advertisement
আপনি দেখছেন

ভারতের 'বিতর্কিত' সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) নিয়ে এবার ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ও তৃণমূল দলের সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার দেশটির পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হালিশহর এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় দুই পক্ষের সংঘর্ষে পুরো এলাকা উত্তপ্ত হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে।

bjp trinomul clash in west bengle

বিজেপি নেতাদের অভিযোগ, সকালে হালিশহরের ১৩ নং ওয়ার্ডে সিএএ নিয়ে প্রচার-প্রচারণা ও জনসংযোগ করতে যান তারা। এ সময় বাড়ি বাড়ি গিয়ে লিফলেট বিলি করার সময় তৃণমূল সমর্থকরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এমনকি এ নিয়ে বীজপুর থানায় অভিযোগ করতে গেলে পুলিশ দলের নেতা শুভ্রাংশু রায়কে হেনস্তা করা হয়।

শুভ্রাংশু রায় অভিযোগ করে বলেন, বিজেপির কর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে সিএএ নিয়ে প্রচার-প্রচারণা করছিল। হঠাৎ তৃণমূল সমর্থকরা তাদের ওপর হামলা চালায়। পরে এ নিয়ে বীজপুর থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে হালিশহরে নতুন করে অশান্তির সৃষ্টি হয়।

এদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে স্থানীয় তৃণমূল নেতারা বলেছেন, জনগণ সিএএ কার্যকর হোক তা চায় না। তাই বিজেপি নেতারা এ বিষয়ে লিফলেট বিলি করতে গেলে স্থানীয় বাসিন্দারাই তাদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে। বিজেপি নেতা মুকুল রায় ও তার ছেলের পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে গেছে বলেই তারা তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে।

তবে এ ঘটনায় হতাহতের বিষয় নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোতে এবং বীজপুর থানা পুলিশের পক্ষ থেকেও কিছু বলা হয়নি।

প্রসঙ্গত, গত ১২ ডিসেম্বর ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের স্বাক্ষর করার মাধ্যমে আইনে পরিণত হয় দেশটির সংশোধিত নাগরিকত্ব বিল (সিএবি)। এর আগে লোকসভা ও রাজ্যসভায় বিলটি পাস হওয়ার পর পরই এর বিরোধিতা করে বিক্ষোভ শুরু হয় আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরাসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে। বিলটি আইনে পরিণত হওয়ার পর গোটা দেশেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন রাজ্যে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হন বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী।

সিএএ বাতিল করা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে শুরু থেকেই সরব তৃণমূল। রাজ্যে কোনোভাবেই এ আইন কার্যকর হতে দেবেন না বলে এর আগে অনেকবার বিজেপিকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।