আপনি পড়ছেন

বিদ্যুৎ বিল নিয়ে হাপিত্যেশ নেই বাসাবাড়ির এমন মালিক খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। কারণ, মাস ঘুরতেই বাড়ছে বিদ্যুৎ বিল। ব্যবহারের কারণে বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সঞ্চালন ব্যয় বৃদ্ধির অজুহাতে সরকারও দফায় দফায় বাড়িয়ে থাকে বিদ্যুতের দাম।

ways to reduce power bill inner

তবে নিজেদের কিছু উদ্যোগে আবাসিক পর্যায়ে কমানো যায় বিদ্যুতের মাত্রাতিরিক্ত বিল। বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনই সাতটি উপায় বলেছেন ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড-ডিপিডিসি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মহসিন আবদুল্লাহ।

সুইচ বন্ধ রাখা: টিভি, কম্পিউটার ব্যবহার না করলে সব সময় এগুলোর মূল সুইচ বন্ধ করে রাখা উচিত। ফ্যান, লাইট- এগুলো মাল্টিপ্লাগের সঙ্গে যুক্ত থাকলে মূল সুইচ বন্ধ রাখতে হবে। মেশিন বা ইস্ত্রি ব্যবহার না করলে প্লাগ খুলে রাখা উচিত।

অনেক সময় বাথরুম বা বারান্দার বাতি জ্বলে থাকে। সেটি যাতে না হয়, তা খেয়াল রাখা উচিত। বিশেষ করে বাথরুমের দরজা অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকায় আর দিনের আলোর কারণে বারান্দায় বাতি জ্বলতে থাকলেও টের পাওয়া যায় না। তাই সচেতন থাকলে বিদ্যুৎ বিল বেশ খানিকটা কমে আসবে।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ব্যবহার: প্রচলিত বাতির তুলনায় এনার্জি বাল্ব বা এলইডি বাতি ব্যবহার করলে বিদ্যুতের বিল অনেক কমে আসবে। যেখানে প্রচলিত একটি বাতি একশ’ ওয়াট ব্যবহার করে, সেখানে একটি এনার্জি বাতি ব্যবহার করে মাত্র ২৫ ওয়াট। বাতির ক্রয় মূল্য বেশি হলেও এগুলো দীর্ঘদিন সেবা দেয় এবং বিলের হিসাবে অনেক বেশি সাশ্রয়ী।

এছাড়াও বর্তমানে ইনভার্টারযুক্ত ফ্রিজ, এসি ও ওয়াশিং মেশিন পাওয়া যায়। এসব যন্ত্রপাতি ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ বিল দুই-তৃতীয়াংশ কমিয়ে আনা সম্ভব।

এসির নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার: বাসাবাড়িতে এসি ব্যবহার বেড়েছে। নিয়ন্ত্রিতভাবে এসি ব্যবহার করা গেলে এর বিল কমিয়ে আনা সম্ভব। এসির তাপমাত্রা সবসময় ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখতে হবে। নির্দিষ্ট মাত্রায় ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার পর এসি বন্ধ করে ফ্যান চালানো যেতে পারে। এছাড়া রাতে টাইমার দিয়ে রাখা যেতে পারে যাতে নির্দিষ্ট মাত্রায় ঠান্ডা হওয়ার পর এসি আপনা আপনি বন্ধ হয়ে যায়।

ways to reduce power bill inner 2

মানসম্মত তার ব্যবহার: বিদ্যুতের সংযোগ ও তারের ওপর বিদ্যুতের বিল অনেক সময় নির্ভর করে। খারাপ মানের তার হলে এবং সংযোগ দুর্বল বা নড়বড়ে হলে সেটি লো ভোল্টেজের সৃষ্টি করে। এতে বেড়ে যেতে পারে আপনার বিদ্যুৎ বিল।

বহুতল ভবনের সাব-স্টেশন পুরাতন হলে সেটি বেশি বিলের কারণ হতে পারে। বছরে অন্তত একবার এসব যন্ত্রপাতি পরীক্ষা করতে হবে। বাসার এসি ও ফ্রিজের ফিল্টার নিয়মিত সময় পরপর পরিষ্কার করানো হলে সেটি কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করবে।

বিকল্প যন্ত্রপাতির ব্যবহার: বাসায় রান্না করা বা খাবার গরম করার ক্ষেত্রে মাইক্রো ওভেন ব্যবহার না করে চুলা ব্যবহার করা যেতে পারে। স্লো কুকার বা টোস্টার ব্যবহার করা যায়।

মাইক্রো ওভেনে ডিফ্রস্ট না করে পানিতে রেখে খাবারের বরফ ছাড়িয়ে নেয়া যেতে পারে। এছাড়া ওয়াশিং মেশিনে গরম পানির সেটিং ব্যবহার না করলে বিদ্যুৎ বিল নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

বিদ্যুৎ ব্যবহারে সীমিত ধাপে থাকা: বিদ্যুতের ব্যবহার অনুযায়ী একেকটি ধাপে একেক রকম বিল আসে। যেমন ডিপিডিসি বা ডেসকোর ট্যারিফ অনুসারে, কারো যদি বিদ্যুতের ব্যবহার ৭৫ ইউনিটের মধ্যে সীমিত থাকে, তাহলে বিল আসবে প্রতি ইউনিট ৪ টাকা হারে। কিন্তু ৭৬ থেকে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিল আসবে ৪.৪৫ টাকা হারে। এভাবে কয়েক ধাপে ৬০১ ইউনিটের বেশি হলে ইউনিট প্রতি বিল হবে ১০.৭০ টাকা।

তাই বিদ্যুতের ব্যবহার কম ধাপের মধ্যে সীমিত রাখার চেষ্টা করুন। তাহলে আপনার বিদ্যুৎ বিলও কম আসবে।

প্রাকৃতিক শক্তির ব্যবহার: এখন বহুতল ভবনে সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থাগুলো। বিদ্যুতের ঘাটতি থাকলে কিংবা বেশি লোডশেডিং হলে সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারেন।

এছাড়া দিনের বেলায় ঘরের ভেতর বাতি না জ্বালিয়ে সূর্যের আলোর সুবিধা নেয়ার প্রবণতা তৈরি করা ভালো। এটি বাসাবাড়ির বিদ্যুতের ব্যবহার অনেকটা কমিয়ে দিতে পারে। এতে কমবে আপনার বিদ্যুৎ বিলও।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর