advertisement
আপনি দেখছেন

রাশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ স্টেট ডুমার নির্বাচনে শুক্রবার ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। তিনদিনের এই নির্বাচন শেষ হবে রোববার গভীর রাতে। স্টেট ডুমায় ৪৫০ আসন রয়েছে। খবরে বলা হচ্ছে, এই নির্বাচনটি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জনপ্রিয়তা ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।

vladimir putin 2

তবে তার দল ‘ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টি’ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার প্রত্যাশা করছে। গতবারের নির্বাচন পুতিনকে সাংবিধানিক সংস্কারের দিকে এগিয়ে নিয়েছিল, যার ফলে পুতিন ২০৩৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে পারবেন বলে রায় এসেছিল।

রয়টার্সের খবরে বলা হচ্ছে, এই নির্বাচনকে প্রশান্ত মহাসাগর থেকে বাল্টিক সাগর পর্যন্ত ১১টি টাইমজোনে প্রেসিডেন্ট পুতিনের জন্য একটি পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ এসব এলাকার বাসিন্দাদের জীবনযাত্রার মান ও পশ্চিমের সঙ্গে রাশিয়ার টানাপোড়েনের সম্পর্ক নিয়ে সমালোচনার মুখে রয়েছে ক্রেমলিন।

এ নির্বাচন পুতিনের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল মুহূর্ত বলে মনে করা হচ্ছে। এই ভোট রাজনীতিতে নতুন ব্যক্তিত্বের উত্থান ঘটাতে পারে।

সাবেক কেজিবি কর্মকর্তা পুতিন ১৯৯৯ সাল থেকে দেশটির ক্ষমতায় রয়েছেন। কখনও প্রেসিডেন্ট আবার কখনও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। আগামী ২০২৪ সালের নির্বাচনে তিনি অংশ নেবেন কিনা এখনও পরিষ্কার করেননি তিনি।

পুতিনের কড়া সমালোচক বিরোধীদলের নেতা অ্যালেক্সি নাভানলি আশা করছেন, তার কৌশলগত প্রচারণা পুতিনের দলকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। চরমপন্থার অভিযোগ তুলে ৪৫ বছর বয়সী সাবেক আইনজীবী নাভানলির চলাফেরা নিষিদ্ধ করা হয় এবং তাকে মার্চে জেলে ঢোকানো হয়। অভিযোগ রয়েছে তাকে বিষ প্রয়োগে হত্যার চেষ্টা হয়েছিল।

নাভানলির দল ও মিত্ররা ক্রেমলিনের বিরুদ্ধে ব্যাপক দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলে আসছে। পুতিনে সমালোচনাকারী নাভানলি বর্তমানে রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ। তবে ক্রেমলিন সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং সমালোচনাকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে।

স্টেড ডুমার নির্বাচনে রুশ পার্লামেন্টের প্রবীণ সদস্য কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান জেনেনাডি জিউগানোভকে পুতিনে সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী নেতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাছাড়া ৬৫ বছর বয়সী জাতীয়তাবাদী নেতা ভ্লাদিমির জিরিনভস্তির এলডিপিআরও নির্বাচনে লড়ছেন। তবে জাস্ট রাশিয়া পার্টির মতোই ওই দু’দলও বিভিন্ন বিষয়ে পুতিনকে সমর্থন দিয়ে আসছে।

নাভানলি মনে করেন স্টেট ডুমার নির্বাচনে পুতিনের দলকে পরাজিত করার সযোগ রয়েছে। খবরে বলা হচ্ছে, মহামারি ও ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফিতির কারণে পুতিন ও তার দল চাপের মুখে রয়েছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়ার রাজনীতিতে কমিউনিস্ট পার্টির জনপ্রিয়তা বেড়েছে বলে রাষ্ট্রীয় এক জরিপে উঠে এসেছে। একইসঙ্গে ওই জরিপে পুতিনের ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টির জনপ্রিয়তা ২০০৬ সালের সময়ের মতো কমে গেছে। তবে পুতিনের দলই সামগ্রিকভাবে এগিয়ে আছে বলে মনে করা হচ্ছে।