advertisement
আপনি দেখছেন

সৌদি আরবের খামিস মুশাইত শহরের কিং খালিদ বিমানঘাঁটিতে কমব্যাট ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। গতকাল মঙ্গলবার এ হামলা চালানো হয়। তবে এতে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে এখন পর্যন্ত কিছু জানানো হয়নি।

yemens qasef 2k combat droneহুথিদের কাসেফ-২ কে কমব্যাট ড্রোন, ফাইল ছবি

পার্সটুডের খবরে বলা হয়, গুরুত্বপূর্ণ সৌদি বিমানঘাঁটির কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার কথা জানিয়েছে আনসারুল্লাহ সমর্থিত ইমেয়েমেনি সেনাবাহিনী। দেশটিতে সৌদি জোটের আগ্রাসন ও অবরোধের জবাবে এ হামলা চালানো হয়।

হুথি সমর্থিত ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারিয়ির বরাত দিয়ে আল-মাসিরা টেলিভিশন জানায়, হামলা পরিচালনা করেছে সেনা ও হুথি যোদ্ধারা।

এই হামলায় ব্যবহার করা হয়েছে হুথিদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি দু’টি কাসেফ-টু কে কম্ব্যাট ড্রোন। ড্রোন দুটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত করেছে বলে দাবি করা হয়।

yahya saria yemenইয়াহিয়া সারিয়ি, ফাইল ছবি

তবে এ হামলার বিষয়ে সৌদি সরকারের কোনো প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া দেশটির গণমাধ্যমগুলোতেও এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশ করা হয়নি।

এর আগে গত মাসে সৌদি আরবের স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ কিছু স্থাপনায় হামলা চালানোর কথা জানায় হুথি নিয়ন্ত্রিত বিমান বাহিনী। এর মধ্যে রয়েছে দেশটির আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও কিং খালিদ বিমানবন্দরও রয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালে মধ্যপ্রাচ্যের দরিদ্র দেশ ইয়েমেনের রাজধানী সানার নিয়ন্ত্রণ নেয় ইরান সমর্থিত হুথিরা। এর পর তাদের উৎখাতে হামলা শুরু করে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন চার দেশের সামরিক জোট। প্রায় ৬ বছর ধরে যুদ্ধে জয় তো দূরের কথা উল্টো হুথিদের হামলায় ঝুঁকিতে পড়েছে রিয়াদ।

saudi yemen mapসৌদি আরব ও ইয়েমেনের মানচিত্র

চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে সম্প্রতি শান্তি পরিকল্পনা প্রস্তাব দেয় সৌদি আরব। তাতে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ইয়েমেনের ক্ষমতা হারানো সৌদি সমর্থিত হাদি সরকার ও ইরান সমর্থিত হুথিদের মধ্যে অস্ত্রবিরতির কথা বলা হয়। এ ছাড়া সংকট নিরসনে রাজনৈতিক সংলাপ শুরুর কথাও উল্লেখ করা হয়।

এর জবাবে যুদ্ধ বন্ধসহ সৌদি জোটের অবরোধের মুখে থাকা সব আকাশ ও সমুদ্রপথগুলো খুলে দেয়ার দাবি জানায় হুথিরা। তাতে সাড়া না পেয়ে প্রায়শই সৌদি আরবে হামলা চালিয়ে আসছে তারা।