advertisement
আপনি দেখছেন

ভিয়েতনামে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে স্কটল্যান্ডের এক পাইলট দুই মাস কোমায় ছিলেন। এ সময় তাকে ভেন্টিলেটর দেয়া হয়েছিল। সুস্থ হয়ে নিজের অভিজ্ঞতার বলার পাশপাশি সাবধান করলেন অন্যদেরও।

stephen cameronদুই মাস কোমায় থাকার পর সুস্থ হলেন স্টিফেন ক্যামেরুন

বিবিসির বরাতে জানা যায়, স্টিফেন ক্যামেরুন নামে ৪২ বছর বয়সী ওই স্কটিশ পাইলট ভিয়েতনামে করোনাভাইরাসের আক্রান্ত হয়েছিলেন। সেখানে সবচেয়ে অসুস্থ রোগীদের একজন ছিলেন তিনি। তাকে দেশটির সবাই পেশেন্ট ৯১ হিসেবে চিনেছে। সুস্থ হয়ে গত ১২ জুলাই তিনি নিজ দেশে ফিরেছেন।

স্টিফেন বলেন, প্রাণঘাতী এই ভাইরাসটি কতটুকু মারাত্মক হতে পারে তার জ্যান্ত উদাহরণ আমি। আমার মনে হয় না যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা এ রকম ঝুকিপূর্ণ রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে কুলাতে পারবে। তাই দ্বিতীয় প্রাদুর্ভাব শুরু হলে তাদের ওপর দিয়ে যে চাপ যাবে তা বর্ণনা করার মতো না।

stephen cameron02দুই মাস কোমায় থাকার পর সুস্থ হলেন স্টিফেন ক্যামেরুন

যুক্তরাজ্যে ফেরার পর স্টিফেনের চেক আপ করছেন ডক্টর মানিস প্যাটেল। তিনি বলেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীরা হাসপাতালে একটি লম্বা সময় অতিক্রম করেছে বা করছে। একে ম্যারাথনের সঙ্গে আপনি তুলনা করতে পারেন। সে হিসেবে স্টিফেন মাল্টিপল আলট্রা ম্যারাথনে অংশ নিয়েছেন।

বিবিসি বলছে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর তার অবস্থা বেশ গুরুতর হয়ে পড়ে। এরপর তাকে ভেন্টিলেটর মেশিন দেয়া হয়। সেই মেশিনে তাকে ৬৮ দিন থাকতে হয়েছে। এছাড়া তাকে একমো মেশিনও দেয়া হয়েছে। যা সাধারণত লাইফ সাপোর্ট মেশিন হিসেবেই সুপরিচিত। সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে থাকা রোগীকেই এই মেশিন দেয়া হয়।

স্টিফেন বলেন, ভিয়েতনামের চিকিৎসকরা আমাকে জানান, আমি নাকি করোনাভাইরাসে সংক্রমিত এশিয়ার সবচেয়ে অসুস্থ রোগী ছিলাম। এর কারণ তারা আমার অসুস্থতা থেকে অনেক কিছু জানতে পেরেছে। যা পরে তারা অন্য রোগীদের চিকিৎসায় কাজে লাগিয়ে তাদের সুস্থ করতে পেরেছে।

ডক্টর প্যাটেল বলেন, করোনাভাইরাসের তীব্র সংক্রমণের কারণে স্টিফেনকে কৃত্রিম কোমায় পাঠানো হয়েছে। এতো দীর্ঘ সময় কোমায় থাকার পর সুস্থ হয়ে ‍উঠা অসাধারণ একটি বিষয়। একজন রোগীকে ১ মাসের অধিক সময় ভেন্টিলেটরে রাখার অভিজ্ঞতা আমাদের তেমন নেই।

স্কটিশ ইন্টেনসিভ কেয়ার সোসাইটির তথ্য মোতাবেক, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে সুস্থ হয়ে উঠা ব্যক্তিরা ২১ দিনের বেশি আইসিইউতে থাকেনি। ভেন্টিলেশনে তাদের সময় আরো কম লেগেছে।

সুস্থ হয়ে উঠার পর নিজ অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে স্টিফেন বলেন, যখন আমার জ্ঞান ফিরলো তখন আমার মাথায় প্রশ্ন এলো, আমি কি আবারো হাঁটতে পারবো? কারণ ওই সময় আমি আমার পা অনুভব করতে পারছিলাম না। মনে হচ্ছিল, আমি সারাজীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে গেছি।

sheikh mujib 2020