advertisement
আপনি পড়ছেন

টেস্ট ক্রিকেটে প্রতিনিয়ত ধুঁকছে বাংলাদেশ দল। জীর্ণ-শীর্ণ পারফরম্যান্সের মিছিল শেষ হচ্ছে না। টেস্ট আঙিনায় প্রবেশের ২২ বছরেও বাংলাদেশ নিজেদের মেলে ধরতে পারেনি। উইন্ডিজ সফরেও বরাবরের মতোই সাদা পোশাকে ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ টাইগাররা। অ্যান্টিগায় প্রথম টেস্ট হেরেছে ৭ উইকেটে, সেন্ট লুসিয়ায়ও ইনিংস হারের শঙ্কা উঁকি দিয়েছে। যদিও বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলছেন, ২০১৮ সালের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর থেকে এবার পারফরম্যান্স ভালো, এখানেই উন্নতি দেখছেন তিনি।

nazmul hasan papon 2পাপন

২০১৮ সালে প্রথম টেস্টে ৪৩ রানে অলআউট হয়েছিল বাংলাদেশ। অ্যান্টিগা ও কিংস্টনে দুই ম্যাচেই তিনদিনে হেরেছিল সাকিব আল হাসানের দল।

টেস্টে প্রায় ২ যুগ কাটিয়ে দিলেও বলার মতো উন্নতি নেই। বিসিবি সভাপতি বলছেন, হতাশ হওয়ার কিছু নেই, ধৈর্য্য ধরতে হবে, ‘সারা জীবন তো হেরেই আসছি। বরং আমি বলব, প্রথম টেস্ট যদি আমি দেখি গতবার যখন গিয়েছি (২০১৮ সালে), তার চেয়ে এবারের পারফরম্যান্স ভালো। নিশ্চিতভাবে এটা আমার কাছে উন্নতি। তবে এখনো অনেক পথ বাকি, সেটা নিয়ে আমরা কাজ করছি।’

টেস্টে বাংলাদেশের বিচরণ ২২ বছর, যার মধ্যে সর্বোচ্চ ১০ বছর ধরে বিসিবির সভাপতি পদে আছেন নাজমুল হাসান পাপন। টেস্টে টাইগারদের পারফরম্যান্সের মূল্যায়ন করতে বলা হলে তিনি বিভিন্ন দেশের বিভ্রান্তিকর তথ্য তুলে ধরেন গণমাধ্যমে।

পাপন বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় আমাদের সবচেয়ে দুর্বল দিক হচ্ছে টেস্ট। টি-টোয়েন্টিতেও আমরা এখনো ভালো করতে পারিনি। তবে একটা জিনিস ঠিক, অনেক দেশ যারা টেস্টে এখন অনেক অনেক ভালো করছে, তাদের ইতিহাস যদি দেখেন ২০-২২ বছরে তাদের পারফরম্যান্সও ভালো ছিল না। সংস্কৃতি গড়ে উঠতে সময় লাগবে। প্রায় ২৬ বছর লেগে গেছে ভারতের প্রথম ম্যাচ জিততে। এতো অস্থির হলে হবে না। ধৈর্য ধরতে হবে।’

প্রকৃতপক্ষে ভারতের প্রথম টেস্ট জিততে সময় লেগেছিল ২০ বছর। ১৯৩২ সালে তাদের টেস্ট অভিষেক হয়। ১৯৩৬ থেকে ১৯৪৬ পর্যন্ত যুদ্ধের কারণে কোনো ম্যাচ খেলতে পারেনি তারা। ১৯৫২ সালে ২১তম টেস্টে আসে প্রথম জয়। সময় লেগেছিল ২০ বছর।

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন নিউজিল্যান্ডের কথাও তুলে ধরে বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন নিউজিল্যান্ড, তারা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ৮ সিরিজে ২টা জিতেছে, টেস্ট ম্যাচ দুটা জিতে ড্র করেছে। ওরা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েও তো পারছে না। তাই বলে কি খারাপ হয়ে গেছে। এত হতাশ হওয়ার কিছু নেই।’

সাদা পোশাকের ক্রিকেট নিয়ে আরও ধৈর্য্য ধরার পরামর্শ দিয়ে পাপন বলেন, ‘আমাকে যদি ২২ বছরের কথা বলেন, আমরা দেশের মাটিতে জেতা শুরু করেছি। তাই বলে সবগুলো যে জিতে যাব তা না। বড় দলের সঙ্গে কয়েকটা টেস্ট ম্যাচ জিতেছি, এটা আমাদের উন্নতি। বিদেশে যেয়ে যে জিততে পারি, সেটাও হয়েছে। তাই বলে টেস্টে যে আমরা একটা ভালো দল হয়ে গেছি তা না। আমাদের বিশ্বাস রাখতে হবে।’

সম্প্রতি বাংলাদেশের টেস্ট সংস্কৃতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন হেড কোচ রাসেল ডোমিঙ্গো। তবে তেমনভাবে চিন্তা করছেন না পাপন। টেস্টের জন্য আলাদা গড়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন তিনি।

বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘টানা খেলার মধ্যে আপনি টেস্ট সংস্কৃতি কিভাবে তৈরি করবেন। আপনি বলবেন ঘরোয়া ক্রিকেট। কিন্তু টানা ট্যুর করে কোন ছেলেটা ঘরোয়া ক্রিকেট খেলতে পারবে? আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেট খেলার সুযোগই তো নেই। তাহলে আপনি উন্নতিটা করবে কীভাবে? একমাত্র অপশন হচ্ছে, নতুন একটা সেট তৈরি করা। যেটা আসলে এর আগে আমরা চিন্তা করিনি, এখন চিন্তা করছি। আমাদের আলাদা একটা সেট থাকবে যারা এই জাতীয় দলের কোনো খেলা খেলবেন না। তারা ঘরোয়া ক্রিকেট খেলবে দেশে এবং দেশের বাইরে।’