আপনি পড়ছেন

থাইল্যান্ডের বিপক্ষে জিততে জিততে ড্র করেছে বাংলাদেশ (১-১)। সেই আক্ষেপটা গ্রুপপর্বের পরের ম্যাচেই ঘুচিয়েছিলো। প্রথমবারের মতো এশিয়ার পরাশক্তি কাতারকে হারিয়ে দেয় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। পরবর্তী বিশ্বকাপের স্বাগতিক দেশকে হারিয়ে রীতিমতো ইতিহাসই গড়েছিল বাংলাদেশ।

logo of bangladesh football federation

১-০ গোলের ওই জয়ের ওপর দাঁড়িয়ে প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমস ফুটবলের নক আউট পর্বে উঠে বাংলাদেশ। শেষ ষোলোতে শক্তিশালী প্রতিপক্ষই পায় তারা। তবে কোয়ার্টার ফাইনালে যেতে হলে ডিঙাতে হতো গত আসরের রানার্সআপ উত্তর কোরিয়ার বাধা।

কোরিয়া প্রাচীর টপকানোটা প্রায় অসম্ভবই ছিল। তবু কাতারের বিপক্ষে প্রাপ্ত জয়ের আত্মবিশ্বাস স্বপ্ন দেখাচ্ছিল জেমি ডের দলকে। কিন্তু স্বপ্নটা আর বাস্তব হয়ে ধরা দেয়নি বাংলাদেশের কাছে। স্বাভাবিকভাবেই এশিয়ার জায়ান্ট দলটির কাছে ডের শিষ্যরা হেরে গেছেন ৩-১ গোলে। তাতেই থামল বাংলাদেশের রূপকথার যাত্রা।

এই হারে কার্যত প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে গেল বাংলাদেশ। তবে বাংলাদেশের এমন বিদায়েও আছে গৌরব। উত্তর কোরিয়ার মতো প্রতিপক্ষের জালে বল জড়ানোটা বাংলাদেশের কাছে অনেকটা স্বপ্নের মতোই। আজ শুক্রবার সাদউদ্দিন বাংলাদেশকে এমনই এক মধুর ক্ষণ এনে দিয়েছেন।

অবশ্য বাংলাদেশ ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছে প্রথমার্ধেই; হজম করে দুইটি গোল। মূলত স্নায়ুচাপেই গোল দুটি খেয়ে বসে বাংলাদেশ। পাসিং, প্লেসিং কিংবা আক্রমণ কোনোকিছুতেই কোরিয়ার সঙ্গে পেরে ওঠেনি ডের শিষ্যরা। আসলে কাতার ম্যাচের বাংলাদেশকে এদিন দেখা যায়নি কোরিয়ার বিপক্ষে।

ম্যাচের ১৩ মিনিটে ডি-বক্সে হ্যান্ডবল করেন সুশান্ত। কোরিয়ার পক্ষে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। স্পট কিক থেকে বাংলাদেশের জালে বল জড়ান কোরিয়ান স্ট্রাইকার কিম ইউ সং। ৩৮ মিনিটে বাংলাদেশের রক্ষণকে ঘোল খাইয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সেই ইউ সং-ই।

ম্যাচের ৬৮ মিনিটে তৃতীয় গোল হজম করে বাংলাদেশ। স্কোর লাইন ৩-০ করেন ক্যাং কুক চোল। ম্যাচটা শূন্যহাতেই শেষ করতে চলেছিল দল। অপেক্ষা ছিল শেষ বাঁশির। তখনই বাংলাদেশকে উল্লাসের উপলক্ষ্য এনে দেন সাদ।

বেঞ্চ ছেড়ে উঠে আসা ফরওয়ার্ড রবিউল ইসলামের থ্রু থেকে ডি-বক্সে জটলার মধ্যে থেকে শট নিয়ে কোরিয়ার জালে বল জড়ান সাদ। তাতে অবশ্য দলের বিদায় ঠেকানো যায়নি। তবে বিদায়ের দুঃস্মৃতিতে সান্ত্বনার প্রলেপ উপহার পেয়ে গেছে বাংলাদেশ।