advertisement
আপনি পড়ছেন

পুনঃনবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত ব্যবহার করে লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ইরানে চালু করা হয়েছে দেশটির সর্ববৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প। সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি থেকে প্রতি বছর ১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে ইরান।

solar panel wind mill

জ্বালানি খাতে অনবায়নযোগ্য তেলের উপরে নির্ভরযোগ্যতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করে দেশকে সমৃদ্ধ করার পথে আরেকধাপ এগিয়ে গেল ইরান। সম্প্রতি ইরানের ইস্পাহান শহরের অদূরে ২০ হেক্টর এলাকা জুড়ে স্থাপিত এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র তার আরেকটা মাইলফলক। মাত্র সাত মাসে ইরানের কাদির ইলেকট্রিসিটি এন্ড ফুয়েল কোম্পানি ও গ্রিসের মেটকা প্রকৌশলী সংস্থা এই প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত করেছে। এ খাতে প্রায় দেড় কোটি ডলার সমপরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে সৌরশক্তি আহরণের জন্য ০.৬৪ বর্গমিটারের অত্যাধুনিক সোলার প্যানেল ব্যবহার করা হয়েছে। ২০ হেক্টর এলাকাজুড়ে প্রায় ৩৯ হাজার সৌর প্যানেল সাজানো আছে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে। ইতিমধ্যে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ আগামী ২০ বছরের মেয়াদে ইরানের পুনঃনবায়নযোগ্য জ্বালানি সংস্থা বা এসইউএনএ’র কাছে বিক্রি করে দেয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, পরিবেশ রক্ষা, দূষণ হ্রাস সহ বিভিন্ন কারণে পুনঃনবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত ব্যবহার করে আগামী ২০২০ সালের মধ্যে ইরান সরকার পাঁচ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে চার হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতই বায়ু শক্তি থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরে ফেব্রুয়ারি মাসে ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ হামেদানে দুই ইউনিটের আরেকটি সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু করে ইরান। এ কেন্দ্রে দুইটি সাত মেগাওয়াটের ইউনিট রয়েছে। এ ছাড়াও, ইরানে বর্তমানে ১৫টি বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র রয়েছে। ইরানে একমাত্র বায়ু-শক্তির খাত থেকে এক লাখ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, উন্নত দেশগুলো এখন সোলার প্লান্টের কার্যকারিতা বাড়ানোর ওপর অনেক মনোযোগ দিচ্ছে। এই গবেষণার অংশ হিসেবে অনেক উন্নত দেশে এখন বড় আকারের সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন করা হয়েছে। সম্প্রতি ভারতের তামিল নাড়ুর কামুঠিতে তৈরি করা হয়েছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প। ১০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে গড়ে তোলা এই সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প ছয়শ ৪৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করার ক্ষমতা রয়েছে।