advertisement
আপনি পড়ছেন

প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র টোঙ্গাতে সম্প্রতি অগ্ন্যুৎপাত-সুনামির যে জোড়া বিপর্যয় আঘাত হেনেছে, তা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে হিরোশিমাতে আঘাত হানা বিস্ফোরণের চেয়ে শতগুণ বেশি ভয়ংকর বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

tonga nasa স্যাটেলাইটে পাওয়া টোঙ্গার ছবি

গত ১৪ জানুয়ারি টোঙ্গাতে অগ্নুৎপাত শুরু হয়। তার জেরে আঘাত হানে সুনামিও। জোড়া এ আঘাতে পুরো দ্বীপজুড়ে দেখা দেয় চরম বিপর্যয়। বেশ কয়েকদিন বিশ্বের সাথে পুরোপুরি সংযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিল দ্বীপটি। এমনকি সেখানে বিমান নামারও জায়গা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।

ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞরা টোঙ্গাতে অগ্নুৎপাত ও সুনামির সঠিক উৎস খুঁজে না পাওয়ায় আক্ষেপ করছিলেন। তবে নাসার উপগ্রহ চিত্রের বিশ্লেষণে বিপর্যয়ের যে ভয়াবহ মাত্রার কথা জানা গেছে, তা আমাদের ধারণার তুলনায় অনেক বেশি। বিজ্ঞানীরা জানান, হিরোশিমায় পারমাণবিক বিস্ফোরণে যে পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয়েছিল, টোঙ্গার অগ্ন্যুৎপাতে তার চেয়ে ১০০ গুণ বেশি শক্তি তৈরি হয়েছে।

tonga ashঅগ্ন্যুৎপাতের ফলে ছাইয়ের ঢাকা টোঙ্গার একাংশ

নাসার বিজ্ঞানী জিম গারভিন জানান, ১৯৪৫ সালে হিরোশিমায় পরমাণু বিস্ফোরণে ১৫ কিলোটন টিএনটি শক্তি নির্গত হয়েছিল। অথচ টোঙ্গাতে অগ্ন্যুৎপাত-সুনামির জোড়া বিপর্যয়ে উদ্ভূত শক্তির পরিমাণ ৫ থেকে ৩০ মেগাটন।

গত ১৫ জানুয়ারি নাসার উপগ্রহ চিত্রে ধরা পড়ে প্রশান্ত মহাসাগর লাগোয়া ছোট্ট দ্বীপদেশের ভয়াবহ ছবি। সেখানে দেখা গেছে, দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে গর্ভে থাকা হাঙ্গা টোঙ্গা হাঙ্গা হোপাই নামে আগ্নেয়গিরি জেগে উঠে। শুরু হয় অগ্ন্যুৎপাত। এলাকা ঢেকে যায় কালো ছাই ও ধোঁয়ায়।

লাভা উদগীরণের ফলে আশপাশের সমুদ্রতলে বিশাল আলোড়নের জেরে উৎপত্তি হয় সুনামি। টোঙ্গা উপকূলে আছড়ে পড়তে থাকে বিরাট বিরাট ঢেউ। অতি অল্প সময়ের মধ্যেই সেখানে সৃষ্টি হয় বন্যা পরিস্থিতি। রাজধানী নুকু’আলোফায় বিষাক্ত ছাইয়ে ঢেকে যায়। রানওয়েসহ সব কিছু ঢেকে যায় পুরো কাদা আর ছাইয়ে। অন্যদিকে দুটি দ্বীপ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

জোড়া এই বিপর্যয়ের জেরে কেবল ইন্টারনেট পরিষেবা লণ্ডভণ্ড হয়ে যাওয়ায় কার্যত বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে টোঙ্গা। প্রতিবেশী দ্বীপ ফিজির সঙ্গে টোঙ্গার সংযোগকারী ৮২৭ কিমি দীর্ঘ কেবল লাইন ধ্বংস হয়ে যায়। ফলে দেশটির ক্ষয়ক্ষতির কথা যেমন জানা যাচ্ছিল না, তেমনি সেখানে সাহায্য পৌঁছানোরও ব্যবস্থা করা যায়নি প্রথম কয়েকদিন।