আপনি পড়ছেন

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের খুলনা অভিমুখে লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কোনো নেতা অংশ নেননি। তবে সমাবেশ শেষে খুলনার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া গাড়িবহরে দলটির চারজন নেতা যোগ দেন। রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে আয়োজিত উদ্বোধনী সমাবেশ শেষে সকাল সাড়ে আটটার দিকে গাড়িবহরটি খুলনার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে।

লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ এড়িয়ে বহরে এনসিপির ৪ নেতা
রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে ১১ দলীয় জোটের লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ

এনসিপির একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দলের আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব এই লংমার্চে অংশ নেবেন না। দল থেকে প্রতিনিধি হিসেবে চারজন নেতাকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। তারা হলেন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব ও আবদুল হান্নান মাসউদ এবং যুগ্ম সদস্যসচিব এসএম সাইফ মোস্তাফিজ।

দলটির নেতারা জানান, আরিফুল ইসলাম আদীব ইতিমধ্যে শরীয়তপুরের নাওডোবায় বক্তব্য দিয়েছেন।

দলীয় সূত্র জানায়, এই লংমার্চে এনসিপির অংশগ্রহণ মূলত ‘প্রতীকী’। এর আগের দুটি লংমার্চে দলের আহ্বায়ক, সদস্যসচিব ও শীর্ষ নেতারা অংশ নিলেও এবার কেবল কয়েকজন নেতাকে প্রতিনিধি হিসেবে পাঠানো হয়েছে।

এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী টেলিফোনে বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে এনসিপি এই লংমার্চে অংশ নিচ্ছে। আমাদের বেশ কয়েকজন প্রতিনিধি সেখানে উপস্থিত থাকবেন।’ তবে উদ্বোধনী সমাবেশে দলের শীর্ষ নেতাদের অনুপস্থিতির বিষয়ে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি।

উদ্বোধনী সমাবেশে এনসিপির কোনো নেতা অংশ না নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক এবং জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ টেলিফোনে জানান, এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বাগেরহাট থেকে লংমার্চে যোগ দেবেন।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনসিপির এক যুগ্ম আহ্বায়ক জানান, হাসনাত আবদুল্লাহ ইতিমধ্যে বহরে রয়েছেন। অবশ্য এই তথ্যটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বক্তব্যের জন্য হাসনাত আবদুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

খুলনা অভিমুখী ১১ দলীয় জোটের বহরটি গোপালগঞ্জের ওপর দিয়ে যাবে। এই সিদ্ধান্তটি রাজনৈতিক অঙ্গনে বহরের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত বছরের জুলাইয়ে গোপালগঞ্জে এনসিপির ‘জুলাই মার্চ’ ও সমাবেশে হামলার ঘটনা ঘটেছিল। তৎকালীন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ওই হামলার জন্য দায়ী করা হয়।

ওই ঘটনার ১৫ মাস পর বিরোধী জোটের লংমার্চ আবারও গোপালগঞ্জ অতিক্রম করছে, যা নিরাপত্তা উদ্বেগকে সামনে নিয়ে এসেছে। তবে এই জেলায় ১১ দলীয় জোটের কোনো পথসভার কর্মসূচি রাখা হয়নি।

গোপালগঞ্জে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছেন জোটের নেতারা। এ বিষয়ে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, ‘এসব খবর মিথ্যা ও গুজব। আমরা গোপালগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কথা বলেছি। সেখানে হামলার কোনো ঝুঁকি নেই।’

লংমার্চে এনসিপির অংশগ্রহণ নিয়ে কয়েক দিন ধরেই রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছিল। এনসিপির ঘনিষ্ঠ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দলটি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের অংশ হলেও একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক দল হিসেবে নিজেদের পৃথক পরিচিতি বজায় রাখতে চায়। এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে খুলনা অভিমুখে জোটের লংমার্চের এক দিন আগে, শুক্রবার ঢাকায় শাহবাগে গণবিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে দলটি।

শনিবার সকালে বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে উদ্বোধনী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

সমাবেশে জামায়াত আমির বলেন, ‘দ্বারে কড়া নাড়ছে আরেক অনিবার্য বিপ্লব।’ তিনি দেশবাসীকে সেই বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।

শফিকুর রহমানের বক্তব্যের পর সকাল সাড়ে আটটার দিকে লংমার্চের গাড়িবহর রওনা হয়। বহরটি হানিফ ফ্লাইওভার ও ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা, গোপালগঞ্জ ও খুলনা অতিক্রম করবে। এরপর রূপসা সেতু পার হয়ে যশোর ও কুষ্টিয়ার দিকে যাবে। প্রায় ৪২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই যাত্রাপথে ১৯টি জেলা অতিক্রম করা হবে এবং বিভিন্ন স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে।

ঘোষিত সফরসূচি অনুসারে, ঢাকা থেকে মাওয়া এবং মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের মধ্যবর্তী নাওডোবা হয়ে বহরটি খুলনা বিভাগে প্রবেশ করবে। নাওডোবা, বাগেরহাটের কাটাখালী, খুলনার বাবরি চত্বর ও স্বাধীনতা চত্বর, যশোরের মুড়লী মোড় এবং ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পথসভা হওয়ার কথা রয়েছে। কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে সমাবেশের মাধ্যমে লংমার্চটি শেষ হবে।

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে সংবিধান সংস্কারের দাবিতে ১১ দলীয় জোট এই লংমার্চের আয়োজন করছে।

জোটের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যার বিচার; বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গ্যাস ও সারের সংকট সমাধান; নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ; আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি; দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব বন্ধ এবং প্রশাসনের সব পর্যায়ে দলীয় নিয়োগ ও প্রভাব বন্ধ করা।

এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম এবং ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর অভিমুখে লংমার্চ করেছিল ১১ দলীয় জোট। খুলনা বিভাগের পর আগামী ২১ নভেম্বর সিলেট অভিমুখে পরবর্তী লংমার্চের পরিকল্পনা রয়েছে জোটটির।

প্রথম আলো অবলম্বনে

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.