advertisement
আপনি পড়ছেন

ভারতের সঙ্গে সীমান্ত সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে আরও একবার নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল চীন। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বিবাদ মেটাতে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপে নারাজ বেইজিং। বৃহস্পতিবার চীন জানিয়েছে, লাদাখ নিয়ে যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে তা মোকাবেলায় নয়াদিল্লি­র সঙ্গে ‘একান্ত’ আলোচনা চালিয়ে যাবে তারা। আমেরিকা যদি এই বিষয়ে নাক গলাতে আসে, তাহলে তা কিছুতেই বরদারশত করা হবে না। খবর এএফপি, দ্য হিন্দু ও দ্য ট্রিবিউন।

ladakh border india chinaভারত ও চীনের মধ্যেকার লাদাখ সীমান্ত

চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ইস্যুতে ভারতের সহমত আশা করছে। চীনা কর্মকর্তাদের বক্তব্য, ভারত-চীন সীমান্ত সমস্যা একেবারেই এই দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বিষয়। দু’পক্ষই আলোচনার মাধ্যমে তা মিটিয়ে নিতে সক্ষম। তাই এখানে তৃতীয় পক্ষের কথা বলার মতো কোনো জায়গা আছে বলে দুই দেশই মনে করে না।

চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইউ কিয়ান বলেন, ‘কিছু মার্কিন রাজনীতিকের কাছে ‘জবরদস্তি’ বিষয়টি বড়ই প্রিয়। তারা মনে হয় ভুলে গেছেন, আমেরিকাই ‘জবরদস্তির কূটনীতি’র উদ্ভাবক এবং এই খেলায় তারা অনেক আগেই পারদর্শিতা অর্জন করেছে। কিন্তু চীন এই নীতিতে বিশ্বাস করে না। আমরা কারও ওপর জবরদস্তি করি না, আমাদের ওপর অন্য কারও জবরদস্তি মানিও না। বরং আমরা জবরদস্তির কূটনীতির কঠোর বিরোধিতাতেই বিশ্বাসী।

পূর্ব লাদাখ নিয়ে ভারত-চীন দড়ি টানাটানি এখনো অব্যাহত। গালওয়ানের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ভালো কোনো ফলাফল দেখা যায়নি। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় স্থিতাবস্থা নিশ্চিত করতে দু’পক্ষের সেনাকর্তারা দফায় দফায় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। সেদিকে শুধু আমেরিকা নয়, নজর রয়েছে গোটা বিশ্বেরই।

লাদাখ ইস্যুতে গত ১২ জানুয়ারি শেষবারের মতো ভারত ও চীনের সামরিক কর্তাদের মধ্যে ১৪ দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই বৈঠকের ঠিক আগেই পরিস্থিতি নিয়ে সম্প্রতি কথা বলেছেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব জেন সাকি। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট অঞ্চলসহ গোটা পৃথিবীর প্রতি চীনের দৃষ্টিভঙ্গি ঠিক কেমন, সেই বিষয়ে আমাদের স্পষ্ট ধারণা রয়েছে। আমাদের বিশ্বাস, এর ফলে অস্থিরতা সৃষ্টি হবে। চীন তার প্রতিবেশীদের সঙ্গে যে আচরণ করছে, তাতে আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন।

আমেরিকার এমন মন্তব্যে চীন বেজায় চটেছে। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইউ কিয়ান এই প্রসঙ্গে জানান, শেষ দফায় ভারত ও চীনের মধ্যে যে আলোচনা হয়েছে, তাতে তারা সন্তুষ্ট। ওই আলোচনা ইতিবাচক ও গঠনমূলক বলেই মনে করে বেইজিং। সীমান্ত-সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে তৃতীয় পক্ষের মাথা ঘামানোর কোনো প্রয়োজন নেই। চীন ভারতের সঙ্গে একান্ত আলোচনা চালিয়ে যাবে।