advertisement
আপনি দেখছেন
সর্বশেষ আপডেট: 15 মিনিট আগে

ফ্রান্স থেকে যে রাফাল যুদ্ধবিমান কেনা নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে ভারতে হইচই সেই বিমান নিয়ে নতুন করে উদ্বেগে পড়েছে ভারত। কারণ যে পাকিস্তানের ওপর ছড়ি ঘোরাতে রাফাল কিনছে নরেন্দ্র মোদির সরকার সেই যুদ্ধবিমান চালানোর প্রশিক্ষণ আরো আগেই নিয়েছেন পাকিস্তানি পাইলটরা।

rafale jet india

খবরে বলা হচ্ছে, কাতারের বিমানবাহিনীর হাতে থাকা রাফাল যুদ্ধবিমানের সাহায্যে নিজেদের পাইলটদের এই বিমান উড়ানো শিখিয়ে নিয়েছে পাকিস্তান। ২০১৭ সালের নভেম্বরেই ফ্রান্সের মাটিতে চলে ওই প্রশিক্ষণ। সদ্য প্রকাশিত এ ধরনের একটি রিপোর্টে উদ্বেগে পড়ে গেছে ভারত। কারণ অত্যাধুনিক রাফাল যুদ্ধবিমানের সাহায্যেই আকাশযুদ্ধে নিজেদের এগিয়ে রাখার পরিকল্পনা ছিল ভারতের।

ভারতের প্রভাবশালী গণমাধ্যম এনডিটিভি বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে ওই তথ্য প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘২০১৭ সালের নভেম্বরে কাতারের হয়ে যে পাইলটরা রাফাল বিমান উড়ানোর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, তারা প্রত্যেকেই পাকিস্তানি বিমানবাহিনীর অফিসার।’

রাফাল যুদ্ধবিমান প্রস্তুতকারক দাসোঁ অ্যাভিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে ফ্রান্সের কাছ থেকে ২৪টি যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তি করে কাতার। ২০১৭ সালে কাতার আরও ১২টি রাফাল যুদ্ধবিমান কিনতে নতুন চুক্তি করে দেশটির সঙ্গে।

প্রথম দফার ২৪টি যুদ্ধবিমানের জন্য চুক্তির অর্থমূল্য ছিল প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা। সেই যুদ্ধবিমান চালানোর জন্য প্রশিক্ষণ নিতেই কাতার থেকে ফ্রান্সে গিয়েছিল পাইলটদের একটি দল। আর সেই দলেই ছিলেন পাকিস্তানি পাইলটরা, এমনটাই দাবি করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

তবে ভারতে অবস্থানরত দাসোঁ অ্যাভিয়েশনের কর্মকর্তারা এনডিটিভিকে বলেছেন, কাতার এয়ার ফোর্সের হয়ে পাকিস্তানি পাইলটরা রাফাল উড়াতে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, এই রকম কোনো খবর তাদের কাছে নেই। এমনকি নয়াদিল্লিতে ফরাসি দূতাবাসের পক্ষ থেকেও খবরটিকে ভুয়া বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

তবে দাসোঁ অ্যাভিয়েশনের ফ্রান্সের অফিস থেকে এ নিয়ে এখনও কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরেই ভারতে আসতে পারে রাফাল যুদ্ধবিমান। তার আগেই পাকিস্তানি পাইলটরা এই বিমান উড়ানোর প্রশিক্ষণ নিয়ে ফেললে তা যথেষ্ট উদ্বেগের ভারতের কাছে। কারণ ভারত তার নিজের পছন্দ মাফিক রাফাল যুদ্ধবিমানে বেশ কিছু রদবদল করার পরই তা কিনতে সম্মত হয়েছে।

তাই কাতারের কেনা যুদ্ধবিমানের সঙ্গে ভারত যে রাফাল কিনছে, তার ফারাক থাকলেও এই বিমানের রাডার ব্যবস্থা দুই দেশের ক্ষেত্রেই এক। অত্যাধুনিক এই রাডার ব্যবস্থা থাকলে বিমান উড়ানোর সময়ই পাইলটরা টের পেয়ে যান, আকাশ বা সমুদ্রের কোথায় বিপদ লুকিয়ে আছে বা কোন জায়গা থেকে আঘাত হানার প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রতিপক্ষ।

আর এই রাডার ব্যবস্থা পাকিস্তানের হাতে থাকলে ভারতের রাফাল আকাশে উড়লেই পাক সেনারা তার হাল-হাকিকত জেনে ফেলতে পারবে খুব সহজেই।

ভারতীয় বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত পাইলট অংশুমান মইনকার এনডিটিভিকে বলেছেন, ‘প্রশিক্ষণ নেওয়া থাকলে তারা জেনে যাবে, এই যুদ্ধবিমানের অস্ত্রব্যবস্থা কেমন। কতক্ষণ আকাশে উড়তে পারে। কীভাবে এই বিমান অভিযান চালায়, এই সব কিছুই।’

sheikh mujib 2020