advertisement
আপনি পড়ছেন

চমক দেখাচ্ছে চীন। বিশ্বের সবচেয়ে ধনী রাষ্ট্রটি বিশ্বব্যাপী যোগাযোগে ডানা মেলতে শুরু করেছে। অনেক আগেই বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে দেশটি। এ পরিকল্পনারই অংশ হিসেবে চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমে লাওসের সঙ্গে সংযোগকারী একটি রেলপথ তৈরির কাজ শেষ করেছে লাওস-চায়না রেলওয়ে।

china laos railway routeচীন ও লাওসের মধ্যে চলাচলকারী ট্রেন

২০১৬ সালের ডিসেম্বরে শুরু হওয়া নবনির্মিত ১ হাজার ২৪ কিলোমিটারের রেলপথটি ঘিরে আছে ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া থাইল্যান্ড ও মিয়ানমার। গ্লোবাল টাইমস, চ্যানেল নিউজ এশিয়ার খবর।

আগামী ২ ডিসেম্বর থেকে দুই দেশের মধ্যে ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার বেগে দ্রুতগামী ইলেকট্রিক ট্রেন চলাচল শুরু হবে লাওস-চায়না রুটে। চলতি সপ্তাহে একটি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ২০০ গণমাধ্যমকর্মীর সামনে তুলে ধরা হয় রেলপথের পরীক্ষামূলক ট্রেন ভ্রমণ।

এক সময় ফরাসি ইন্দোচীনের অংশ ছিল লাওস। ১৯৫৩ সালে স্বাধীনতা লাভ করে। একটি পর্বতময়, স্থলবেষ্টিত দেশ। এর উত্তরে চীন, পূর্বে ভিয়েতনাম, দক্ষিণে কম্বোডিয়া এবং পশ্চিমে ও উত্তর-পশ্চিমে থাইল্যান্ড ও মিয়ানমার। খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ এই দেশটির পরপরই বেইজিংয়ের পরবর্তী লক্ষ্য ওই চার দেশের ‘বাণিজ্যিক রুট’।

চীন-লাওস রেলপথ এই অঞ্চলে বেইজিংয়ের ডিপ্লোম্যাটিক সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার মাইলফলক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। চীনের ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড’ এমন একটি পরিকল্পনা যা বিশ্বের ৭০ দেশের সঙ্গে চীনের মূল ভূখণ্ডকে সংযুক্ত করবে। পরিকল্পনায় মূলত দুটি সড়কপথে মধ্য এশিয়া ও ইউরোপের সঙ্গে সংযুক্ত হবে চীন। সড়ক পথের সঙ্গে রেলপথ ও তেলের পাইপলাইনও রয়েছে। সেই সঙ্গে সমুদ্রপথেও।

এই পথগুলোর মাধ্যমেই দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত হবে চীন। বলা হয়ে থাকে প্রাচীন সিল্ক রুটের আধুনিক সংস্করণ এটি। ২০১৩ সালের নভেম্বরে ক্ষমতা গ্রহণের পরপর ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড’ নামে বেইজিংয়ের এই ‘মেজর কান্ট্রি ডিপ্লোমেসি’ রোডম্যাপ ঘোষণা করেন শি জিনপিং।

এ রেলপথে চীনের অংশে ১১টি এবং ৪০৯ কিলোমিটার লাও বিভাগে ১০টি স্টেশন রয়েছে। ব্যয় হয়েছে ৫৫.৬৮ বিলিয়ন ইউয়ান (৮.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)। প্রকল্পটিতে ৯৩টি টানেল রয়েছে যার মোট দৈর্ঘ্য ৩৯৮ কিলোমিটার। এগুলোর মধ্যে ১৫টি ১০ কিলোমিটারের বেশি। এ ছাড়াও লাইনটিতে ১৩৬টি সেতু রয়েছে যেগুলোর মোট দৈর্ঘ্য ৫০ কিলোমিটারেরও বেশি।

১ হাজার ২৪ কিলোমিটার চীন-লাওস রেলপথ ইউনানের রাজধানী কুনমিং থেকে শুরু করে লাওসের রাজধানী ভিয়েনতিয়েনে গিয়ে শেষ হয়েছে। লাইনটি শেষ পর্যন্ত থাইল্যান্ড এবং আরও দক্ষিণে প্রসারিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। রেললাইনটির আরেকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এর সবুজায়ন প্রচেষ্টা। এর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নির্মাণ প্রকল্পে বৃক্ষনিধন এড়িয়ে কাজ করার নীতিনির্ধারণ করা হয়।