advertisement
আপনি পড়ছেন

সেন্ট লুসিয়া থেকে ফেরিতে চড়ে ডমিনিকা যেতে হবে। পাড়ি দিতে হবে আটলান্টিক মহাসাগর। প্রায় ৫ ঘণ্টার ভ্রমণ। ভয়াবহতা বিবেচনা করে আগেই এ ভ্রমণ এড়িয়ে গেছেন ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবাল ও সিরিজের ধারাভাষ্যকার, সাবেক ক্যারিবিয়ান ফাস্ট বোলার কার্টলি অ্যামব্রোস।

nasum miraz illউত্তাল সমুদ্রে আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন টাইগাররা

তার কল্পনা, অনুমান ভুল হয়নি। সমুদ্র পথে ফেরিতে ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার মুখে পড়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। মাঝপথে অসুস্থ হয়ে পড়েন অনেক ক্রিকেটার। পেসার শরিফুল ইসলাম, উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান সোহানের অবস্থা সবচেয়ে বেশি খারাপ হয়েছে। দুজনই ক্রমাগত বমি করেছেন।

দলের ম্যাসিয়ার সোহেলও অসুস্থ হয়ে পড়েন, যা বাকি সবাইকেও আতঙ্কিত করে তুলেছিল। ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রিকেটাররা। টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদসহ বাকি ক্রিকেটাররা বিসিবির এমন অব্যবস্থাপনা, অপেশাদারিত্বে চরম ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

bd team in wiচোখেমুখে আতঙ্ক-অস্থিরতা

সবার মনেই প্রশ্ন জেগেছে, কেন বিসিবি ফ্লাইটের ব্যবস্থা করেনি? ৯০০ কোটি টাকার এফডিআর দিয়ে তাহলে কী হবে? সবচেয়ে বড় কথা, বিসিবি কীভাবে ফেরিতে চড়ে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দেওয়ার জন্য উইন্ডিজদের আবদারে রাজি হলো? বিমানযাত্রার সুযোগ থাকতেও বিসিবি কেন এমন ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণে রাজি হলো?

এসব ক্ষেত্রে বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স বিভাগ ও বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজনই মূখ্য ভূমিকায় থাকেন। দ্বিপাক্ষিক বিষয়গুলো তারাই চূড়ান্ত করেন।

নিজের অবস্থান থেকে এমন অপেশাদার কাজের ব্যাখ্যায় আজ শুক্রবার নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন বলেছেন, ‘ওরা ফেরিতে ভ্রমণ করার প্রস্তাব দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যে আমরা রাজি হয়েছি, তা নয়। ওরা যখন জানাল আর কোনো বিকল্প নেই, তখন তাদের ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। ফেরিটিতে প্রায় ২৫০ জনের বহর গেছে।’

বিমান পাওয়া যাচ্ছিল না বলে দাবি বিসিবির প্রধান নির্বাহীর, ‘কোভিডের কারণে বড় ফ্লাইট বন্ধ হয়ে গেছে ওখানে। অনেক এয়ারলাইনস বন্ধ হয়ে গেছে, ফ্লাইট কমে গেছে। বড় বিমান ভাড়া করা যাচ্ছিল না। আর সব দ্বীপের ব্যবস্থাও এক নয়। ৩০-৩৫ জনের ছোট ছোট ফ্লাইট ছিল। ওরা যখন আমাদের জানিয়েছিল দুই দল এক সঙ্গে যাবে, ম্যাচ অফিশিয়ালসহ সম্প্রচারের দায়িত্বে থাকা সবাই একসঙ্গে ভ্রমণ করবে, তখন আমরা এটা নিয়ে আপত্তি করিনি।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘এখানে আমরা দেখেছিলাম, এটা নিয়মিত ফেরি বা চলাচলের যান কি না। তারা নিশ্চিত করেছিল, এটা নিয়মিত নৌযান। আমাদের ছবিও পাঠিয়েছিল। হ্যাঁ, আমরা হয়তো আরও চিন্তা করতে পারতাম। তবে এসব ক্ষেত্রে আয়োজক বোর্ডের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করতে হয়।’

শেষ পর্যন্ত ডমিনিকায় পৌঁছেছে বাংলাদেশ দল। আগামীকাল উইন্ডসর পার্কে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে টাইগাররা। ভ্রমণের এমন ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা, ভয়াবহতা, অসুস্থতার ধকল সামলে অনুশীলন করা, ম্যাচ খেলা কঠিন চ্যালেঞ্জই হয়ে পড়বে ক্রিকেটারদের জন্য।