advertisement
আপনি দেখছেন

করোনাভাইরাসের মহামারি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই এর চিকিৎসায় বিভিন্ন বিদ্যমান ওষুধের নাম আলোচনায় আসে। পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এসব ওষুধ প্রয়োগও করা হতে থাকে। আলোচিত এই ওষুধের একটি হলো হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন। কিছুদিন আগে এই ওষুধের ওপর প্রকাশিত গবেষণা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বিতর্কের। বিখ্যাত মেডিকেল সাময়িকী দ্য ল্যানসেট ও দ্য নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন তাদের প্রকাশিত গবেষণার ব্যাপারে প্রশ্ন উঠায় ‘উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছে। ফলে এ নিয়ে বিতর্ক আরো বাড়লো।

hydroxicloroquin india us expertহাইড্রোক্লোরকুইন ট্যাবলেট

কিছু দিন আগে দ্য ল্যানসেট এক প্রতিবেদনে জানায়, করোনাভাইরাসের সংক্রমিত রোগীদের চিকিৎসায় ম্যালেরিয়ার প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহৃত হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনের ব্যবহারে মৃত্যুহার ব্যাপকভাবে বেড়েছে। সেইসঙ্গে রোগীদের মধ্যে হৃদপিণ্ডজনিত বিভিন্ন সমস্যাও প্রকট আকার ধারণ করেছে। ১৫ হাজার রোগীর ওপর পরিচালিত এক গবেষণা থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়।

এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনা রোগীদের চিকিৎসায় হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনে ব্যবহার নিষিদ্ধ করে। ফলে বিশ্বে এ সংক্রান্ত বেশ কিছু গবেষণা বন্ধ হয়ে যায়। এর পরই গবেষণাটি নিয়ে আপত্তি তোলেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের গবেষক ও চিকিৎসক। 

hydroxychloroquine tabletহাইড্রোক্লোরকুইন ট্যাবলেট

এনবিসি নিউজ জানায়, দ্য ল্যানসেটের ওই গবেষণাটি বিশ্বব্যাপী কয়েক শ হাসপাতাল থেকে তথ্য নিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। গবেষকরা সেসব তথ্যের মান নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন। বিখ্যাত এই সাময়িকীর প্রভাব চিকিৎসা জগতে অনেক বেশি। ফলে প্রথমে সহজেই গবেষণাটি গ্রহণযোগ্য হয়। কিন্তু পরবর্তীতে গবেষণার ধরন, পদ্ধতি ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে।

মঙ্গলবার দ্য নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন জানায়, ল্যানসেটের প্রকাশিত গবেষণাটি নিয়ে তারা বেশ উদ্বিগ্ন। যেসব তথ্য গবেষণাটিতে ব্যবহৃত হয়েছে তা নিয়েও শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে।

ল্যানসেট মূলত তথ্যগুলো নিয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সার্গিসফেয়ার কোম্পানি থেকে। এই কোম্পানিটি প্রায় এক লাখ মানুষের ওপর একটি তথ্য তৈরি করেছিল। যেখানে তারা হাইড্রোক্লোরকুইনের ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করেছে। সেখানে সার্গিসফেয়ার কোম্পানি যা বলছে, ল্যানসেটও তাই বলছে।

গত শুক্রবার ল্যানসেট থেকে বলা হয়, তারা প্রকাশিত ওই গবেষণায় কিছু ত্রুটি খুঁজে পেয়েছে। সে সম্পর্কিত সমস্যার সমাধান করার পদক্ষেপও তারা নিয়েছে।

এনবিসি নিউজ জানায়, সমাধান করার প্রচেষ্টা করা হলেও মূল গবেষণা অপরিবর্ততই থাকবে।

যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ডক্টর এরিক টপল বলেন, বিশ্বব্যাপী গবেষকরা ল্যানসেটের দিকে যে সমালোচনার তীর ছুড়েছে তা নিয়ে কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে হবে। ভুলে গেলে চলবে না বিশ্বে এই মেডিকেল সাময়িকীর মর্যাদার কথা।

sheikh mujib 2020