advertisement
আপনি দেখছেন

আন্তর্জাতিক ৩৫টি মানবাধিকার সংগঠনের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের জাতিগত নির্মূলাভিযানকে ‘গণহত্যা’র স্বীকৃতি দেয়া এবং এর দায়ে মিয়ানমারকে অভিযুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক তহবিল সংগ্রহে এক সম্মেলনকে সামনে রেখে এ পদক্ষেপ নেয়া হলো।

eight pictures of rohingya violance 1রোহিঙ্গা মায়ের কান্না

আল জাজিরা জানিয়েছে, এমন আহ্বান জানিয়ে সংগঠনগুলো চিঠি পাঠিয়েছে মর্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওসহ বেশ কয়েকটি দেশের নেতা ও কর্মকর্তাদের কাছে। এর মধ্যে ফর্টিফাই রাইটস, রিফিউজিস ইন্টারন্যাশনাল ও বার্মা রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশন, ইউকের মতো সংগঠন রয়েছে।

বলা হচ্ছে, আজ বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সমর্থিত রোহিঙ্গা ডোনার কনফারেন্স হওয়ার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের জন্য আবার মোটা অঙ্কের তহবিল দিতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউএনএইচসিআরের আজকের ভার্চুয়াল বৈঠকে বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা অনুদানের ঘোষণা দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর ঠিক আগ মুহূর্তে পশ্চিমা নেতাদের কাছে পাঠানো চিঠিতে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলেছে, গণহত্যার স্বীকৃতি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রোহিঙ্গা ইস্যুকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলবে। একসঙ্গে সকল দেশ সোচ্চার হলে এ সমস্যার সমাধান তরান্বিত হবে।

rohingya camp in rakhineকক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প

এর আগে রোহিঙ্গা গণহত্যার দায়ে মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক আদালতের কাঠগড়ায় তুলেছে আফ্রিকার ছোট্ট দেশ গাম্বিয়া। এরই মধ্যে এ মামলায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যা প্রমাণ পাওয়ার রায় আসে। এছাড়া ওআইসি ছাড়াও জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, রাখাইনে রোহিঙ্গা গণহত্যায় দেশটির সেনাবাহিনী জড়িত। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে জাতিগত নির্মূল, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যা চালানোর জোরালো প্রমাণ থাকার কথা জানায় মার্কিন হলোকাস্ট মেমোরিয়াল মিউজিয়াম।

তবে মোটাদাগে এসব অভিযোগ প্রত্যাখান করে আসছে মিয়ানমার সরকার ও দেশটির সেনাবাহিনী। এ ইস্যুতে দেশটির পাশে রয়েছে চীন ও ভারত।

প্রসঙ্গত, স্বাধীনতা থেকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখার পরেও রাখাইনের রোহিঙ্গাদের নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করে না মিয়ানমার। বিশাল জনগোষ্ঠীকে নিশ্চিহ্ন করতে দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিত সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে দেশটি। জীবন বাঁচাতে বিভিন্ন সময় লাখ লাখ রোহিঙ্গা রাখাইন থেকে পালিয়ে বাংলাদেশের কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়েছে। দেশছাড়া এই রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ১০ লাখেরও বেশি।

অন্যদিকে, রাখাইনে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গাকে কয়েক বছর ধরে নোংরা ক্যাম্পে আটকে রেখেছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। ২০১২ সাল থেকে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য আটকে রাখা এসব ক্যাম্পকে ‘উন্মুক্ত বন্দিশিবির’ হিসেবে বর্ণনা করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

sheikh mujib 2020