advertisement
আপনি পড়ছেন

কুয়েতের গণপূর্ত মন্ত্রী ড. রানা আবদুল্লাহ আল-ফারেস শনিবার কুয়েতের আঞ্চলিক জলসীমায় ইসরায়েল থেকে পণ্য বোঝাই বাণিজ্যিক জাহাজের প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে কঠোর আদেশ জারি করেছেন। আদেশ অনুসারে, কুয়েত থেকে পণ্যবাহী কোনো জাহাজও ইসরায়েলে ঢুকতে পারবে না। এমনকি ইসরায়েলি পণবাহী অন্য দেশের জাহাজও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কুয়েতের সংবাদপত্র আল আনবারের বরাত দিয়ে খবরটি দিয়েছে জেরুজালেম পোস্ট।

kuwait port israeli shipsকুয়েতের সুয়েখ বন্দর, ফাইল ছবি

কুয়েতি আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বা কোম্পানি ইসরায়েলের অধীনে কোনো সংস্থা বা ব্যক্তির সাথে চুক্তি করতে পারে না। ইসরায়েলের বাইরে বসবাস করলেও ইসরায়েলে আগ্রহী ব্যক্তিদের সাথে আর্থিক বা বাণিজ্যিকভাবে লেনদেন করা যাবে না। নতুন আদেশ অনুসারে কুয়েতে যেকোনো ইসরায়েলি পণ্য আমদানি, বিনিময় বা বিক্রি করাও বেআইনি। তাই সেটা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে গ্রহণ করা হোক না কেন। এছাড়াও ইসরায়েলি পণ্যের কোনো উপাদানও বাণিজ্যের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না।

শনিবার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস একটি বিবৃতি জারি করেছে। অন্যান্য দেশকে একই পদ্ধতি অনুসরণ করার এবং ইসরায়েলের বাণিজ্য ও সামুদ্রিক যানবাহন সীমিত করার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

kuwait emir nawaf al ahmad al sabahকুয়েতের আমীর নাওয়াফ আল আহমাদ আল সাবাহ

খবরে বলা হচ্ছে, কুয়েত ইসরায়েলের কট্টর প্রতিপক্ষ। গত বছর যখন কয়েকটি আরব দেশের সঙ্গে আব্রাহাম চুক্তি (ইসরায়েলের সাথে আরব দেশগুলোর সম্পর্ক স্থাপন চুক্তি) স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তখন কুয়েত জোর দিয়েছিল ইসরায়েলের সাথে সব সম্পর্ক এখানেই শেষ।

গত ১ ডিসেম্বর জাতিসংঘে কুয়েতের স্থায়ী রাষ্ট্রদূত তালাল আল-ফাসাম ফিলিস্তিনিদের প্রতি কুয়েতের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগের সম্প্রতি হেবরনে ইব্রাহিমী মসজিদ পরিদর্শনের নিন্দা জানান। তিনি বলেন, এটি বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের অনুভূতিকে আঘাত করেছে।

চলতি বছরের মে মাসে কুয়েতের পার্লামেন্টে একটি বিল পাস করা হয়, যাতে ইসরায়েলের সাথে যেকোনো ধরনের যোগাযোগকে সীমিত করার নির্দেশনা রয়েছে। তাতে বলা হয়, ইসরায়েলের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করাও বেআইনি বলে বিবেচিত হবে।