advertisement
আপনি পড়ছেন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, তেল খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন চলছে। এক্ষেত্রে ইউরোপ রাশিয়ার ওপর যে তেল নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে তাতে তারা নিজেরাই আত্মহত্যার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। জ্বালানি খাতবিষয়ক এক বৈঠকে পুতিন আরো বলেন, এটা অবশ্যই তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। তবে এসব সিদ্ধান্ত তাদের অর্থনীতিকে হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে। খবর আলজাজিরা।

v putin 1রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন

রাশিয়ার ওপর ইউরোপের জ্বালানি নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে পুতিন বলেন, এর মধ্য দিয়ে ইউরোপ নিজেই নিজের ক্ষতি করছে। এতে ইউরোপের দেশগুলোতে জ্বালানি খরচ বাড়বে, বাড়বে মূল্যস্ফীতিও।

বর্তমান ব্যবসা সম্পর্কে তিনি বলেন, পুরোনো মডেলে ব্যবসা চালিয়ে নেওয়া আর সম্ভব হবে না। সময় ও চাহিদার সাথে সাথে আমাদেরকে ব্যবসায়িক নীতিও পরিবর্তন করতে হবে। আমাদের চিনতে হবে কারা আমাদের প্রকৃত ভোক্তা। তাদের সাথেই আমাদের বিশেষ চেইন, বিশেষ সম্পর্ক তৈরি করতে হবে। রাশিয়ার তেল কোম্পানিগুলোকে পুতিন আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, যত ধরনের সাহায্য প্রয়োজন সরকার তা করবে। তবে শর্ত হচ্ছে, তেল বিক্রি হবে রাশিয়ান মুদ্রা রুবলে।

russian oil plantরাশিয়ার একটি তেল প্ল্যান্ট

এদিকে, জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবক বলেছেন, রাশিয়ার ওপর আরো বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। বিভিন্ন দেশ রাশিয়ার তেলের ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের জানা আছে, তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ কতটা কঠিন। তবুও বিষয়টি নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে ভেবে আসছি, কীভাবে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা যায়। এ বিষয়ে আরো আলোচনা করতে হবে। আশা করছি, কয়েকদিনের মধ্যেই নতুন করে নিষেধাজ্ঞার খসড়া চূড়ান্ত হবে।

তবে ইউরোপের নিষেধাজ্ঞা আয়োজনে আবারো দ্বিমত জানিয়েছে ইইউ সদস্যভুক্ত দেশ হাঙ্গেরি। তারা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের ওপর থেকে নির্ভরতা কমাতে হলে তার দেশের কয়েক বিলিয়ন ইউরোর তহবিল প্রয়োজন হবে। ইইউ সে তহবিল দিতে প্রস্তুত নয়।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ক্রেমলিন ইউক্রেনে সৈন্য পাঠানোর পর পশ্চিমা বিশ্ব রাশিয়ার বিরুদ্ধে নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া শুরু করে। রাশিয়ার ব্যবসা-বাণিজ্য, ব্যাংক, পার্লামেন্ট সদস্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এক যোগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। কিন্তু তাদের সেই গতি থেমে গেছে রাশিয়ার তেল ও গ্যাস আমদানির ক্ষেত্রে। এক্ষেত্রে কেউ কেউ নির্দিষ্ট সময় পর রাশিয়ার তেল বা গ্যাস আমদানি বাদ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। আবার কেউ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, রাশিয়ার তেল-গ্যাস ছাড়া তাদের একদিনও চলবে না।

রাশিয়া অবশ্য এ পদক্ষেপে খুব বেশি উদ্বিগ্ন নয়। তারা বলছে, এ অবস্থাতেও তেল-গ্যাস থেকে রাজস্ব আয় কমেনি রাশিয়ার বরং ক্ষেত্রবিশেষে তা বেড়েছে। তবে এসব পদক্ষেপের কারণে ইউরোপ বিশৃঙ্খলার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যা তাদের অর্থনৈতিক আত্মহত্যার সমতুল্য।