advertisement
আপনি দেখছেন
সর্বশেষ আপডেট: 48 মিনিট আগে

১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল উত্তর আটল্যান্টিক নিরাপত্তা জোট বা নর্থ আটল্যান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন, যার সংক্ষিপ্ত নাম ন্যাটো। স্নায়ু যুদ্ধের শুরুর দিকে এ ধরনের রাজনৈতিক ও সামরিক জোট গঠনের উদ্দেশ্য ছিল সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে সমন্বিত সুরক্ষা দেয়া। খবর বিবিসি বাংলার।

nato flagন্যাটোর যুদ্ধজাহাজ

সত্তর বছর পরে এসে, একটি পরিবর্তিত বিশ্ব যেখানে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের সুরক্ষার অগ্রাধিকার রয়েছে সেখানে কি এটি এখনো প্রাসঙ্গিক? সম্প্রতি ন্যাটোর ভেতরকার পরিস্থিতিই আর আগের মতো নেই। খোদ সংস্থাটি কিংবা সদস্যভূক্ত অন্য দেশগুলোর বিরুদ্ধে কড়া সমালোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স এবং তুরস্ক।

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ২৯ সদস্যের এ জোট মঙ্গল এবং বুধবার লন্ডনে বৈঠকে বসছে। যদিও জোটের সদস্যরা একে ঐতিহাসিকভাবে সবচেয়ে সফল সামরিক জোট হিসেবেই উল্লেখ করে থাকেন, তবুও এর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

ন্যাটো কিভাবে গঠিত হয়েছিল?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরপরই ইউরোপের ১০টি দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা মিলে গঠন করে নর্থ আটল্যান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন বা ন্যাটো। যার মূল উদ্দেশ্য ছিল সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নকে প্রতিরোধ করা।

যুদ্ধের অন্যতম বিজয়ী হওয়ায়, পূর্ব ইউরোপ জুড়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিপুল পরিমাণ সেনা রয়ে যায়। পূর্ব জার্মানিসহ বেশ কয়েকটি দেশের উপর আধিপত্য পায় মস্কো।

যুদ্ধের পর জার্মানির রাজধানী বার্লিন দখলে নেয় বিজয়ীরা এবং ১৯৪৮ সালের মধ্যভাগে, সোভিয়েত প্রধানমন্ত্রী জোসেফ স্ট্যালিন পশ্চিম বার্লিনের বিরুদ্ধে অবরোধ শুরু করেন। সে সময়ে ওই এলাকা ছিল তৎকালীন মিত্রশক্তি যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন এবং ফ্রান্সের নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু পুরো এলাকাটি অবস্থিত ছিল সোভিয়েত নিয়ন্ত্রিত পূর্ব জার্মানিতে।

শহরটির সাথে বিমান যোগাযোগের মাধ্যমে সরাসরি সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়েছিল। তবে এই সংকট সোভিয়েত শক্তিকে মোকাবেলায় একটি জোট গঠনে ভূমিকা রেখেছিল।

১৯৪৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র এবং আরো ১১টি দেশ (যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইতালি, কানাডা, নরওয়ে, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল, আইসল্যান্ড এবং লুক্সেমবার্গ) মিলে একটি রাজনৈতিক ও সামরিক জোট গঠন করে। ১৯৫২ সালে তুরস্ক এবং গ্রিসকে সদস্য করার মাধ্যমে জোটটি আরো প্রসার লাভ করে। ১৯৫৫ সালে যুক্ত হয় পশ্চিম জার্মানি।

১৯৯৯ সাল থেকে এটি সাবেক পূর্বাঞ্চলীয় জাতি রাষ্ট্রগুলোকেও সদস্য করে এবং জোটভুক্ত মোট দেশের সংখ্যা হয় ২৯। সবশেষ ২০১৭ সালে সদস্য হয় মন্টিনিগ্রো।

ন্যাটোর উদ্দেশ্য কী?

দাপ্তরিকভাবে ন্যাটো গঠনের উদ্দেশ্য হচ্ছে ‘উত্তর আটল্যান্টিক অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও কল্যাণ’ নিশ্চিত করে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর 'স্বাধীনতা, অভিন্ন ঐতিহ্য এবং সভ্যতার' রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করা।

চুক্তি অনুযায়ী, নেটো ভুক্ত যে কোনো দেশের উপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটি জোটভুক্ত সব দেশের উপর হামলা বলেই গণ্য হবে এবং সব দেশ একে অন্যের সহায়তায় এগিয়ে আসবে। বাস্তব ক্ষেত্রে, জোটটি এটা নিশ্চিত করে যে, ‘ইউরোপিয় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তা অবিচ্ছেদ্যভাবে উত্তর আমেরিকার দেশগুলোর নিরাপত্তার সাথে জড়িত।’

সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং সাম্যবাদকে জোটটি তাদের বড় হুমকি মনে করতো। কিন্তু প্রতিষ্ঠার পর থেকে ন্যাটোর সীমান্ত মস্কোর দিকে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার অগ্রসর হয়েছে।

এছাড়া ১৯৮৯ সালে পূর্ব ইউরোপে বিপ্লব এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর থেকে জোটটি সাবেক সোভিয়েত স্যাটেলাইট জাতিকে নিজেদের সদস্য হিসেবেই গণ্য করে।

nato russiaসাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নকে প্রতিরোধ করাই ছিলো ন্যাটোর মূল উদ্দেশ্য

ইউএসএসআর নেই, তাহলে ন্যাটো টিকে আছে কেন?

স্নায়ু যুদ্ধের সমাপ্তি আর সোভিয়েত ইউনিয়ন নেই- তার মানে এই নয় যে পশ্চিমারা মস্কোকে নিয়ে দুশ্চিন্তা করা বন্ধ করে দেবে।

২০০৩ সালে দেয়া এক ভাষণে ন্যাটোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জেমি শেয়া বলেন, ‘কেউ-ই হঠাৎ করে বিশ্বাস করেনি যে কমিউনিজমের অনুপস্থিতি একটি দুঃশ্চিন্তামুক্ত পরিস্থিতি, একটি স্বর্ণযুগের সূচনা করেছে যেখানে মিত্র শক্তিরা কোন ধরনের সশস্ত্র বাহিনী ছাড়াই থাকবে, বা সুরক্ষা ছাড়াই বসবাস করতে পারবে।’

বাস্তবে রাশিয়া সামরিকভাবে শক্তিশালী রয়ে যায়। আর যুগোস্লাভিয়ার পতনের পর ১৯৯০ সালে খোদ ইউরোপেই যুদ্ধ দেখা দেয়। এ ধরনের পরিস্থিতির কারণে ন্যাটোর ভূমিকা পরিবর্তিত হয়ে এটি হস্তক্ষেপকারী জোটে পরিণত হয়েছে। যার উদাহরণ মেলে বসনিয়া এবং কসোভোয় সার্বিয়ার সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে বিমান হামলা, নৌপথে প্রতিরোধ এবং শান্তিরক্ষা বাহিনী হিসেবে ভূমিকা পালনের ক্ষেত্রে।

২০০১ সালে ন্রাটো প্রথম ইউরোপের বাইরে তাদের অভিযান চালায়। নিউ ইয়র্কের টুইন টাওয়ারে হামলার পর আফগানিস্তানে জাতিসংঘের নির্দেশনায় যৌথ বাহিনীর কৌশলগত নেতৃত্ব নেয় ন্যাটো।

আফগানিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রশিক্ষণ, উপদেশ এবং সহযোগিতার উদ্দেশ্যে এখনো পর্যন্ত দেশটিতে ন্যাটোর নেতৃত্বে ১৭ হাজার সেনা রয়েছে। ইউএনবি।

sheikh mujib 2020