আপনি পড়ছেন

সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রভাবে পেনশনের পেছনে সরকারের বার্ষিক আর্থিক দায় দ্বিগুণ ছাড়িয়ে যাওয়ার আভাস মিলেছে। ২০২৯-৩০ অর্থবছর নাগাদ এ খাতে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়াবে ৫০ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা। জাতীয় বেতন কমিশনের এক পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, এ ধরনের বিপুল আর্থিক বাধ্যবাধকতা দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় বাজেটের ওপর অসহনীয় চাপ তৈরি করবে। আজ শনিবার ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

নতুন পে-স্কেল: পাঁচ বছরে পেনশন ব্যয় দাঁড়াবে ৫১ হাজার কোটি
ছবি- সংগৃহীত

নতুন কাঠামো পুরোপুরি কার্যকর হলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৯ লাখ ১৬ হাজার সুবিধাভোগীর পেছনে সরকারের গুনতে হবে ৩৪ হাজার ৬২৯ কোটি টাকা। পরবর্তী চার বছরের ব্যবধানে পেনশনভোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ১০ লাখ ৪৫ হাজারে। কমিশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে সুবিধাভোগীর সংখ্যা প্রতিবছর গড়ে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ হারে বাড়ছে।

বর্তমানে দেশে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের পেনশনের পুরো অর্থই মেটানো হয় রাজস্ব তহবিল থেকে। 'ডিফাইন্ড বেনিফিট' কাঠামোর অধীনে কর্মচারীদের চাকরিজীবনে কোনো চাঁদা দিতে হয় না; বরং অবসরে যাওয়ার পর তারা সর্বশেষ মূল বেতনের ৯০ শতাংশ অর্থ আজীবন পেয়ে থাকেন। এছাড়া ৫৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ প্রায় ৯০টি স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের পেনশনের বড় অংশের জোগানও যায় সরকারি কোষাগার থেকে।

২০১৫ সালের বেতন কাঠামোর অধীন বিগত অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে এ খাতে সরকারের ব্যয় হয় ১২ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা, যা বার্ষিক হিসাবে দাঁড়ায় প্রায় ২৪ হাজার ৬৭০ কোটি টাকায়। কমিশন জানিয়েছে, নাগরিকদের গড় আয়ু বৃদ্ধির কারণে এখন অবসরপ্রাপ্তরা ২০ বছর বা তার চেয়েও বেশি সময় ধরে এই আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করছেন, যা বর্তমান ব্যবস্থার ওপর বাড়তি আর্থিক বোঝা তৈরি করছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় চাঁদাভিত্তিক পেনশন বা 'ডিফাইন্ড কন্ট্রিবিউশন' চালুর সুপারিশ করেছে কমিশন। প্রতিবেশী ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কাসহ উন্নত দেশগুলোতে এই মডেল অনুসৃত হচ্ছে। ভারতে কর্মীরা বেতনের ১০ শতাংশ এবং সরকার ১০ থেকে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত চাঁদা দেয়। শ্রীলঙ্কায় কর্মী ৮ শতাংশ ও সরকার ১২ শতাংশ এবং পাকিস্তানে কর্মীরা ১০ শতাংশ ও সরকার ১২ শতাংশ অর্থ জমা দেয় তহবিলে। অস্ট্রেলিয়ায় ন্যূনতম ১২ শতাংশ চাঁদা জমার বাধ্যবাধকতায় পেনশন তহবিলের আকার ২০২৫ সালে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৩৩ ট্রিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলারে।

দেশে ১৭ কোটি মানুষের জন্য একটি সর্বজনীন ও অভিন্ন তহবিল গঠন করা গেলে পুঁজিবাজার চাঙ্গা হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের পথ খুলবে বলে মত দিয়েছে কমিশন। এ লক্ষ্যে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে নবনিযুক্ত সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্য বাধ্যতামূলক চাঁদাভিত্তিক ব্যবস্থা চালুর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এই অর্থ নিরাপদ সরকারি সিকিউরিটিজ, শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডে খাটিয়ে তহবিল স্বনির্ভর করার এবং জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিধি বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে জাতীয় বেতন কমিশন।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.