advertisement
আপনি দেখছেন

আধুনিক মালয়েশিয়ার রূপকার ড. মাহাথির মুহাম্মাদ ফিলিস্তিনের মুসলমানদের ওপর ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এক জ্বালাময়ী ভাষণ দিয়েছিলেন ২০০০ সালের ১২ নভেম্বর। ওই ভাষণে বজ্রকণ্ঠে তিনি বলেছিলেন, এমন এক সময়ে এসে আমরা দাঁড়িয়েছি, যখন মুসলিম দেশগুলোর আর চুপ থাকা শোভা পায় না। ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মুসলমি শাসকদের গর্জে ওঠার সময় এসেছে।

dr. mahathir malaysia

ফিলিস্তিনের ওপর ইসরায়েলের অমানবিক নির্যাতনের চিত্র নতুন নয়। দীর্ঘ দিন ধরেই সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে ফিলিস্তিনের নিরীহ মুসলমানদের অত্যাচার নির্যাতন করে আসছে দেশটি। এ প্রসঙ্গে কাতারের রাজধানী দোহায় অনুষ্ঠিত অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কনফারেন্সের (ওআইসি) নবম ইসলামী শীর্ষ সম্মেলনে ফিলিস্তিন সমস্যার সমাধানের ব্যাপারে আলোচনা হয়।

ওই অধিবেশনে বিশ্বের ক্ষমতাধর মুসলিম নেতাদের ফিলিস্তিনের মুসলমানদের ব্যাপারে করণীয় সম্পর্কে কথা বলার আহ্বান জানানো হয়। আধুনিক মালয়েশিয়ার রূপকার সেদিন একজন সত্যিকার মুসলিম নেতার ভূমিকায় বক্তব্য রেখেছিলেন।

ওই অধিবেশনে মাহাথির তার বক্তৃতার শুরুতেই বলেন, ফিলিস্তিনের মুসলিম, নারী ও শিশুদের অন্যায়ভাবে হত্যার বিরুদ্ধে করণীয় সম্পর্কে আজ ৫৬টি মুসলিম দেশের প্রতিনিধিরা এখানে একত্রিত হয়েছে। আমাদের মনে রাখতে হবে, ফিলিস্তিনের মুসলামানদের নির্যাতন করা মানে পৃথিবীর সব মুসলমানদের কলিজায় আঘাত করা। মুসলমানদের ইজ্জত-সম্মান নিয়ে ছিনিমিনি খেলার এরচেয়ে নিকৃষ্ট উদাহরণ আর কিছু হতে পারে না।

তিনি বলেন, কোনো আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ার কারণে এবং অগণিত হত্যার বদলে তাদের বিচারের মুখোমুখি না করার কারণেই ইসরায়েল এত সাহস পেয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের সবাইকে ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়াতে হবে। এখন আমরা এমন সময়ে এসে দাঁড়িয়েছি, যখন আর চুপ করে থাকলে চলবে না। যার যার অবস্থান থেকে ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠতে হবে।

ওই সম্মেলনের পর ২০টি বছর পেরিয়ে গেলেও মুসলিম বিশ্ব আজো ফিলিস্তিনের পাশে এক হয়ে দাঁড়াতে পারল না। ফলে ইসরায়েলি আগ্রাসন দিন দিন ভয়ংকর থেকে ভয়ংকরতম আকার ধারণ করছে। ভাষণের এক পর্যায়ে মাহাথির বলেছিলেন, ফিলিস্তিনি ইস্যুতে নীরব থাকলে একদিন আমাদেরও একই পরিণাম ভোগ করতে হবে। ততক্ষণ পর্যন্ত কি আমাদের ঘুম ভাঙবে না?

পুরো ভাষণটি জানতে পড়ুন- ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহ, মাহাথির মুহাম্মাদ, ১৩-১৮ পৃষ্ঠা।