখায় রূপান্তরিত হয়েছে। নিজের মেয়াদ শেষের প্রাক্কালে মহাসচিব জানান, এই সময়টি কেবল পেছনের অর্জনের দিকে তাকানোর উপলক্ষ নয়, বরং এই সহযোগিতাকে কীভাবে অনন্য করা যায় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কেমন তুর্কি বিশ্ব গড়ে তোলা হবে, তা নিয়ে ভাবার উপযুক্ত সুযোগ।

তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে তুর্কি রাষ্ট্র সংস্থার একটি বিরল বৈশিষ্ট্য রয়েছে। অধিকাংশ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সংকট, অর্থনৈতিক প্রয়োজনীয়তা বা নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে সৃষ্টি হয়। তবে ওটিএসের ভিত্তি সম্পূর্ণ আলাদা।’ শতাব্দী প্রাচীন অভিন্ন ইতিহাস, ভাষার নৈকট্য, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, মূল্যবোধ এবং একই সভ্যতার অংশ হওয়ার গভীর অনুভূতিই এই সংস্থার ভিত্তি। ওমুরালিয়েভের মতে, সাধারণ ইতিহাস ও সংস্কৃতি টেকসই সহযোগিতার জন্য আস্থার পরিবেশ তৈরি করে। তবে ঐতিহ্য একাই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একবিংশ শতাব্দীর বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ঐতিহাসিক এই ঘনিষ্ঠতাকে বাস্তব সুযোগ ও সংযোগে রূপান্তর করাই বর্তমান প্রজন্মের মূল দায়িত্ব।’

তুর্কি ভাষার একটি বহুল প্রচলিত বাক্য ‘বিজ বিরলিকতে দাহা গুচলুয়ুজ’ বা ‘একসাথে আমরা আরও শক্তিশালী’ ধারণার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, সাধারণ তুর্কি বর্ণমালায় লেখা এই বাক্যটি পুরো তুর্কি বিশ্ব জুড়ে প্রায় কোনো অনুবাদ ছাড়াই সবাই বুঝতে পারে। সংহতির এই প্রকাশই এখন বাস্তব সহযোগিতার মূলনীতি হিসেবে কাজ করছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ওটিএসের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বর্তমানে সংস্থাটির আওতায় অর্থনীতি, বাণিজ্য, পরিবহন, শুল্ক, জ্বালানি, ডিজিটালাইজেশন, শিল্প, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যুব উন্নয়ন, কৃষি, শ্রম ও সামাজিক নিরাপত্তা এবং মহাকাশ গবেষণাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মোট ৬৫টি যৌথ সহযোগিতা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালের পর থেকে ৩২টি নতুন সহযোগিতা ব্যবস্থা চালু হয়েছে, যা ২০২২ সালের শেষ নাগাদ পর্যন্ত গড়ে ওঠা মোট ব্যবস্থার সমান। ওমুরালিয়েভের মতে, এটি শুধু কর্মপরিকল্পনার বিস্তারই নয়, বরং সদস্য ও পর্যবেক্ষক রাষ্ট্রগুলোর যৌথ অগ্রাধিকার বাস্তবায়নের দৃঢ় সংকল্পের বহিঃপ্রকাশ।

এই সামগ্রিক অগ্রগতিকে তিনি ‘বাস্তবায়ন, রূপান্তর ও প্রাতিষ্ঠানিক গভীরতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। সংসদীয় পরিষদ (তুর্কপা), আন্তর্জাতিক তুর্কি সংস্কৃতি সংস্থা (তুর্কসয়), তুর্কি একাডেমি, তুর্কি বিনিয়োগ তহবিল এবং বাণিজ্য ও শিল্প চেম্বার ইউনিয়নের মতো সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে ওটিএস। একই সঙ্গে তুর্কি বিনিয়োগ তহবিল গঠন ও তা কার্যকর করাকে বড় একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করে তিনি উল্লেখ করেন, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা দিতে এবং যৌথ প্রকল্প বাস্তবায়নে সদস্য রাষ্ট্রগুলো প্রথমবারের মতো নিজস্ব যৌথ আর্থিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে।

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.