মার্কিন নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়: বিশ্বনেতাদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রিপাবলিকান পার্টিকে বড় ধাক্কা দিয়ে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ—উভয় কক্ষেই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে বিরোধী ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে বুধবার বিশ্বজুড়ে নেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে এই রায়কে মার্কিন রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের লক্ষণ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে বেশ কয়েকটি দেশের নেতারা স্পষ্ট করেছেন, ওয়াশিংটনের ক্ষমতার পটপরিবর্তন তাদের দ্বিপাক্ষিক ও কৌশলগত অংশীদারত্বে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।

কংগ্রেসের এই নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনের পর ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্ক, ন্যাটো জোটের ভবিষ্যৎ, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ট্রাম্প প্রশাসনের মেয়াদের বাকি সময়ের পররাষ্ট্রনীতি কোন পথে এগোবে, তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু করেছে আন্তর্জাতিক মহল। ইউরোপের নিরাপত্তা নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের এ জয়কে ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ আখ্যা দিয়ে জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস বলেন, ‘ট্রান্সআটলান্টিক ঐক্য অটুট রাখতে হলে ন্যাটোকে আরও ইউরোপীয় হতে হবে।’ ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর না করে ইউরোপকে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি। অপরদিকে দেশটির উগ্র ডানপন্থি দল অলটারনেটিভ ফর জার্মানির (এএফডি) সহ-নেত্রী অ্যালিস ভাইডেল দাবি করেন, মার্কিন হস্তক্ষেপমূলক পররাষ্ট্রনীতি থেকে সরে আসার যে প্রতিশ্রুতি ট্রাম্প দিয়েছিলেন, তা রক্ষা করতে ব্যর্থ হওয়ার কারণেই রিপাবলিকানদের এই পরাজয় ঘটেছে।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ মার্কিন ভোটারদের এই রায়কে চরম ডানপন্থি রাজনীতি, লিঙ্গবৈষম্য, জলবায়ু পরিবর্তন অস্বীকার এবং সুবিধাভোগী অভিজাতদের প্রতি প্রকাশ্য অনাস্থা বলে অভিহিত করেন। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেসও স্পেনের সমাজতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য এটিকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে আজ গণতন্ত্র জয়ী হয়েছে। আমি গণতন্ত্র ভালোবাসি, এটি চমৎকার এক ব্যবস্থা।’ তবে তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে দেশ পরিচালনায় ঘনঘন ভেটো প্রয়োগ না করার পরামর্শ দেন। চেক প্রজাতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই বাবিস নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়কে স্বাভাবিক উল্লেখ করে সতর্ক করেন, এর ফলে ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও অভিশংসনের জটিলতা দেখা দিতে পারে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, হরমুজ প্রণালী সংকট ও ইউক্রেন যুদ্ধ নিরসনে ট্রাম্পের শান্তি উদ্যোগ বজায় থাকবে।
লন্ডন ও রোম অবশ্য নিজেদের অবস্থান অপরিবর্তিত রাখার বার্তা দিয়েছে। যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেমস ফ্রিথ মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতির এই পরিবর্তনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বললেও লন্ডনের সাথে তাদের দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কে কোনো আঁচ পড়বে না বলে মত দেন। ইতালির উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি জানান, ক্ষমতার পালাবদল যাই হোক না কেন, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের রায়কে সম্মান জানিয়ে ইতালি আগের মতোই তাদের কৌশলগত মিত্র হিসেবে কাজ করে যাবে। গ্রিসের মুখপাত্র পাভলোস মারিনাকিসও ওয়াশিংটনের সাথে দ্বিপাক্ষিক উন্নয়ন প্রকল্প ও সম্পর্ক অটুট থাকার কথা উল্লেখ করেন। নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গাহর স্টোরে জলবায়ু ও বৈশ্বিক উন্নয়ন নীতিতে মার্কিন নতুন নেতৃত্বের সাথে সমন্বয়ের সম্ভাবনা দেখছেন। তবে বেলজিয়ামের প্রতিরক্ষামন্ত্রী থিও ফ্রাঙ্কেন ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টেল শাল্ডেমোস মার্কিন অচলাবস্থার শঙ্কা প্রকাশ করে বাণিজ্য, ন্যাটো ও ইউক্রেন ইস্যুতে ইউরোপকে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। অন্যদিকে ফ্রান্সের অর্থনীতি ও অর্থমন্ত্রী রোল্যান্ড লেসকিউর বলেন, বৈশ্বিক পররাষ্ট্রনীতিতে ট্রাম্পের প্রভাব এখনো যথেষ্ট শক্তিশালী এবং তেলের দামসহ বিভিন্ন বিষয়ে তার পরবর্তী পদক্ষেপ ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
রাশিয়ার পক্ষ থেকে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানান, নির্বাচনের ফলের পরও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কূটনৈতিক সমাধানের পথেই হাঁটবেন বলে তারা আশা করছেন। তবে রুশ উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ জানান, মার্কিন নির্বাচন মস্কোর ইউক্রেন নীতিতে কোনো পরিবর্তন আনবে না। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এই ফলকে আমেরিকার সাধারণ মানুষের যুদ্ধবিরোধী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। এছাড়া দেশটির ডেপুটি স্পিকার আলী নিকজাদ জানান, তেহরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর না হওয়াই রিপাবলিকানদের পিছিয়ে পড়ার অন্যতম কারণ। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং এটিকে ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরীণ বিষয় উল্লেখ করে পারস্পরিক সমতার ভিত্তিতে কাজ করার ইচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সাথে পাকিস্তান ও তাইওয়ানও ওয়াশিংটনের সাথে তাদের বিদ্যমান নীতি বজায় রাখার বার্তা দিয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এ রায়কে বিশ্ব রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ বলে আশাবাদ জানান এবং মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শিনবাউম দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে সতর্ক অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি ক্যালিফোর্নিয়া ও টেক্সাসের গভর্নর পদে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের জয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.