advertisement
আপনি দেখছেন

হজ মুসলমানদের কাছে এটি অনেক বেশি সম্মান ও মর্যাদার। কিন্তু করোনাভাইরাসের ধাক্কায় শেষ পর্যন্ত সেই হজও বাতিল হতে যাচ্ছে। এখন যে বিশ্ব পরিস্থিতি তাতে এমনটাই মনে করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। ইঙ্গিত দিয়েছে সৌদি আরবও। এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম গার্ডিয়ান।

hajj saudi arabia

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৮ জুলাই হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়ে ২ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা।

ইসলামের ইতিহাসে হজ বাতিল হওয়ার ঘটনা বিরল। ১৯১৮ সালে যখন স্প্যানিশ ফ্লু ছড়িয়ে পড়েছিল তখনও বন্ধ করা হয়নি হজ। এছাড়া বন্যায় যখন কাবা ঘর প্রায় ডুবন্ত তখনও সাতার কেটে তাওয়াফ করেছেন মানুষ। দু’দুটি বিশ্বযুদ্ধেও হজ বন্ধ করার কথা ভাবেনি সৌদি আরব। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে এখন তা নিয়ে বিশেষভাবে ভাবতে হচ্ছে দেশটিকে। যদি শেষ পর্যন্ত হজ বন্ধই করতে হয় তাহলে তা হবে ১৭৯৮ সালের পর প্রথম ঘটনা। ২২২ বছর আগে একবার বন্ধ রাখা হয়েছিল হজ।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণে সৌদি আরবের অবস্থা ভালো নেই। দেশটিতে প্রায় ২ হাজার মানুষ এই মারণ ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যুবরণ করেছেন ২১ জন। সংক্রমণ ঠেকাতে পুরো দেশ লকডাউন করা হয়। আরো কঠোর পদক্ষেপের পরিকল্পনা অনুযায়ী এবার কারফিউ জারি করা হয়েছে মক্কা ও মদিনায়। এই দুই শহরেই হজের আনুষ্ঠিকতা পালন করতে হয়।

সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ বিষয়ক মন্ত্রী মুহাম্মদ সালেহ বিন তাহের বিশ্ব মুসলমানের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘করোনাভাইরাস পরিস্থিতির অবসান না হওয়া পর্যন্ত হজের সিদ্ধান্ত না নেওয়াই ভালো। যারা আমাদের এখানে আসতে চান, এমন প্রত্যেকের স্বাস্থ্যের বিষয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।’

কিংস কলেজ লন্ডনের ওয়ার স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক সিরাজ মাহের বলেন, সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ বিষয়ক মন্ত্রী যে কথা বলেছেন, সেটা হজ বাতিলের বিষয়ে মুসলমানদেরকে মনস্তাত্ত্বিভাবে প্রস্তুত করার জন্য। কারণ সারা বিশ্বের মুসলমানের জন্যই এটা একটা সংবেদনশীল ইস্যু। আমি মনে করি, এ নিয়ে মানুষকে আশ্বস্ত করার যে বিস্তৃত প্রয়াস, মন্ত্রীর এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে সেদিকেই যাচ্ছে সৌদি আরব।’