advertisement
আপনি পড়ছেন

তুরস্ক বলছে, যতক্ষণ না আঙ্কারার নিরাপত্তার প্রতি সম্মান দেখানো হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত ফিনল্যান্ড ও সুইডেনকে ন্যাটো জোটের সদস্য হতে দেওয়া হবে না। ফলে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটটিতে ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের অন্তর্ভুক্তির আলোচনা শুরুই করতে দেয়নি এরদোয়ানের তুরস্ক।

erdogan 9তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান

তুরস্ক শুরু থেকেই দাবি করে আসছে, ফিনল্যান্ড ও সুইডেন তুরস্কের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দিচ্ছে। সম্প্রতি দেশদুটি ন্যাটো জোটে যোগ দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জানায়। এর কিছুক্ষণের মধ্যে ন্যাটো জোটের নেতৃবৃন্দ আলোচনা করতে ব্রাসেলসে জড়ো হয়। কিন্তু তুরস্কের বিরোধিতায় সে আলোচনা শুরু করা যায়নি।

জার্মান বার্তা সংস্থা ডিপিএ জানিয়েছে, আঙ্কারা কিছু নিরাপত্তাগত উদ্বেগ তুলে ধরে বলেছে এই মুহূর্তে তারা ন্যাটো জোটে ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের প্রবেশের বিষয়ে আলোচনা শুরু করতে পারে না।

nato sweden and finland 1ন্যাটোতে যোগ দিতে আগ্রহ ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের

এর আগে ন্যাটো মহাসচিব জেন্স স্টলটেনবার্গ বলেছিলেন, খুব শীঘ্রই ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের অন্তর্ভুক্তির আলোচনার প্রথম ধাপ শেষ করা হবে। কিন্তু তুরস্কের বাধার মুখে দেশদুটি আদৌ সদস্য হতে পারবেন কি না তা নিয়েই সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

ন্যাটো জোটের মুখপাত্র ফিনল্যান্ড ও সুইডেনকে ঘনিষ্ঠ মিত্র আখ্যা দিয়ে বলেন, জোটে তাদের অংশগ্রহণে ইউরো-আটলান্টিক নিরাপত্তা জোরদার হবে। তবে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান ন্যাটো জোটের সমালোচনা করে জানিয়েছেন, এই জোট তুরস্কের স্পর্শকাতরতার প্রতি যথাযথ সম্মান দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে।

তুরস্কের পার্লামেন্টে তিনি গতকাল জানান, আমরা দেশদুটির কাছে ৩০ জন সন্ত্রাসীকে ফেরত চেয়েছিলাম। কিন্তু তারা তাতে রাজি হয়নি। এরদোয়ান তাদের উদ্দেশ্য করে বলেন, তোমরা সন্ত্রাসীদেরকে হস্তান্তর করবে না, তাহলে তোমরাও এ জোটে অংশ নিতে পারবে না। আমরা তোমাদের জন্য হ্যাঁ বলতে পারি না।

এদিকে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেক সুলিভান বলেছেন, এই দুই দেশের ব্যাপারে আঙ্কারার চাহিদা পূরণ করা হবে, সেইসাথে নর্ডিক দেশগুলোর ট্রান্সআটলান্টিক জোটে একটি কার্যকর এবং দক্ষ যোগদান প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা করি।

সুলিভান হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের বলেন, আমরা তুর্কি কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলছি যাতে এ বিষয়ে সমাধানের কোনো পথ বেরিয়ে আসে। আমি আশা করছি, দিনশেষে ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের সমর্থনে এক কণ্ঠে কথা বলবে ন্যাটের সব সদস্য রাষ্ট্র।

ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার চলমান যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে নরডিক দেশগুলো ন্যাটোর সদস্যপদ চাইছে। যে কোনো নতুন সদস্য ন্যাটোতে যোগদানের জন্য, জোটের সদস্যদের সর্বসম্মতভাবে সম্মত হতে হবে, যার মধ্যে তুরস্কও রয়েছে।

এদিকে তুরস্কের দাবি, কয়েক বছর আগে তুরস্কে ব্যর্থ অভ্যুত্থানের জন্য দায়ী অনেকে এ দুটি দেশের আশ্রয় নিয়েছেন। তুরস্কের বারবার আপত্তি জানালেও তাদের ফেরত দেয়নি এই দুটি দেশ। এছাড়া পিকেকেসহ সহ বেশ কিছু সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে দেশদুটির ওপর।