advertisement
আপনি দেখছেন

রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে বাংলাদেশের প্রস্তাব জাতিসংঘে গৃহীত হওয়ায় ক্ষেপেছে মিয়ানমারের জান্তা সরকার। নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের পক্ষে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের নেওয়া সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে তারা বলেছে, এই প্রস্তাবের মাধ্যমে মিয়ানামারের বিরুদ্ধে একপেশে অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে। খবর স্ট্রেইটস টাইমসের।

un logoজাতিসংঘ

মিয়ানমারে জান্তা সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দেশটিতে গোলযোগ লেগে আছে। এক সামরিক অভ্যুত্থানে গত ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতাচ্যুত হন অং সান সুচি। তিনি গণতন্ত্রপন্থী হলেও ক্ষমতায় থাকাকালে রোহিঙ্গা নিপীড়নের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলেননি। নতুন জান্তা সরকার সাধারণ জনগণের ওপর ব্যাপক রক্তাক্ত ক্র্যাকডাউন চালিয়েছে।

১২ জুলাই জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে রোহিঙ্গাদের পক্ষে ওই প্রস্তাব গৃহীত হয়। সেখানে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে মিয়ানমার সরকারের প্রতি গঠনমূলক ও শান্তিপূর্ণ সংলাপের আহ্বান জানায় জাতিসংঘ। কিন্তু মিয়ানমার জান্তা সরকার বলছে, ওই প্রস্তাব মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। মিয়ানামার সেনার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো একপেশে।

myanmar army chief 1মিয়ানমারের জান্তা সরকারের প্রধান মিন অং হ্লাইং

জান্তা সরকারের বক্তব্য, ‘রোহিঙ্গা’ নামটি একটি রাজনৈতিক এজেন্ডা থেকে তৈরি ও উদ্দেশ্যমূলক। মিয়ানমার জান্তা সরকার এটাকে প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, রোহিঙ্গারা কখনও মিয়ানমারের জাতিগত অংশ ছিল না।

মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা বহুকাল ধরে তাদের জাতীগত স্বীকৃতি পায়নি। মিয়ানমারে মনে করা হয়, তারা বাংলাদেশ থেকে আগত একদল জনগোষ্ঠী। এজন্য তাদের নাগরিক অধিকার ও রাষ্ট্রের সকল সেবা থেকে বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে।

crying of rohingya motherরোহিঙ্গা নারী

সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্যাম্পে অবস্থান করছে। ২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনারা রাখাইনে রোহিঙ্গা জনপদে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালায়। প্রাণে বাঁচতে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশ সীমান্তে ঢুকে পড়ে। এখন মিয়ানমার গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত।

বর্তমান জান্তা সরকার ক্ষমতা দখলের সময় তাদের নেতা মিন অং হ্লাইং ‘রোহিঙ্গা’ টার্মটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। তারা জানিয়ে দেয়, রোহিঙ্গা একটি কাল্পনিক নাম। এ নামের সাথে মিয়ানমারের কোনো সম্পর্ক নেই।

জাতিসংঘ প্রস্তাবে আরও বলা হয়, জাতিসংঘ মিয়ানমারের জনগণ ও তাদের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতি পূর্ণ সমর্থন করে। মিয়ানমারে অবিলম্বে যুদ্ধ ও জনগণের সঙ্গে শত্রুতা বন্ধ করতে হবে। উল্লেখ্য, মিয়ানমার জান্তা সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রায় এক হাজার গণতন্ত্রপন্থীকে হত্যা করেছে।