advertisement
আপনি পড়ছেন

সবার উপরে ব্যাটিং সত্য, তাহার উপরে নাই। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের উইকেট বরাবরই এই তত্ত্বে বিশ্বাসী। বাংলাদেশের ক্রিকেটের অনুসারী হয়ে থাকলে আপনারও বিস্মৃত হওয়ার কথা নয় সময়টা।

the dream of bangladeshs victory is sinking

এই তো ৮ মাস আগের কথা। গত ফেব্রুয়ারিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অবিশ্বাস্য ব্যাটিং কীর্তিতে চাপা পড়েছিল বাংলাদেশ। জয়ের আশা তিমিরে হারিয়েছিল অভিষিক্ত কাইল মায়ার্সের ডাবল সেঞ্চুরি (বিশ্বরেকর্ড) এবং এনক্রমাহ বনারের দৃঢ়তায়।

ম্যাচের চতুর্থ দিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে জয়ের জন্য ৩৯৫ রানের টার্গেট দিয়েছিল বাংলাদেশ। তখনই জয়ের আশা বুনেছিল গোটা দেশ। চতুর্থ দিনের শেষে ক্যারিবিয়ানদের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ১১০ রান। পঞ্চম দিনে করতে হতো ২৯৫ রান। যা টেস্টের শেষ দিন বিবেচনায় কঠিন কর্মই বটে।

what a day for pakistan

সাগরিকার উইকেটও ভাঙবে আশা করেছিল টাইগাররা। কিন্তু সবাইকে চমকে দিয়েছে সাগরিকার ২২ গজ। এতটুকুও ভাঙেনি, উল্টো দারুণ ব্যাটিং বান্ধব হয়ে ধরা দিয়েছিল উইকেট। বাংলাদেশকে হতাশার সাগরে ডুবিয়ে মেয়ার্স-বনারের জুটিতে ৩ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় ক্যারিবিয়ানরা।

পাকিস্তানের বিপক্ষেও চট্টগ্রাম টেস্টে দেখা যাচ্ছে একই চিত্র। সাগরিকার উইকেট শেষ দিকে এসে বুকে টেনে নিয়েছে ব্যাটসম্যানদের। আজ দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ অলআউট হয়েছিল ১৫৭ রানে। জয়ের জন্য পাকিস্তানের টার্গেট দাঁড়ায় ২০২ রান। জয়ের ক্ষীণ আশার সঙ্গে অন্তত লড়াইয়ের আশা করেছে বাংলাদেশ।

কিন্তু সেসব ফিকে হয়ে গেছে। আজ চতুর্থ দিন শেষে হারের দুয়ারে স্বাগতিকরা। কারণ দেড় সেশনে আজ পাকিস্তানের ওপেনিং জুটিই ভাঙতে পারেনি বাংলাদেশের বোলাররা। বিনা উইকেটে ১০৯ রান তুলে দিনের খেলা শেষ করেছে পাকিস্তান। টার্গেটও এখন দৃষ্টিসীমায়। কাল জয়ের জন্য আর ৯৩ রান লাগবে তাদের।

বাংলাদেশের আশা পূরণ হয়নি, নির্বিঘ্নেই আজ ব্যাটিং করেছেন পাকিস্তানের ওপেনার আবিদ আলি ও আব্দুল্লাহ শফিক। এমনকি আজ দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের স্কোরটাই কম হয়ে গেছে। এবং সেই আফসোসেই পুড়বে মুমিনুল হকের দল। কারণ উইকেটের ব্যাটিং সখ্যতা কাজে লাগিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসটা বড় করা আবশ্যক ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু ব্যাটসম্যানরা সেটা পারেনি, এবং বোলাররা টলাতে পারেননি প্রতিপক্ষকে।