advertisement
আপনি দেখছেন

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেওয়ার পর অবরুদ্ধ অবস্থা বিরাজ করছে কয়েক মাস ধরে। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষের মতো সাংবাদিকরাও এখন মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। গত কয়েক মাস ধরে তারা সংবাদ সংগ্রহের কাজ করতে পারছেন না। যার ফলে জীবিকার তাগিদে বেছে নিতে হচ্ছে দিনমজুরের কাজ।

kashmiri journalist

বিবিসির সাংবাদিক প্রিয়াঙ্কা দুবেই’র প্রতিবেদনে জম্মু-কাশ্মিরের সাংবাদিকদের এমন মানবেতর জীবনযাপনের তথ্য প্রকাশ হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কাশ্মিরে আসলে কী হচ্ছে তা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের কোনো উপায় নেই স্থানীয় সাংবাদিকদের। কারণ লিখলেই কারাবাস ও নির্যাতনের হুমকি আসছে মোদি সরকারের পক্ষ থেকে।

ওই প্রতিবেদনে দুইজন সাংবাদিকের বর্তমান জীবন পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে।

প্রথমজন হলেন- মুনীব-উল ইসলাম (২৯)। পাঁচ বছর ধরে তিনি সাংবাদিক হিসেবে কাজ করে আসছেন। কিন্তু গত আগস্টে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার কাশ্মিরে ল্যান্ডফোন, মোবাইল এবং ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দিলে তিনি আর কাজ করতে পারেননি। কারণ যোগাযোগ ছাড়া একজন সাংবাদিক তার কাজ সম্পন্ন করতে পারেন না।

দীর্ঘদিন বেকার অবস্থায় দিন পার করার পর মুনীব-উল ইসলাম জীবিকার তাগিদে দিনমজুরের কাজ করতে শুরু করেন। বর্তমানে তিনি কাশ্মিরের অনন্তনাগ শহরে একটি নির্মাণাধীন ভবনে ইট বহনের কাজ করছেন।

দ্বিতীয় সাংবাদিক নিজের নাম প্রকাশ করতে ইচ্ছুক হননি। তিনি গত কয়েক বছর ধরে কাশ্মিরে রিপোর্টার হিসেবে কাজ করছিলেন। গত আগস্ট থেকে আর কাজ করতে পারেননি। প্রশাসন থেকে কাজ করতে নানা হুমকিও এসেছে।

বর্তমানে তিনি একটি দুগ্ধ খামারে কাজ করছেন।

বিবিসির প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, গত জানুয়ারিতে কাশ্মিরে ইন্টারনেট নিষেধাজ্ঞা কিছুটা নমনীয় হয়। এটি ছিল ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘকালীন নিষেধাজ্ঞা। যদিও এখনো পুরোপুরি ইন্টারনেট পরিষেবা দেয়া হচ্ছে না।

প্রাথমিকভাবে সীমিত আকারে ব্রডব্যান্ড এবং টু-জি চালু হয়েছে জম্মু অঞ্চলের কিছু অংশে। কিন্তু মোবাইল ইন্টারনেট এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অনেকাংশেই এখনো বন্ধ রয়েছে।