advertisement
আপনি দেখছেন

ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরের বিশেষ সুবিধা বাতিলের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সেখানে সহিংস বিক্ষোভ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গোয়েন্দাদের কাছ থেকে এমন তথ্য পাওয়ার পর গতকাল সোমবারই তড়িঘড়ি করে ভূ-স্বর্গ খ্যাত অঞ্চলটিতে কারফিউ জারি করে শ্রীনগর প্রশাসন। আগামীকাল বুধবার পর্যন্ত জারি থাকবে এই কারফিউ।

kashmir curfewকাশ্মিরে ফের কারফিউ

পাশাপাশি অঞ্চলটিতে নভেল করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণের বিস্তার মোকাবেলায় চলমান বিধি-নিষেধের সময়সীমাও বাড়ানো হয়েছে। আগামীকাল বুধবার চলমান বিধি-নিষেধের সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা বাড়িয়ে এখন আগামী শনিবার পর্যন্ত করা হয়েছে। খবর ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এই সময়।

ভারতীয় গোয়েন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, আগামীকাল বুধবার কাশ্মিরের বিশেষ সুবিধা বাতিলের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে অঞ্চলটিতে ‘কালো দিবস’ পালনের পরিকল্পনা করছে সেখানকার রাজনৈতিক ও বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলো। বিশেষ করে শ্রীনগরে এ বিক্ষোভ সহিংস হয়ে উঠতে পারে।

এ তথ্য পাওয়ার পর পরই তৎপর হয়ে উঠে শ্রীনগর প্রশাসন। সম্ভাব্য সহিংসতা মোকাবেলায় গোটা জেলাজুড়ে কারফিউ জারি করেন শ্রীনগরের জেলা প্রশাসক শাহিদ চৌধুরী। এ সংক্রান্ত একটি সরকারি নির্দেশনাও জারি করা হয়।

kashmir curfew 2কাশ্মিরে ফের কারফিউ

এতে বলা হয়, আগামীকাল বুধবার জেলায় সম্ভাব্য সহিংস বিক্ষোভ হতে পারে। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে। এই বিক্ষোভে মানুষের জান-মালের ক্ষতি হতে পারে। তাই সহিংস বিক্ষোভ প্রতিরোধে এবং মানুষের জান-মাল রক্ষায় জেলাজুড়ে কারফিউ জারি করা হচ্ছে।

আরো বলা হয়, কারফিউ চলাকালীন সাধারণ মানুষের ঘরের বাইরে যাওয়া হওয়া যাবে না। শুধু খুব জরুরি প্রয়োজনে স্বল্প সময়ের জন্য বের হওয়া যাবে। পাশাপাশি এ সময়ের মধ্যে জেলাজুড়ে সব ধরনের জামায়েত বন্ধ থাকবে।

এদিকে সোমবার কারফিউ জারি করার আগেই উপত্যকাজুড়ে কঠোর বিধি-নিষেধ জারি ছিলো। বন্ধ ছিলো দোকান-পাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ সকল বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। এমনকি রাস্তায় যানবাহনও দেখা যায়নি। কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয় জনগণের চলাচল। রাস্তাগুলোয় টহল দিতে দেখা যায় ভারতীয় সেনাদের।

গত বছর ৫ আগস্ট ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরের বিশেষ সুবিধা ৩৭০ ধারা সংবিধান থেকে বাতিল করে বিজেপি সরকার। পাশাপাশি জম্মু-কাশ্মির ও লাদাখকে আলাদা আলাদা দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবেও ঘোষণা করা হয়। সেখানকার বাসিন্দারা যেন এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ না করতে পারে তাই অঞ্চলটিতে আগের দিনই ইতিহাসের কঠোরতম নিরাপত্তা পরিস্থিতি জারি করে মোদি সরকার। বন্ধ করে দেওয়া হয় সেখানকার ল্যান্ডফোন, মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবা। এ ঘোষণার আগে ও পরে আটক করা হয় রাজনৈতিক নেতাসহ বহু কাশ্মিরিকে।

sheikh mujib 2020