আপনি পড়ছেন

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে রাজনৈতিক দৃশ্যপটে বড় ধরনের পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে। এতে রেকর্ড ভোটার উপস্থিতি এবং ফিলিস্তিনি নাগরিকদের জোরালো অংশগ্রহণের পাশাপাশি ডানপন্থী দল ও বিরোধী জোটের ক্ষমতার ভারসাম্যে নতুন মেরুকরণ তৈরি হয়েছে।

ইসরায়েল নির্বাচন: ভাঙছে রাজনৈতিক সমীকরণ, বাড়ছে কেন্দ্রপন্থী ও আরবদের প্রভাব
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে একটি ভোটকেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন এক নাগরিক

ভোট গণনা চলার মধ্যে ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে, ৮৪ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট গণনায় দেখা গেছে ১২০ আসনের নেসেটে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট ৫৪টি আসন পেতে পারে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন থেকে তারা সাতটি আসন পিছিয়ে রয়েছে। সেন্ট্রাল ইলেকশন কমিটির বরাতে দ্য টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৪৯টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে সংখ্যাগরিষ্ঠ আরব দলগুলো ১৭টি আসনে জয়ের পথে রয়েছে।

গাজায় গণহত্যা এবং ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনকে দেশটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। ২০১৯ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের নভেম্বরের মধ্যে পাঁচটি পার্লামেন্ট নির্বাচনের পর দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। চার বছর আগে নেতানিয়াহু যে জোট গড়ে ক্ষমতায় ফিরেছিলেন, তা তিনি ধরে রাখতে পারবেন কি না—এই নির্বাচন ছিল তারই বড় পরীক্ষা।

এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলে কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি, আরব দলগুলোর রেকর্ড আসন প্রাপ্তির সম্ভাবনা, বিরোধী দলগুলোর নতুন সমীকরণ এবং নেতানিয়াহুর কট্টর অর্থোডক্স ও চরম ডানপন্থী মিত্রদের ওপর চাপের বিষয়টি সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান হয়েছে। ভোট গণনা এখনো চলছে এবং চূড়ান্ত ফলাফল এখনো অনিশ্চিত হলেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবণতা ইতোমধ্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

ইসরায়েলের সেন্ট্রাল ইলেকশন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ভোটার উপস্থিতির হার দাঁড়িয়েছে ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশে। প্রায় ৫৭ লাখ ভোটার এবার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। ১৯৯৯ সালের পার্লামেন্ট নির্বাচনের পর এটিই সর্বোচ্চ উপস্থিতির রেকর্ড। এই হার ২০২২ সালের ৭০ দশমিক ৬ শতাংশের চেয়ে ৭ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। এমনকি ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে হওয়া পাঁচটি নির্বাচনের উপস্থিতির হারকেও তা ছাড়িয়ে গেছে। ২০১৯ সালের এপ্রিলে ৬৮ দশমিক ৫ শতাংশ, সেপ্টেম্বরে ৬৯ দশমিক ৮ শতাংশ, ২০২০ সালে ৭১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ২০২১ সালে ৬৭ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট পড়েছিল। দেশটির সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, সেনাদের মধ্যে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৭৯ দশমিক ৯ শতাংশ, যা ২০২২ সালের চেয়ে বেশি।

টানা নির্বাচন, রাজনৈতিক অচলাবস্থা এবং সরকারের বিভিন্ন নীতি নিয়ে ক্রমবর্ধমান বিভাজনের পটভূমিতে এই ভোটার বৃদ্ধি ঘটেছে। এবারের নির্বাচনী প্রচারণায় গাজা যুদ্ধ, নিরাপত্তা সংকট, ধর্মীয় কারণে সামরিক সেবা থেকে ছাড় এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসংক্রান্ত বিতর্কগুলো প্রাধান্য পেয়েছিল।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রধানত আরবদের নিয়ে গঠিত জয়েন্ট লিস্ট পেতে পারে ১১টি আসন। অন্যদিকে ইউনাইটেড আরব লিস্ট (রাম) ছয়টি আসনে জয়ী হতে পারে। এই ফলাফল নিশ্চিত হলে তা ২০২০ সালের ১৫টি আসন পাওয়ার রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যাবে। সেই সময় রাম এই জোটের অন্তর্ভুক্ত ছিল। সদ্য সমাপ্ত নেসেটে দল দুটির বর্তমান আসন সংখ্যা ছিল ১০টি।

বেশ কয়েকটি আরব অধ্যুষিত এলাকায় ভোটার উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ওয়াইনেট জানিয়েছে, সাখনিনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৮৬ দশমিক ৮ শতাংশ এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় বেদুইন শহর রাহাত-এ উপস্থিতি ছিল ৮২ শতাংশ। এগুলো নির্দিষ্ট অঞ্চলের পরিসংখ্যান হলেও চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, আরব ভোটারদের সামগ্রিক উপস্থিতির হার ছিল প্রায় ৮০ শতাংশ। ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের গবেষণা অনুযায়ী, আরব ও দ্রুজ অধ্যুষিত এলাকায় ২০২১ সালে উপস্থিতির হার ছিল ৪৪ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ২০২২ সালে ছিল ৫৩ দশমিক ২ শতাংশ। দখলদার বাহিনীর সহিংসতা, বাড়িঘর উচ্ছেদ এবং অতি-ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গ্যভিরের চরমপন্থী নীতি নিয়ে উদ্বেগের কারণেই এই ব্যাপক ভোটদান হয়েছে।

আরব দলগুলোতে ইহুদি ভোটারদের সমর্থন নতুন নয়। বিশেষ করে হাদাশ দলে দীর্ঘদিন ধরেই ইহুদি রাজনীতিবিদ ও সমর্থকরা রয়েছেন। তবে এবার ইসলামপন্থী দল রামের ভেতরে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। দলটির প্রার্থী তালিকায় দুই নম্বরে রাখা হয়েছে মধ্যপন্থী ইয়েশ আতিদ দলের সাবেক ইহুদি আইনপ্রণেতা এবং সাবেক উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা ইয়োভ সেগালোভিচকে। এই পদক্ষেপ দলটির গ্রহণযোগ্যতা ও পরিধি বাড়ানোর বড় প্রয়াস হিসেবে দেখা হচ্ছে। জয়েন্ট লিস্টও তেল আবিবে হিব্রু ভাষায় প্রচার চালিয়ে ইহুদি সমর্থন চেয়েছে। দলটির চেয়ারম্যান ইউসুফ জাবারিন আশা প্রকাশ করেন, এতে ১০ থেকে ১৫ হাজার ইহুদি ভোটার আকৃষ্ট হতে পারে। অন্যদিকে আহমদ তিবি যুদ্ধ ও দখলদারিত্বের বিরোধিতাকারী ভোটারদের প্রতি সমর্থন চেয়েছেন।

নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের মিত্র প্রধান দুই কট্টর অর্থোডক্স দল শাস এবং ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম তীব্র চাপের মুখে রয়েছে। ২০২২ সালে এই দুটি দল মিলে পেয়েছিল ১৮টি আসন, যার মধ্যে শাস পায় ১১টি এবং ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম পায় সাতটি আসন। দ্য জেরুজালেম পোস্ট প্রকাশিত বুথফেরত জরিপের তথ্যে দেখা গেছে, এবার তাদের সম্মিলিত আসন কমে ১২ থেকে ১৩টিতে নামতে পারে। কট্টর অর্থোডক্স ইহুদি পুরুষদের বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার আওতাভুক্ত করা নিয়ে চলমান বিরোধের মধ্যে এই পূর্বাভাষ এলো। দলগুলো সামরিক সেবায় যুক্ত হওয়ার বিরোধিতা করলেও যুদ্ধের এই সময়ে অন্য ইসরায়েলিরা সবার জন্য এই বাধ্যবাধকতার দাবি জানাচ্ছেন।

নির্বাচনের আরেকটি বড় দিক হলো ঐতিহ্যবাহী বামপন্থীদের বদলে খণ্ডিত রাজনৈতিক মধ্যপন্থীদের উত্থান। মধ্যপন্থী দল ও নেতারা এখন নেতানিয়াহু-বিরোধীদের মূল বিকল্প হয়ে উঠেছেন। এবারের নির্বাচনে সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট এবং ইয়ায়ের লাপিদ ‘টুগেদার’ নামে যৌথ তালিকা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট নেতৃত্ব দিয়েছেন ‘ইয়াশার’ জোটের। অন্যদিকে ইয়ায়ের গোলানের ‘ডেমোক্র্যাটস’ ব্যানারে এক হয়েছে লেবার ও মেরেৎজ দল। ইসরায়েলের ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ ন্যূনতম ভোটের সীমা পার করতে না পেরে ভোট নষ্ট হওয়া ঠেকাতেই এই জোট গঠন করা হয়েছিল।

দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবার অর্ধ মিলিয়নেরও বেশি তরুণ ইসরায়েলি প্রথমবারের মতো ভোটার হয়েছেন। করোনা মহামারি, বিচার বিভাগীয় সংস্কারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ এবং গাজা যুদ্ধের মতো বড় ঘটনাগুলো তাদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে রূপ দিয়েছে। চ্যানেল ১২-এর এক জরিপে দেখা গেছে, ৭৪ শতাংশ তরুণ নিজেদের ডানপন্থী বা মধ্য-ডানপন্থী বলে পরিচয় দিলেও ১৬ শতাংশ ভোট দিয়েছেন আইজেনকটের ইয়াশার দলকে, যেখানে নেতানিয়াহুর লিকুদ দল পেয়েছে ১৪ শতাংশ। এতে স্পষ্ট হয় যে, ডানপন্থী চিন্তাধারার সমর্থক হলেই তরুণরা নেতানিয়াহুকে সমর্থন করছেন না। তরুণ ভোটারদের কাছে নিরাপত্তা, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ সবচেয়ে বড় বিবেচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.