advertisement
আপনি দেখছেন

‘আমার চক্ষে পুরুষ রমণী কোনো ভেদাভেদ নাই...।’ ভেদাভেদহীনতার এই আহ্বান নিয়ে প্রত্যেক বছরের ৮ মার্চ পালিত হয় আন্তর্জাতিক নারী দিবস। জাতিসংঘ এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ঠিক করেছে, ‘আমি প্রজন্মের সমতা : নারী অধিকারের প্রতি সচেতনতা’। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নির্ধারণ করা হয়েছে আলাদা প্রতিপাদ্য, ‘প্রজন্ম হোক সমতার, সকল নারীর অধিকার’।

women day

নারীর আজকের যে জয়যাত্রা, তার পেছনে আছে সীমাহীন ত্যাগ। ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে নানা দমন-পীড়ন ঠেলে নারী উঠে এসেছে আপন মহিমায়। যে নারী দিবস নারীর অগ্রযাত্রার প্রতীক সেটাও আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে অনেক কাঠগড় পোড়ানোর মাধ্যমে। ঘুরে আসা যাক সময়ের সেই পরম্পরা-    

  • ১৮৫৭ সালের ৮ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সেলাই কারখানার নারী শ্রমিকরা রাস্তায় নামেন মজুরি-বৈষম্য, কর্মঘণ্টা নির্ধারণ এবং কর্মক্ষেত্রে বৈরী পরিবেশের প্রতিবাদে।
  • ১৮৮৯ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত প্রথম আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলনে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটকিন পুরুষের পাশাপাশি নারীর সম-অধিকারের দাবি তোলেন।
  • ১৯০৭ সালে জার্মানির স্টুটগার্টে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক নারী সম্মেলন।
  • ১৯০৮ সালে ক্লারা জেটকিনের নেতৃত্বে প্রথম আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
  • ১৯১০ সালে কোপেনহেগেনে ১৭ দেশের ১০০ প্রতিনিধি নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন।
  • ১৯১১ সাল থেকে ৮ মার্চ দিনটিকে ‘নারীর সম-অধিকার দিবস’ হিসেবে পালিত হয় ক্লারা জেটকিনের নেতৃত্বে।
  • ১৯১১ সালের ১৯ মার্চ প্রথম আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন করা হয়। এদিন সুইজারল্যান্ড, ডেনমার্ক, অস্ট্রিয়া ও জার্মানিতে লক্ষাধিক নারী মিছিল ও সমাবেশের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করেন।
  • ১৯১৪ সাল থেকে বেশ কয়েকটি দেশে ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালিত হতে থাকে।
  • ১৯৭৫ সালে জাতিসংঘ ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালন করে।
  • ১৯৭৭ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ৮ মার্চকে নারী দিবস পালনের জন্য বিল অনুমোদন পায়।
  • ১৯৮৪ সালে ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস ঘোষণা করে জাতিসংঘ। ঐতিহাসিক সংগ্রামের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতিসংঘ এই সিদ্ধান্ত নেয়।
  • ২০০৯-এ বিশ্বের ২৯টি দেশে সরকারি ছুটিসহ প্রায় ৬০টি দেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে দিবসটি পালিত হয়েছে।

বিশ্বের অনেক দেশে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে রয়েছে সরকারি ছুটি। এর মধ্যে রয়েছে- আফগানিস্তান, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বেলারুশ, বুরকিনা ফাসো, কম্বোডিয়া, কিউবা, জর্জিয়া, গিনি-বিসাউ, ইরিত্রিয়া, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, লাওস, মলদোভা, মঙ্গোলিয়া, মন্টেনেগ্রো, রাশিয়া, তাজাকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, উগান্ডা, ইউক্রেন, উজবেকিস্তান, ভিয়েতনাম, জাম্বিয়া। এছাড়া চীন, মেসিডোনিয়া, মাদাগাস্কার, নেপালে শুধু মেয়েরাই সরকারি ছুটি পান।