advertisement
আপনি দেখছেন

আফ্রিকার দেশ ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর উত্তরাঞ্চলের একটি এলাকায় সশস্ত্র বিদ্রোহীদের হামলায় অন্তত ১৯ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন। আলজাজিরার এক প্রতিবেদন বলছে, বেনি শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে ওইচা গ্রামে গতকাল বুধবার এই হামলার ঘটনা ঘটে। 

congo un troopsকঙ্গোয় শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশন

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, দেশটির সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী অ্যালাইড ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস (এডিএফ) এ হামলাটি চালিয়েছে। এদিকে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশন ও সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বেড়েই চলেছে।

হামলার পর প্রাথমিক উদ্ধার অভিযানে ১৯ জনের মরদেহ উদ্ধারের খবর নিশ্চিত করেছেন ওই অঞ্চলেন প্রশাসনিক প্রধান ডোনাট কিবাওয়ানা। তিনি বলেন, বিদ্রোহীরা পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। এদিকে ফের হামলার আশঙ্কায় নিহতদের পরিবারের অনেক সদস্যই তাদের বাড়ি ফিরতে চাইছেন না।

উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখার তাগিদ দিয়ে বেনি অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি আরো বাড়ানো হয়েছে বলেও জানান কিবাওয়ানা। তিনি জানান, ঘটনাস্থল থেকে বিদ্রোহীদের তাড়াতে কাজ করছে সেনাবাহিনী। জনসাধারণকে শান্ত থাকারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

কঙ্গো থেকে আল-জাজিরা প্রতিনিধি ক্যাথরিন ওয়াম্বুয়া-সোই জানান, বেশিরভাগ মৃতদেহই বিকৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। অনেকগুলো মরদেহের শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন ছিল। 

এর আগে গত রোববার বেনি অঞ্চলে এডিএফের হামলায় আটজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়। এরপর বিক্ষোভে রাস্তায় নেমে আসে সাধারণ জনতা। বেনি শহর ছাড়াও ওই অঞ্চলের অন্যান্য স্থানেও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনের ব্যর্থতার অভিযোগে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে দেশটিতে জাতিসংঘ মিশনের বিশেষ প্রতিনিধি ফ্রান্সোয়া গ্রিগনন আলজাজিরাকে জানান, গত মঙ্গলবার বেনি শহরে শান্তিরক্ষী মিশনের এক সেনার ছোঁড়া মনোটভ ককটেলে এক তরুণ বিক্ষোভকারীর নিহত হন। প্রতিবাদকারীদের ওপর প্রাণনাশক অস্ত্র ব্যবহার না করার জন্য সেনাদের ও শান্তিবাহিনীকে কড়া নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানান গ্রিগনন।