advertisement
আপনি দেখছেন

বিশ্বব্যাপী নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার পর গত মার্চ থেকেই বাসায় বসে কাজ করছেন জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগামাধ্যম টুইটারের কর্মীরা। তাদের এই 'ওয়ার্ক ফ্রম হোম' এতটাই কার্যকর হয়েছে যে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও আজীবন বাসায় বসেই কাজ করার সুযোগ পাবেন কর্মীরা। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জ্যাক ডরসি কর্মীদের পাঠানো এক ই-মেইলে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

twitter ceo jack dorseyjpgটুইটারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জ্যাক ডরসি

বুধবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালির্ফোনিয়া অঙ্গরাজ্যের সান ফ্রান্সিসকোতে অবস্থিত টুইটার সদরদপ্তরের প্রায় ৫ হাজার কর্মী বাসায় বসে থেকে কাজ করছেন। এতে কর্মীদের কাজের গতি আরো বেড়েছে এবং তার সফলভাবেই তাদের কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটির সিইও কর্মীদের আজীবন বাসায় থেকে কাজ করার সুযোগ দিচ্ছেন।

সংবাদমাধ্যমটি আরো জানায়, জ্যাক ডরসির এ সিদ্ধান্ত কর্মক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে। ভবিষ্যতে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও কর্মীদের বাসায় কাজ করার ব্যাপারে আগ্রহী হতে পারে। এতে অফিসে বসেই কাজ করার সনাতন ধারণা থেকে অনেক প্রতিষ্ঠানই বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

জ্যাক ডরসি সম্প্রতি ই-মেইলের মাধ্যমে কর্মীদের জানান, গত কয়েক মাসের কাজের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, বাসায় বসেই সবাই ভালোভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারছে। তাই করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর কোনো কর্মী চাইলে এরপরও বাসায় বসে কাজ করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সবাইকে সুযোগ দেওয়া হবে।

প্রতিষ্ঠানটির ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেনিফার ক্রিস্টি এক টুইটে জানান, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর তারাই প্রথম কর্মীদের বাসায় বসে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছেন। তবে ফের কর্মীদের অফিসে এসে কাজ করার ব্যাপারে তারা সবার পেছনে থাকতে চান।

উল্লেখ্য, সিঙ্গাপুর, লন্ডন ও নয়াদিল্লিসহ সারাবিশ্বে মোট ৩৫টি কার্যালয় আছে টুইটারের। যেখানে কাজ করেন হাজার হাজার কর্মী।

এদিকে, বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের কারণে চলতি বছর পুরোটাই কর্মীদের বাসায় থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে ফেসবুক, গুগলসহ বহু প্রতিষ্ঠান।