advertisement
আপনি দেখছেন

বল হাতে আলো ছড়ালেন। ব্যাট হাতেও শেষ দিকে করলেন দুর্দান্ত পারফর্ম। অলরাউন্ডিং নৈপুণ্যে কলকাতা নাইট রাইডার্সের জয়ের শেষের নায়কবনে গেলেন সাকিব আল হাসান। আজ সোমবার রাতে শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুকে ছয় উইকেটে হারিয়ে ফাইনালে পথে এগিয়ে গেল কলকাতা।

shakib morgan kkr 2021

জয়ের ভিতটা গড়ে দিয়েছেন বোলাররা। পরে টপ অর্ডারের দৃঢ়তা ও সুনিল নারাইন তাণ্ডবে সহজ জয়ের পথেই ছিল কলকাতা। কিন্তু এক ওভারে জোড়া উইকেট নিয়ে ম্যাচটা জমিয়ে তোলেন ব্যাঙ্গালুরু পেসার হার্শেল প্যাটেল। চাপে পড়ে যায় কলকাতা। সেই চাপ থেকে দলকে উদ্ধার করে সাকিব হয়ে গেলেন জয়ের পার্শ্বনায়ক।

এলিমিনেটর ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে ঝড়ো ব্যাটিং শুরু করে ব্যাঙ্গালুরু। পরে সাকিবদের আঁটসাঁট বোলিংয়ে নির্ধারিত ওভারে সাত উইকেটে ১৩৮ রান তোলে কোহলির দল। জবাবে দুই বল বাকি থাকতে নাটকীয় জয় তুলে নেয় কলকাতা। বুধবার একই ভেন্যুতে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে দিল্লি ক্যাপিটালসের মুখোমুখি হবেন সাকিবরা। রোববার প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে চেন্নাইর কাছে হেরেছিল দিল্লি।

kkr vs bangalore 2021

ব্যাট করতে নামা ব্যাঙ্গালুরু শুরুর পাঁচ ওভারে বিনা উইকেটে ৪৯ রান করে। এরপর দারুণ বোলিংয়ে ম্যাচে ফিরে আসে কলকাতা। দলকে কক্ষপথে ফেরান সুনিল নারাইন; ঘূর্ণি জাদুতে ধস নামান ব্যাঙ্গালুরুর টপ অর্ডারে। সেই ঝড়ে বিদায় নেন দেবদূত পাডিক্কাল (২১), শ্রীকর ভারত (৯), বিরাট কোহলি (৩৯) ও এবি ডি ভিলিয়ার্স (১১)।

এদের মধ্যে কেবল প্রথমজনের উইকেটটা পাননি নারাইন। পাডিক্কালকে ফেরান লোকি ফার্গুসন। ১৫ রান করা গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে আউট করেন ক্যারিবীয় স্পিনার নারাইন। পরে ১৩ রান করা শাহবাজকে ফেরান ফার্গুসন। চার ওভারে ২১ রান দিয়ে চার উইকেট নেওয়া নারাইন ম্যাচ সেরা। বাকি তিন বোলার অবশ্য উইকেট পাননি। তবে দুজন বল হাতে ছিলেন মিতব্যয়ি।

চার ওভারে ২৪ রান দিয়েছেন সাকিব। সমান ওভারে বরুণ চক্রবর্তী খরচ করেন ২৪ রান। বল হাতে আলো ছড়ানো সাকিব ব্যাট হাতেও জ্বলে উঠলেন শেষ দিকে। ওই সময় রান করাই চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছিল কলকাতার জন্য। ড্যানিয়েল ক্রিশ্চিয়ানের দ্বিতীয় তথা ম্যাচের শেষ ওভারে সাত রান দরকার ছিল কলকাতার।

প্রথম বলেই দারুণ এক স্কুপে বাউন্ডারি মারেন সাকিব। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে কলকাতা। মরগানকে নিয়ে নাটকীয় জয়ে ম্যাচ শেষ করেন। তবে ম্যাচটা কঠিন হওয়ার আগে দলকে জয়ের পথেই রেখে গিয়েছিলেন নারাইন। টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যান আউট হলে কিছু চাপে পড়ে কলকাতা। ওই সময়ে ক্রিশ্চিয়ানের এক ওভারে ২২ রান নেন নারাইন।

ওই ওভারে তিন বলে তিন ছক্কা হাঁকান নারাইন। শেষ পর্যন্ত ১৫ বলে ২৬ রানে ফেরেন তিনি। তার সঙ্গী নিতিশ রানা ২৫ বলে করেন ২৩ রান। ১৮ বলে ২৯ রানে বিদায় নেন ওপেনার শুভমান গিল। ৩০ বলে ২৬ রান এসেছে আরেক ওপেনার ভেঙ্কাটেশ আইয়ারের ব্যাট থেকে। ডিনেশ কার্তিক ১২ বলে ১০ রানে আউট হন।

সাত বলে পাঁচ রানে অপরাজিত থাকেন ধুঁকতে থাকা অধিনায়ক ইয়ন মরগান। ছয় বলে নয় রানে অজেয় থেকে ম্যাচ শেষ করেন সাকিব। কলকাতার পতন হওয়া ছয় উইকেটের দুটি করে নিয়েছেন মোহাম্মদ সিরাজ, হার্শেল প্যাটেল ও যুুভেন্দ্র চাহাল। সবমিলিয়ে এবারের আসরে ৩২টি উইকেট নিলেন হার্শেল। আইপিএলের এক আসরে যা কোনো বোলারের সর্বোচ্চ উইকেট।

এবারের আইপিএলে আরব আমিরাত অংশে প্রথমবার ব্যাট করার সুযোগ পেয়েই আলো ছড়ালেন সাকিব। তিনি ফেরার পর তিন ম্যাচের সবকটিতেই জিতল কলকাতা।