কেরালা থেকে শিক্ষা নিতে পারে বাংলাদেশ
- Details
- by আন্তর্জাতিক ডেস্ক
খুব বেশি দূরের তো নয়, চাইলে বাংলাদেশ উঁকি দিয়ে দেখতে পারে, বাড়ির পাশের কেরালা কীভাবে শক্ত হাতে মোকাবেলা করছে করোনাভাইরাস। সারা বিশ্বে সাড়া ফেলে দিয়েছে ‘কেরালা মডেল’, যে পদ্ধতিতে তারা টুটি চেপে ধরেছে করোনার। ভারতের এই রাজ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী যে নেই, তা নয়। তবে তারা সেটাকে ঠেকিয়ে রাখতে পেরেছে সফলভাবে।

কেরালায় এই মুহূর্তে আক্রান্ত রোগী ৩৭৬ জন। যার মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ১২৩ জন। মৃত্যুবরণ করেছেন মাত্র ৩ জন, তাও আবার ১০০ দিনে। পুরো ভারতের মধ্যে একদম শুরুর দিকে করোনা শনাক্ত হয়েছিল কেরালায়, কিন্তু তারা এখনও এটিকে ৪০০ ছুঁতে দেয়নি। সবশেষ তিনদিনে সেখানে আক্রান্ত হয়েছেন মাত্র ২৮ জন।
চলুন জেনে নিই, করোনা ঠেকাতে সফল হওয়া ‘কেরালা মডেলে’ কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল?
শারীরিক দূরত্ব কিন্তু সামাজিক সংহতি
বাকি বিশ্বের মতো তারা ‘সামাজিক দূরত্ব’ কথাটি বলছে না। করোনাভাইরাস ঠেকাতে কেরালায় বলা হচ্ছে ‘শারীরিক দূরত্ব কিন্তু সামাজিক সংহতি’। তাদের ভাষ্য, সামাজিক দূরত্ব- এই কথার মাধ্যমে নাগরিকের কাছে বার্তাটি পরিষ্কারভাবে পৌঁছানো সম্ভব নয়। তাই তারা শারীরিক দূরত্বের কথা বলছেন। ‘শারীরিক দূরত্ব কিন্তু সামাজিক সংহতি’ শ্লোগানই যেন এই মহামারির বিরুদ্ধে তাদের আন্দোলনকে আরো জোরালো করে।
শুরুতেই শক্ত অবস্থান
জেনে অবাক হবেন, কেরালায় করোনা প্রতিরোধে জাতীয় সমন্বয় কমিটি হয়েছে গত ২৬ জানুয়ারি, যখন অনেক দেশ হয়তো করোনাভাইরাস সম্পর্কে জানেও না! ৯টি দেশের বাসিন্দাদেরকে কেরালার বিমানবন্দরে নামলেই বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হতো। ভারতের অন্যত্র এই নিয়ম চালু করা হল কেরালার দুই সপ্তাহ পরে। তারপর বিমানবন্দরগুলোও তারা বন্ধ করে দেয় সবার আগে।
আগ্রাসী হারে পরীক্ষা
রাজ্যটি আগ্রাসী হারে নমুনা পরীক্ষা করেছে। ১০ হাজার টেস্ট পূর্ণ করেছে বেশ কয়েকদিন আগেই। রাজ্যের জনসংখ্যা অনুযায়ী, এই সংখ্যা প্রতি ১০ লাখে ৩০০। নমুনা পরীক্ষার এই হার ভারতের মধ্যে সর্বোচ্চ। যারা শনাক্ত হচ্ছেন তাদেরকে সম্পূর্ণ আলাদা করা হচ্ছে মুহূর্তেই। এছাড়া আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসার কারণে ইতোমধ্যে আইসোলেশনে পাঠানো হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষকে।

রান্না করা খাবার সরবরাহ
না, হট্টগোল বাঁধিয়ে ত্রাণ বিতরণ নয়, যারা কোয়ারেন্টাইন কিংবা আইসোলেশনে আছেন তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে রান্না করা খাবার। এছাড়া রাজ্যের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৫ শতাংশের (৮৭ লাখ পরিবার) কাছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের একটি প্যাকেট পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। যেনতেন নয়, প্যাকেটে থাকছে ১৪ পদের পণ্য। এই পণ্য কোনোভাবেই তারা মানুষকে কোথাও জড়ো করে দিচ্ছে না বরং রাষ্ট্রের প্রতিনিধি পৌঁছে যাচ্ছেন বাসায়।
এগিয়ে এসেছে রাজনৈতিক দল
‘রাজনীতি’ তো দূরের কথা, কেরালার রাজনৈতিক দলগুলো কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে এসেছে করোনা মোকাবেলায়। মানুষের বাড়িতে খাবার পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে রীতিমতো প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েছে দলগুলো। পণ্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য আগে থেকেই ঘোষণা দিয়ে এলাকা ভাগ করে রাখা হচ্ছে।
পরিস্থিতি যখন এমন, তখন কীভাবে সেখানে জয়ী হবে করোনাভাইরাস?
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর