advertisement
আপনি দেখছেন

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংগঠিত যুদ্ধাপরাধের ঘটনায় ন্যায় বিচার নিশ্চিতে দেশটির আরও সময় প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা ও ডি ফ্যাক্টো নেত্রী অং সান সু চি। গতকাল বৃহস্পতিবার ফিন্যান্সিয়াল টাইমসে এক নিবন্ধে তিনি এ কথা লেখেন।

time is needed to judge war crimes

একই দিন আন্তর্জাতিক বিচার আলদালত (আইসিজে) মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশটির সরকারকে আদেশ দেয়। এর প্রেক্ষিতে সু চি লেখেন, মিয়ানমারের আইনকে নিজস্ব গতিতে চলতে দিতে হবে এবং এর জন্য সময় প্রয়োজন। যদি সবকিছু ঠিকঠাক চলে তাহলে রাখাইনে যে অপরাধ হয়েছে তার ন্যায় বিচার সম্ভব।

দেশটির বিচার ব্যবস্থাকে সম্মান জানানোর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ২০১৭ সালের আগস্টে সেনা অভিযানে সেনা কর্মকর্তারা যে যুদ্ধাপরাধ করেছে তার বিচার সামরিক বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে করা হবে।

তবে সে বিচার ব্যবস্থা নিরেপেক্ষ হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্রের মতো মিয়ানমার সেনাবাহিনীও তাদের সেনাদের থেকে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে অনাগ্রহ দেখাবে। তবে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তার বেশিরভাগ বাংলাদেশে অবস্থান করা রোহিঙ্গাদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে এসেছে। যা অতিরঞ্জন বলে দাবি করেন তিনি।

time is needed to judge war crimes02

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের অপ্রমাণিত বক্তব্যকে বিশ্বাস না করার আহ্বান জানিয়ে সু চি বলেন, যারা নিপীড়নের শিকার তাদের কথা সবার হৃদয় স্পর্শ করবে এটাই স্বাভাবিক। তবে সত্যের অনুসন্ধানে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

প্রসঙ্গত ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের ওপর পূর্ব-পরিকল্পিত সহিংস হামলা চালায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী। যার ফলে জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা। এ বর্বরতাকে গণহত্যা আখ্যা দিয়ে গত বছর ১১ নভেম্বর আউসিজেতে মামলা করে গাম্বিয়া। চলমান মামলার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে রাখাইনে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও সহিংস ঘটনা যেনো আর না হয় সে ব্যাপারে জরুরি পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে মিয়ানমার সরকারকে।