advertisement
আপনি দেখছেন

অবশেষে পারস্য উপসাগরীয় দেশ কাতারের ওপর তিন বছর আগে আরোপ করা অবরোধ অবসানের ইঙ্গিত দিয়েছে সৌদি আরব। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানের বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে আলজাজিরা।

princeofaisal mike pompeoপ্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান ও মাইক পম্পেও

কাতারি এ গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর সঙ্গে বৃহস্পতিবার এক ভার্চুয়াল বৈঠকে মিলিত হন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল। এরপরই কাতারের ওপর চাপিয়ে দেয়া অবরোধ অবসানের বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে বলে জানান তিনি।

ভার্চুয়াল আলোচনায় ‘সমাধান খুঁজতে সৌদি আরব প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’ উল্লেখ করে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কাতারের ভাইদের সঙ্গে আমরা যুক্ত হওয়ার বিষয়ে এখনো আশাবাদী, তারাও আমাদের সঙ্গে যুক্ত হতে আগ্রহী বলে আশা করি।

এ ক্ষেত্রে সৌদি জোটের চার দেশের বৈধ নিরাপত্তা উদ্বেগকে স্বীকার করতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, খুব দ্রুত সমাধানের মাধ্যমে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ আছে বলে আমরা মনে করি। সেই সমাধান বা সুযোগের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি সৌদি মন্ত্রী।

ইরানের উত্থান ঠেকাতে উপসাগরীয় দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হতে এবং কাতারের ওপর আরোপ করা অবরোধের অবসান ঘটাতে চাইছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সেই বিষয়টি দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী পম্পেও একাধিকবার প্রকাশ্যে বলেছেন।

এর আগেও আরব চার দেশের কাতার অবরোধ নিরসনে বেশ কয়েক দফা উদ্যোগ নেয়া হলেও তা ব্যর্থ হয়। তখন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি জানিয়েছিলেন, চলমান সংকট নিরসনে আলোচনায় বসতে তার দেশ প্রস্তুত রয়েছে। তবে তা হতে হবে কাতারের সার্বভৌমত্বকে সম্মান জানিয়ে।

erdogan sheikh tamimএরদোয়ান ও শেখ তামিম

২০১৭ সালের জুনে সন্ত্রাসবাদে মদদ দেয়ার অভিযোগ তুলে কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে সর্বাত্মক অবরোধ আরোপ করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিশর ও বাহরাইন। এরপর ইরান ও তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ক কমানো, মুসলিম ব্রাদারহুডকে সমর্থন না দেয়া ও আলজাজিরা বন্ধসহ বেশ কিছু শর্ত জুড়ে দেয় চার দেশ।

এমন অভিযোগ অস্বীকার করে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার অভিযোগ আনে কাতার। সৌদি জোটের শর্তগুলোও মানতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে দেশটি।

উল্টো সৌদি হুমকি উপেক্ষা করে ইরান, তুরস্ক ও মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সম্পর্ক আরো জোরদার করে কাতার। দেশটিতে বিখ্যাত মুসলিম সেনাপতি খালিদ বিন ওয়ালিদের নামে তৈরি তুর্কি ঘাঁটিতে থানি সরকারের সমর্থনে কয়েক হাজার সেনা মোতায়েন করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোয়ান। দেশটিতে তুরস্ক ও ইরান জরুরি খাদ্যসহ অন্যান্য সামগ্রী পাঠিয়ে পাশে দাঁড়ানোয় সৌদি জোটের অবরোধ ভেস্তে যায়।

কয়েকদিন আগে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বলেন, শুধু কাতার নয়, পুরো পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাতারে তাদের সেনারা অবস্থান করছে। এর জবাবে তুরস্কের সামরিক ঘাঁটির কারণে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হয়েছে বলে পাল্টা অভিযোগ করেন আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনোয়ার গারগাশ।

sheikh mujib 2020