বিজেপির শাসনে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের অভিযোগ সোনিয়ার
টানা এক যুগের শাসনামলে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামো মারাত্মকভাবে ধ্বংস করেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের নেত্রী সোনিয়া গান্ধী। এই সার্বিক ক্ষতির কারণে দেশটির সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে এবং জনগণ বর্তমানে সুশাসন ফিরিয়ে আনতে উন্মুখ হয়ে রয়েছে।

রাজনীতিতে কৌশলী সমঝোতার ক্ষেত্র তৈরি হলেও কংগ্রেস কখনো বিজেপি কিংবা রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সঙ্গে আদর্শগত কোনো আপস করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না বলে পরিষ্কার জানিয়ে দেন সোনিয়া গান্ধী। তিনি বলেন, আরএসএসের কাছ থেকে কংগ্রেসের নতুন করে শেখার মতো কিছুই নেই। নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক উত্তরণ সম্পর্কে তিনি মন্তব্য করেন, আরএসএসের অভ্যন্তরীণ কাঠামোয় প্রান্তিক পর্যায় থেকে শীর্ষ নেতৃত্বে পৌঁছাতে মোদিকে বেশ পরিশ্রম করতে হয়েছে। তবে ভিন্ন মতাদর্শ বজায় রেখেও রাজনীতিতে শীর্ষে পৌঁছানোর দৃষ্টান্ত রয়েছে উল্লেখ করে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং ও বর্তমান কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের নাম তুলে ধরেন।
আসন্ন স্মৃতিকথা ‘বিলংগিং: আ জার্নি অব লাভ’ প্রকাশের প্রাক্কালে ‘দ্য হিন্দু’ পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন এবং ভারতীয় রাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। আগামী ১০ নভেম্বর বিশ্বব্যাপী ৭৯ বছর বয়সি এই নেত্রীর বইটি প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে। সাক্ষাৎকারে সোনিয়া গান্ধী অভিযোগ করেন, ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিজেপি নির্বাচন কমিশন, মূলধারার গণমাধ্যম, বিপুল অর্থবল এবং ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানিয়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে। এর ফলে নির্বাচনে বিরোধী দলগুলো সমান সুযোগ পাচ্ছে না। তবে সব প্রতিকূলতার মাঝেও তৃণমূলের কংগ্রেস নেতা-কর্মীরা সংবিধান ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সুরক্ষায় লড়াই করে যাচ্ছেন। বর্তমান সরকার ক্ষমতা থেকে বিদায় নেওয়ার পরও এই ভঙ্গুর প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে দীর্ঘ সময় এবং রাজনৈতিক দলগুলোর ব্যাপক উদ্যোগের প্রয়োজন হবে বলে তিনি মনে করেন।
এদিকে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে পুনরায় ব্যালট পেপারে ভোট গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছে কংগ্রেস। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অধীনে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশি ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন। এর আগে জুলাই মাসে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের তীব্র বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।
সোনিয়া গান্ধীর এসব সমালোচনার বিপরীতে অতীতের নানা প্রসঙ্গ টেনে আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি। ভারতের কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার কথা উল্লেখ করে দাবি করেন, সেই সময় বিরোধীদের কারারুদ্ধ করে এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে গণতন্ত্রের মূল ক্ষতিটি করেছিল কংগ্রেস। নরেন্দ্র মোদির শাসনামলে ভারত বিশ্বে ‘গণতন্ত্রের জননী’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে বলেও তিনি দাবি জানান। একই সঙ্গে দেশটির কেন্দ্রীয় বস্ত্রমন্ত্রী গিরিরাজ সিং বলেন, ভারতের নয়টি রাজ্যে গত চার দশক ধরে কংগ্রেস ক্ষমতার বাইরে রয়েছে। তবে জরুরি অবস্থার প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে সোনিয়া গান্ধী জানান, সরকারি দপ্তর ও গণপরিবহনে অগ্নিসংযোগসহ আইন অমান্যের ডাক দিয়ে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা দমন করতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয়েছিল। পরবর্তীতে পরিস্থিতি অনুধাবন করে ইন্দিরা গান্ধী নিজেই ১৯৭৭ সালের মার্চে সাধারণ নির্বাচনের ডাক দেন এবং ওই সময়ের অনাকাঙ্ক্ষিত কঠোরতার জন্য দেশবাসীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.