advertisement
আপনি দেখছেন

সমুদ্র পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশ করতে গিয়ে চলতি বছর বিপুল সংখ্যক অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। ২০২১ সালের প্রথম ৬ মাসে এই সংখ্যা গত বছরের প্রথম ৬ মাসের দ্বিগুণ। জাতিসংঘের অভিবাসী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অরগানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম) এক প্রতিবেদন এমন তথ্য জানিয়েছে।

libyan coast guard recovered 439 migrants home

এ বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সমুদ্রে অভিবাসীর মৃত্যু সংখ্যা ১ হাজার ১৪৬ জন। এসব অভিবাসী ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশকালে মৃত্যুবরণ করেন, যার সংখ্যা আগের চেয়ে ৫৮% বেশি। খবর ডেইলি সাবাহর।

লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি যাওয়ার পথটি সবচেয়ে ভয়ংকর। এ পথে মৃত্যু হয়েছে ৭৪১ জনের। এর পরের স্থানে রয়েছে পশ্চিম আফ্রিকা থেকে স্পেনে প্রবেশ করার পথ, যার জন্য আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিতে হয়। এ পথে সংগঠিত হয়েছে ২৫০ প্রাণহানি। পশ্চিম আফ্রিকার লোকজন মূলত স্পেনের ক্যানারি দ্বীপের উদ্দেশ্যে সাগর পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করে থাকে।

atlantic immigrants

এছাড়া পশ্চিম ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে স্পেনে প্রবেশ করার পথে প্রাণ দিয়েছে ১৪৯ জন। এছাড়া গ্রিসের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মারা গেছেন অন্তত ছয়জন। আইওএম বলছে, ইউরোপে পাড়ি জমাতে সমুদ্রপথে সবচেয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, সরকারি অভিযান ও উদ্ধার যান না থাকার কারণে ভূমধ্যসাগর অভিবাসীদের জন্য মারণপথ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ইউরোপিয়ান দেশগুলো উদ্ধার কার্যক্রমে উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোর ওপর নির্ভর করে। এজন্য পরিস্থিতি আরও জটিলতার দিকে গেছে।

চলতি বছরের ছয় মাসে তিউনিসিয়া তাদের উদ্ধার কার্যক্রম ৯০ শতাংশ বাড়িয়েছে। সাগরে উদ্ধার কার্যক্রমে তদারকির ক্ষেত্রে লিবিয়ান কর্তৃপক্ষও সচেতন ভূমিকা পালন করছে। তারা ১৫ হাজারের বেশি শিশু ও নারী-পুরুষকে উদ্ধার করেছে সাগর থেকে। যাদের অধিকাংশ যুদ্ধপীড়িত অঞ্চলের মানুষ, যা গত বছরের চেয়ে সংখ্যায় তিনগুণ।

আইওএম মুখপাত্র সাফা এমসেহলি বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, সাগরে মৃত্যুর প্রধান কারণ- ভঙ্গুর নৌকায় অভিবাসীদের তুলে দেয় পাচারকারীরা। তাছাড়া ইউরোপসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলো তাদের নজরদারি কার্যক্রমে তেমন সক্রিয় নয়। তাছাড়া সেসরকারি সংস্থাগুলোর ওপর উদ্ধার কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা থাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ পর্যায়ে যাচ্ছে। এরকম বিপদজনক যাত্রায় তাদের ত্যাগ করা ঠিক হবে না।

মাইগ্রেশন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহকারী মেট্রো ভিলার তথ্যের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে হয়, এ বছরে ৯টি বেসরকারি জাহাজ আটক করেছে ইতালি কর্তৃপক্ষ।

ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের ইউরোপিয়ান দেশগুলো হলো- ইতালি, মালটা, স্পেন এবং গ্রিস। লিবিয়ান কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে, কোস্টগার্ডের কঠোর অবস্থানের কারণে উদ্ধার অভিবাসীদের জীবন সংকটের মধ্যে পড়ে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছে লিবিয়ার কোস্টগার্ডের হাতে অভিবাসীরা নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। তাদের ডিটেনশন সেন্টারেও নির্যাতন করা হচ্ছে।