আপনি পড়ছেন

করোনাভাইরাস মহামারিতে জর্জরিত ২০২০ সালটা আমাদের জীবনকে নানাভাবে প্রভাবিত করেছে। চাকরি হারানো, বাড়িতে বন্দি থাকা, অর্থনৈতিক দৈন্য, সামাজিক দূরত্ববিধিসহ নানা দিকে আমাদের জীবন ধাক্কা খেয়েছে। এই তালিকা থেকে বাদ নয় আমাদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের পরিধিও। সুতরাং নতুন বছরে ব্যক্তিগত সম্পর্কগুলোর প্রতি আমাদের আরো যত্নবান হওয়া উচিত।

how you can be more attractive to your partner

কিন্তু কিভাবে আমরা নতুন বছরে আমাদের সম্পর্কের নদীটাকে আরো প্রাণবন্ত করতে পারি? জীবনের অনেক কিছুর উপর আমাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। কিন্তু সম্পর্কগুলোকে সামান্য যত্নেই আমরা সুন্দর করতে পারি। এই লেখায় দৃষ্টিপাত করা হচ্ছে সে দিকেই।

সঙ্গীকে জিজ্ঞেস করুন আপনি ঠিক কী করলে তার কাছে খুব ভালো লাগবে

সঙ্গীর মন বোঝার চেষ্টা করুন— যা আসলে সব সময়ই করা উচিত। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রতিটি মানুষের এমন কিছু বিষয় থাকে যা তিনি তার সঙ্গীকে করতে দেখতে চান। সুতরাং সঙ্গীকে সরাসরি এটি জিজ্ঞেস করুন যে আপনি কী করলে তার কাছে খুব ভালো লাগে। যেমন আপনার সঙ্গী হয়তো আপনার নির্দিষ্ট একটি বা দুটি কাজ খুব পছন্দ করে, সেটা হতে পারে থালাবাটি ধোয়ার সময় তাকে সহায়তা করা কিংবা মশারি টানানোর সময় তাকে সাহায্য করা; বা এ রকম কিছু। সঙ্গীকে যখন আপনি জিজ্ঞেস করবেন কী করলে তার ভালো লাগবে, সঙ্গে সঙ্গে খেয়াল করবেন সম্পর্কটা কেমন উষ্ণ হয়ে ওঠে!

সঙ্গীর পছন্দের কাজটি করে ফেলুন

ধরুন সঙ্গীকে জিজ্ঞেস করলেন— আপনার কোন কাজ তার ভালো লাগে এবং সঙ্গী আপনাকে বললো ও আপনি চুপ করে বসে থাকলেন! ভুলেও এমন করবেন না; বরং সঙ্গী যে কাজকে ভালো বলেছে, তা করে ফেলুন। যেমন ধরুন— আপনার গানের গলা মোটেই ভালো নয়। কিন্তু আপনার সঙ্গী আপনাকে গাইতে দেখতে ভালোবাসে। সুর বা তালের তোয়াক্কাই সে করে না। তারপরও আপনি লজ্জায় গাইতে চান না। কিন্তু সঙ্গী যদি চায়, তাহলে ভুলেও চুপ করে থাকবেন না। গলা যতোই হেরে হোক, গেয়ে ফেলুন একটা গান!

সেই কাজটিই করুন যা আপনি আপনার সঙ্গীকে বলেছেন

ধরুন বিকেলে আপনার সঙ্গীর সাথে কোথাও বেড়াতে যাওয়ার কথা কিংবা বাসায় মুভি দেখার কথা। ঠিক এই মুহূর্তে চলে এলো আপনার প্রিয় বান্ধবীর ফোন— তিনি তার বাচ্চাকে নিয়ে হাসপাতালে যাবেন বা অন্য যে কোনো কাজে তার আপনার সাহায্য দরকার। এই সময় কী করবেন? সারা দিন অফিস করে ক্লান্ত সঙ্গীকে সময় দিতে বান্ধবীকে না করে দিবেন, নাকি সঙ্গীকে স্যরি বলে বাইরে বেরিয়ে পড়বেন? এই সিদ্ধান্ত আপনার। কিন্তু যা-ই করুন না কেনো, সঙ্গীকে বলে করুন। সঙ্গীকে যদি বলেন যে, বান্ধবীকে হেল্প করা দরকার, তাহলে কোনোই ক্ষতি হবে না। সঙ্গী কী ভাবতে পারে, এটা ভেবে অন্য কিছু বলা অনুচিত।

নিজের জন্য কিছু সময় আলাদা করে রাখুন

হ্যা, নিজের যত্ন নেওয়া মানেও সঙ্গীরই যত্ন নেওয়া। আপনি যদি নিজেকে যথেষ্ট সময় না দিতে পারেন, মেজাজ এমনিতেই খিটখিটে থাকবে এবং তখন স্বাভাবিকভাবেই সঙ্গীর সঙ্গে আপনার স্বাভাবিক আচরণ ব্যহত হবে। সুতরাং নিজেকে সময় দিন। সেটা হতে পারে প্রিয় বইটা শেষ করা, নতুন সিরিয়ালের নতুন পর্বটা শেষ করা বা পছন্দের অন্য কোনো কাজ করা। আপনি যদি ভেতরে ভেতরে কোনো কিছু করার তাড়নায় ভুগে সঙ্গীর সাথে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করেন, তাহলে সেটি পারবেন না। উল্টো সঙ্গীর সামনে আপনি অস্বাভাবিক হয়ে যাবেন।

ছোট ছোট বিষয়গুলো এড়িয়ে চলুন

মহামারীর সময়ে দীর্ঘদিন এক সঙ্গে থাকা সহজ কথা ছিলো না। মহামারি পরিস্থিতি এখন অতোটা জটিল নয়। তারপরও হোম অফিসের কারণে অনেক যুগলকেই সপ্তাহে সাত দিন ২৪ ঘণ্টা এক সঙ্গে থাকতে হচ্ছে। এই এক সঙ্গে থাকতে গিয়ে লেগে যাচ্ছে না না রকম ঝামেলা। হয়তো আপনার সঙ্গী রান্না ঘরের সব ড্রয়ার খুলে রেখেছে, কিংবা ওয়্যারড্রোবের তোয়ালেটা চেয়ারের উপর রেখেছে বা ফোনে অন্য বন্ধুর সঙ্গে একটু জোরেই কথা বলেছে; এ সব নিয়ে ঝামেলা পাকিয়ে ফেলবেন না। আমাদের সবারই মনে রাখা উচিত— সম্পর্কগুলো এই সব ছোট ছোট বিষয়ের তুলনায় অনেক অনেক বড় ও মহৎ। সুতরাং ধৈর্যশীলতা চর্চা করুন।

টিভিটা বন্ধ রাখুন ও ফোনটাও দূরে রাখুন

প্রতিদিন সন্ধ্যায় নেটফ্লিক্স দেখা নিশ্চয় আপনার অভ্যাস হয়ে গেছে। না, এই অভ্যাসে খারাপ কিছু হয়তো নেই। কিন্তু সারাক্ষণ নেটফ্লিক্সে পড়ে থাকা বা সারাক্ষণ ফোনের স্ক্রিণে চোখ দুটি আটকে রাখা মোটেই ভালো কথা নয়। এই রকম কিছু বরং আপনার সঙ্গীর জন্য খুবই বিরক্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে। সন্ধ্যায় প্রতিদিন হয়তো আপনার সঙ্গী রান্নাবান্না নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। এই সময়ে আপনি চাইলে তার সঙ্গে গল্প করতে করতে তার কাজে সহায়তা করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে নিজের কাজের রুটিনটি একটু এগিয়ে বা পিছিয়ে দিতে পারেন। সুতরাং সঙ্গীকে সময় দিতে টিভি বা ফোন থেকে সামান্য সময় দূরে থাকাও অনেক বড় কাজ।

বেশি বেশি শোনার চেষ্টা করুন

স্বীকার করে নিন যে যখন আপনার সঙ্গী আপনাকে কিছু বলে, আপনার মন তখন ব্যস্ত থাকে কাজের ভাবনায়। হ্যা, আপনি হয়তো আপনার সঙ্গীর দিকেই মনোযোগ দিয়ে আছেন, কিন্তু আপনার মন পড়ে আছে অফিসের আগামীকালের কাজের দিকে। এমন পরিস্থিতি সবারই হয়। কিন্তু আপনি যদি নিয়মিত শোনার অভ্যাস করেন, তাহলে এই পরিস্থিতি হবে না। সঙ্গীর কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা মানে এটা নয় যে আপনার অফিসের কাজ থমকে যাবে। বরং সম্পর্কে শ্রদ্ধা করার মূল শর্তগুলো একটি হলো সঙ্গীকে মনোযোগ দিয়ে শোনা।

বেশি বেশি ধন্যবাদ বলুন

খুব কাছের মানুষকে আসলে ধন্যবাদ বলাটা আমাদের সমাজে প্রচলিত ব্যাপার নয়। এখানে ধন্যবাদ বলা বরং কেমন যেনো অচেনার মতো আচরণ করা। সমাজের এই সত্যকে স্বীকার করে আপনি ঠিক ধন্যবাদ বলার ব্যাপারটা এড়িয়ে যেতে পারেন। কিন্তু ধন্যবাদ বলার যে আসল উদ্দেশ্য— কৃতজ্ঞতা স্বীকার করা; সেটি কোনো না কোনোভাবে করুন। আমাদের সবার জীবনেই সঙ্গীর অংশগ্রহণ সবচেয়ে বেশি। সুতরাং তার কাছে কৃতজ্ঞতাও আমাদের অসীম। সেটি স্বীকার করতে নিশ্চয়ই কোনো অসুবিধা নেই।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর