উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারদের হামলায় খোয়া যাওয়া ৬৩০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সির প্রায় ৯৫ শতাংশ অর্থ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সুরক্ষিত করার দাবি করেছে ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ বাইনান্স। বৃহস্পতিবার সংঘটিত এই ঘটনাকে ইতিহাসের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি হ্যাকিং হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রাহকদের সম্পূর্ণ তহবিল ফেরত দেওয়ার নিশ্চয়তা দিতে নিজস্ব সম্পদ, একটি বিমা তহবিল এবং ১০০ কোটি ডলারের কৌশলগত বিটকয়েন রিজার্ভ ব্যবহারের কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

ইতিহাসের বৃহত্তম ক্রিপ্টো চুরির ধাক্কা সামলে ওঠার দাবি বাইনান্সের
ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বাইনান্সের একটি লেনদেন প্ল্যাটফর্মের প্রতীকী চিত্র

সাইবার হামলার পর বাইনান্স সাময়িকভাবে অর্থ উত্তোলন বা উইথড্রয়াল বন্ধ রেখেছিল। পরে এই সুবিধা পুনরায় চালু করা হলে গ্রাহকদের আশ্বস্ত করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বার্তা দেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক প্রধান নির্বাহী চ্যাংপেং ঝাও। রবিবার তিনি লেখেন, ‘সুসময়ে আপনি কী বলেন তা দিয়ে আস্থা তৈরি হয় না। কঠিন সময়ে আপনার কাজের মাধ্যমেই সেই বিশ্বাস অর্জন করতে হয়।’ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ পাচারবিরোধী আইন লঙ্ঘনের দায়ে ২০২৩ সালে প্রধান নির্বাহীর পদ ছাড়েন ঝাও। পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে ক্ষমা করেন এবং তিনি এখনো প্ল্যাটফর্মটির সবচেয়ে বড় শেয়ারহোল্ডার হিসেবে বহাল রয়েছেন।

বাইনান্স কর্তৃপক্ষের আশ্বাস সত্ত্বেও গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ কমেনি। প্ল্যাটফর্মটিতে অর্থ উত্তোলন পুনরায় চালু হওয়ার প্রথম নয় ঘণ্টাতেই ৩৬০ কোটি ডলার তুলে নেন ব্যবহারকারীরা। তবে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালিত মোট ১৭ হাজার ১০০ কোটি ডলার সম্পদের তুলনায় এই প্রত্যাহার মাত্র দুই শতাংশের মতো। সাধারণত বাইনান্স একটি বিনিময় কেন্দ্র ও ডিজিটাল সম্পদ হেফাজতকারী হিসেবে কাজ করে, যেখানে গ্রাহকরা বিটকয়েনসহ বিভিন্ন ভার্চুয়াল মুদ্রা লেনদেন ও জমা রাখেন।

চুরি হওয়া তহবিলের মধ্যে মার্কিন ডলারের মূল্যের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ একাধিক স্টেবলকয়েন ছিল। ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট স্টেবলকয়েন কোম্পানিগুলো প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের তহবিল জব্দ করে। ফলে হ্যাকাররা সেই অর্থ স্থানান্তর বা পাচার করতে ব্যর্থ হয়। এর বাইরে খোয়া যাওয়া অর্থ সমন্বয়ে খোলা বাজার থেকে বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সি কিনেছে বাইনান্স। নিজেদের অভ্যন্তরীণ রেকর্ড ও পাবলিক ব্লকচেইনে থাকা তথ্য ক্রিপ্টোগ্রাফিকভাবে যাচাই করে এসব পদক্ষেপের প্রমাণ প্রকাশ করেছে তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই ও স্বাধীন বিশ্লেষকদের দাবি, উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া ‘ট্রেডারট্রেটর’ নামের একটি হ্যাকার দল এই অপরাধ ঘটিয়েছে। দলটির বিরুদ্ধে এর আগেও বড় ধরনের ক্রিপ্টো চুরির ইতিহাস রয়েছে। প্রায়ই উত্তর কোরীয় হ্যাকারদের এমন আক্রমণের মুখে পড়ে বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মগুলো। এর আগে ২০২৪ সালে প্রায় ২৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার খুইয়ে পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় যেতে বাধ্য হয় ভারতীয় এক্সচেঞ্জ ওয়াজিরএক্স।

বাইনান্সের নিজস্ব সম্পদ থাকায় তারা বড় এই আর্থিক ধাক্কা সামাল দিতে পারলেও ঘটনাটি পুরো খাতের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ঐতিহ্যবাহী ব্যাংকিং খাতের মতো ক্রিপ্টো শিল্পে এখনো সরকারি আমানত বিমা বা কড়া তদারকির ঘাটতি রয়েছে। এদিকে সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান এলিপটিক ও চেইনঅ্যানালাইসিস পাবলিক ব্লকচেইনের গতিবিধি পর্যালোচনা করে জানিয়েছে, হ্যাকাররা স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে বিভিন্ন ওয়ালেটে অর্থ স্থানান্তর করছিল। উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে সারা রাত ধরে লেনদেনের গতিবিধি লক্ষ্য করা যায়। তবে এলিপটিকের গবেষক টম রবিনসন জানান, বড় অঙ্কের লেনদেনের আগে কিছু ছোট পরীক্ষামূলক লেনদেন চালানো হয়, যা কোনো মানুষের প্রত্যক্ষ সিদ্ধান্তের প্রমাণ দেয়।

আর্থিক ব্যবস্থার নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলেও বাইনান্স হামলায় প্রযুক্তিটির অপব্যবহারের সুস্পষ্ট কোনো প্রমাণ মেলেনি। তবে সাইবার সুরক্ষার বিদ্যমান দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে উঠতে এ ঘটনা একটি বড় সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.