জাতিসংঘ: বৈশ্বিক উষ্ণতা রোধে জলবায়ু প্রতিশ্রুতিগুলো একেবারেই অপ্রতুল
বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির হার দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামিয়ে আনতে যে পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ কমানো প্রয়োজন, বিশ্বের দেশগুলোর বর্তমান জলবায়ু প্রতিশ্রুতি তার তুলনায় খুবই নগণ্য। এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হলেও ২০৩৫ সালের মধ্যে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ মাত্র ১১ থেকে ১৫ শতাংশ কমবে, যেখানে প্রয়োজন অন্তত ৪৫ শতাংশ হ্রাস। বুধবার এ বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি)।

সংস্থাটির ‘নির্গমন ব্যবধান প্রতিবেদন ২০২৬’-এ বলা হয়েছে, চলতি শতাব্দীর শেষ নাগাদ বৈশ্বিক উষ্ণতা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ফিরিয়ে আনতে হলে সর্বোচ্চ উষ্ণতা বৃদ্ধির হার ১ দশমিক ৭ থেকে ১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। এ জন্য ২০২৫ সালের মাত্রার ওপর ভিত্তি করে ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক নির্গমন ১৮ শতাংশ, ২০৩৫ সালের মধ্যে ৪৫ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৬৯ শতাংশ কমাতে হবে।
তবে দেশগুলোর বিদ্যমান জলবায়ু প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হলেও ২০৩০ সাল নাগাদ নির্গমন কমবে মাত্র ৫ থেকে ৮ শতাংশ এবং ২০৩৫ সাল নাগাদ কমবে ১১ থেকে ১৫ শতাংশ।
প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বর্তমান নীতিগুলো অব্যাহত থাকলে চলতি শতাব্দীতে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। অন্যদিকে দেশগুলো তাদের বিদ্যমান সব প্রতিশ্রুতি রক্ষা করলেও উষ্ণতা বৃদ্ধি ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমাবদ্ধ থাকবে। এমনকি জাতীয় প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি অতিরিক্ত নেট-জিরো বা শূন্য নির্গমন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা হলেও উষ্ণতা বৃদ্ধির হার কেবল ২ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।
ইউএনইপির নির্বাহী পরিচালক ইনগার অ্যান্ডারসেন প্রতিবেদনে বলেন, ‘দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে তাপমাত্রা সামান্যতম বৃদ্ধি বা অতিরিক্ত উষ্ণতার প্রতিটি বছরই জলবায়ুর ক্ষতিকর প্রভাব ও ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়; যার প্রমাণ চলতি বছর বিভিন্ন দেশে দেখা যাওয়া প্রাণঘাতী বন্যা, দাবদাহ ও দাবানল।’
এদিকে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস জোর দিয়ে বলেন, উষ্ণতা বৃদ্ধির ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সীমা অতিক্রম করে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে তাপমাত্রা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা ছেড়ে দিতে হবে।
তিনি বলেন, ‘সীমা অতিক্রম করা মানে আত্মসমর্পণ নয়। আমরা এখনো এটিকে যথাসম্ভব সীমিত ও স্বল্পমেয়াদী রাখতে পারি এবং শতাব্দীর শেষ নাগাদ তাপমাত্রা পুনরায় দেড় ডিগ্রির নিচে ফিরিয়ে আনতে পারি।’
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, তাপমাত্রা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ফিরিয়ে আনতে চলতি শতাব্দীতে বায়ুমণ্ডল থেকে প্রায় ৩২০ গিগাটন কার্বন ডাই-অক্সাইড অপসারণ ও তা স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। তবে এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ অত্যন্ত কঠিন প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।
এই সতর্কবার্তার মধ্যেও ইউএনইপি উল্লেখ করেছে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং সময়োপযোগী জলবায়ু নীতির কারণে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি দেশে নির্গমন কমেছে।
অ্যান্ডারসেন বলেন, ‘দ্রুত, গভীর ও টেকসইভাবে নির্গমন কমাতে এবং বিশ্বকে আরও স্থিতিশীল জলবায়ু, অর্থনীতি ও সমাজের পথে এগিয়ে নিতে জরুরি ভিত্তিতে নীতি প্রণয়ন করা এখন দেশগুলোর দায়িত্ব।’
জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে সর্বোচ্চ উষ্ণতা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৭ থেকে ১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখা খুব দ্রুতই অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.