advertisement
আপনি দেখছেন

অধিনায়ক হিসেবে একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত, পরপর দুই ম্যাচে বিশাল দুটি হার এবং এর ফলে সৃষ্টি হওয়া তুমুল বিতর্ক, ঘৃণা এবং স্বয়ং বোর্ড প্রধান কর্তৃক ভর্ৎসনা; মুশফিকুর রহিমের দিনগুলো হয়ে উঠেছিলো চরম হতাশার। নানা দিক থেকে আসা এরপর এক চাপে যখন তার ভেঙে চুরমার হয়ে যাওয়ার কথা, মুশফিক তখন দাঁড়িয়ে গেলেন দারুণ দৃঢ়তায়। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে করে ফেললেন দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি। যা বাংলাদেশি দর্শকদের তো বটেই, ক্রিকেট বিশ্লেষকদেরও মনে থাকবে বহুদিন।

mushfiq after hitting ton against south africa as first bangladeshi

মাঠে বা মাঠের বাইরে, মুশফিক আসলে আবেগপ্রবণ হিসেবে সুপরিচিত। খুব কম সময়ই তাকে আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেখা গেছে। ভারতের বিপক্ষে গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে রান চেজ করার সময় থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের প্রেস কনফারেন্স; সব জায়গায় মুশফিককে দেখা গেছে আবেগে নিয়ন্ত্রণ হারাতে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে প্রেস কনফারেন্সে সতীর্থ বোলারদের ধুয়ে দেয়ার পাশাপাশি তিনি অভিযোগের তীর তুলেছেন টিম ম্যানেজমেন্টের দিকেও। সব মিলিয়ে মুশফিক নানা কারণে হয়ে পড়েছিলেন বেসামাল।

ঠিক এমন সময়ে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে, রোববার মুশফিক ব্যাট হাতে যে খেলাটা খেললেন, তাতে মুশফিককে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ-শান্ত এবং একই সঙ্গে একজন দুর্দান্ত ব্যাটসম্যান ছাড়া আর কিছুই ভাবার সুযোগ নেই। যে কিছু প্রমাণের জন্যই যেনো মাঠে নেমেছিলেন। এই মুশফিক যেনো ছিলের তার অন্য একটা সংস্করণ।

টেস্ট সিরিজে সকরুণ ব্যর্থতা, বিতর্কিত অধিনায়কত্ব এবং আরো নানা কারণে মুশফিক যেভাবে সমালোচকদের এক ও একমাত্র লক্ষ্যে পরিণত হয়েছিলেন, যেভাবে তিনি বোর্ড প্রধানের কাছ থেকেও পেয়েছিলেন ‘সে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে’-এর মতো ‘স্বীকৃতি’; তাতে দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া মুশফিকের দেয়ার ছিলো অনেক জবাব।

সেই জবাব দেয়ার জন্য তিনি বেছে নিয়েছিলেন ২২ গজকেই। সব রকম বিতর্ক ও চাপ মাথায় মুশফিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাঠে নেন ১৪তম ওভারে। সে সময় তার প্রতিপক্ষ কেবল কাগিসো রাবাদা বা ইমরান তাহিররাই ছিলেন না; বরং নিজের উপরে নেমে আসা নানামাত্রিক চাপও ছিলো অদৃশ্য প্রতিপক্ষ।

মুশফিক সব প্রতিপক্ষকেই যে দারুণ দৃঢ়তায় জয় করে গেছেন, তাতে তার সমালোচকরা পরিণত হয়েছেন তার ভক্তে; এ কথা বলে দেয়া নিশ্চিতভাবেই। এই রকম অসীম চাপে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে মুশফিকের এই সেঞ্চুরির মতো ইনিংস খেলতে পারেননি কেউই।

মুশফিকের অসাধারণ নেই সেঞ্চুরিতে ভর করেই বাংলাদেশ তুলে ২৭৮ রান, যা প্রোটিয়াদের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ওয়ানডে স্কোরের নতুন রেকর্ড। একই সঙ্গে মুশফিকের সেঞ্চুরিটি হলো প্রোটিয়াদের বিপক্ষে যে কোনো ফরম্যাটে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানের প্রথম সেঞ্চুরি।

মুশফিকের এমন লড়াইয়ের দুর্দান্ত গল্পটা যদিও ম্লান হয়ে গেছে হাশিম আমলা ও কুইনটন ডি ককের দারুণ দুটি ইনিংসে ভর করে, তারপরও মুশফিকের সেঞ্চুরিটি সহজে ভুলছেন না ক্রিকেট সমর্থকরা। তার এই সেঞ্চুরিটি ভবিষ্যতে অনুপ্রেরণা জুগাবে অনেক তরুণ ব্যাটসম্যানকে।

ফার্স্টপোস্ট অবলম্বনে। মূল লেখাটি লিখেছেন সন্দীপন ব্যানার্জী