advertisement
আপনি দেখছেন

প্রায় নিশ্চিত হারের মুখে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। নির্ধারিত দেড় ঘণ্টার শেষ মিনিটের খেলা চলছে। আটালান্টার একমাত্র গোলে পিছিয়ে থাকা পিএসজির চোখে তখন ধূসর স্বপ্ন। তাহলে কি এবারো উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা জেতা হবে না? উত্তরটা তোলা থাকল ভবিষ্যতের জন্য। কার্যত বলতে হচ্ছে পিএসজির রূপকথার এক গল্প।

neymar and mbappe ucl 2019 20

বুধবার রাতে কোয়ার্টার ফাইনালে আড়াই মিনিটের জাদুতে আটালান্টাকে ২-১ গোলে হারিয়েছে পিএসজি। থ্রিলার এই জয়ে একটি গোলও করতে পারেননি নেইমার ও কিলিয়ান এমবাপ্পে। তবু শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে ক্যামেরার চোখ খুঁজে নিল এই মানিকজোড়কে। পিএসজি যে অবিশ্বাস্য এক প্রত্যাবর্তন করেছে সেটার মূল নায়ক তারাই!

একের পর এক গোল মিস করেছেন তাতে কী? ঠিক সময়ে শাপমোচন তো করেছেন! ১৪৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে পিএসজি যে গোল দুটি করেছে দুটোরই উৎস নেইমার ও এমবাপ্পে। এজন্যই বিশ্বের সবচেয়ে দামি ফুটবলার তারা। ম্যাচের ৯০ মিনিটে নেইমারের অ্যাসিস্ট থেকে পিএসজিকে সমতায় ফিরিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা মার্কুইনহস।

choupo moting psg 2020

একটু পরই এমবাপ্পের সহায়তায় জয়সূচক গোল করে বসেন চুপো-মটিংহো! অবিশ্বাস্য। পিএসজির উচ্ছ্বাস কে দেখে! নকআউট পর্বে এমন থ্রিলার ম্যাচ কে কবে দেখেছেন? খুব সম্ভবত সবশেষ থ্রিলার ম্যাচটা হয়েছিল সাত বছর আগে। সেদিন নিশ্চিত হারের মুখ থেকে ফিরে আসে বরুসিয়া ডর্টমুন্ড। ৭০ সেকেন্ডের জাদুতে দুই গোল করে ৩-২ ব্যবধানে মালাগাকে হারায় তারা।

পিএসজি অবশ্য একটু বেশি সময় নিয়েছে। তাতে কী! প্রবল চাপের মুহূর্তে আড়াই মিনিটেই ফরাসি জায়ান্টর বদলে দেয় ম্যাচের ভাগ্য। নিজেদের চাপে ফেলে দিয়েছিল পিএসজিই। ম্যাচের শুরু থেকেই আটালান্টার বিরুদ্ধে রক্ষণাত্মক মেজাজে খেলতে থাকে ফরাসি জায়ান্টরা। ইতালিয়ান ক্লাবটির আগ্রাসী ফুটবলে তাদের রক্ষণও ভেঙে পড়ে।

২৫ মিনিটে পিএসজির জাল কাঁপিয়ে আটালান্টাকে উচ্ছ্বাসে ভাসান প্যাসালিক। এরপর নেইমার দুটো সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেছেন। গোলমুখে নিজেকে হারিয়ে খুঁজেছেন বারংবার। অবস্থা বেগতিক দেখে জাদুর সেই চাবিকাঠি বের করেন পিএসজি কোচ টমাস টুখেল। দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামান সদ্যই চোট থেকে বিস্ময়করভাবে সেরে ওঠা এমবাপ্পেকে।

neymar mbappe psg 2020

তিনিও নেইমারের সঙ্গে গোল মিসের মহড়ায় যোগ দিলেন। পিএসজি কোচ টমাস টুখেলের কাঁধে তখন হিমালয়তুল্য চাপ। একের পর এক খেলোয়াড় পরিবর্তন করেন। তাদের একজন চুপো-মোটিং করলেন জয়সূচক গোল। ফরওয়ার্ডদের ব্যর্থতায় রক্ষণ ছেড়ে উঠে আসনে ব্রাজিলিয়ান তারকা মার্কুইনহস। যার সুফল পেল পিএসজি।

এই মৌসুমের সবচেয়ে বড় চমকের নাম ছিল আটালান্টা। আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে ক্লাব ফুটবল দুনিয়াকে তাক লাগিয়ে দেয় সিরি’এ লিগের নতুন জায়ান্টরা। ঘরোয়া লিগে তারা তৃতীয় সেরা দল হয়েছে। চ্যাম্পিয়নস লিগে তাদের স্বপ্নছিল বড় কিছুর। অবশেষে পিএসজির আড়াই মিনিটের জাদুতে থামল তাদের রূপকথার রথযাত্রা।

টুর্নামেন্টে অভিষিক্ত আটালান্টাকে বিদায় করে দীর্ঘ ২৫ বছর পর পিএসজি উঠল ইউরোপের শীর্ষস্থানীয় প্রতিযোগিতার সেমিফাইনালে। পর্তুগালের লিসবনে নেইমার-এমবাপ্পেরা মেতে ওঠেন শেষ চারের আনন্দে। ফাইনাল থেকে আর একধাপ দূরে আছেন তারা। আজ সেমিফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ নির্ধারণ হবে। একই ভেন্যুতে শেষ আটের দ্বিতীয় ম্যাচে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ মুখোমুখি হবে আসরের আরেক চমক লাইপিজিগের।

sheikh mujib 2020