advertisement
আপনি পড়ছেন

২০২১ সালে আগস্টে আফগানিস্তান থেকে বিদেশি সকল সেনা সরিয়ে নেওয়া হয়। সেনা প্রত্যাহারের আগেই কাবুলসহ প্রায় পুরো আফগানিস্তানের দখল নিয়েছিল তালেবান। বিস্ময়করভাবে সে সময় আফগান সেনাবাহিনীর কোনো কার্যক্রম চোখে পড়েনি। সর্বাধুনিক অস্ত্র শস্ত্রে সজ্জিত এবং এতদিন ধরে মার্কিন প্রশিক্ষণ নেওয়া সেনাবাহিনীর এ অবস্থায় সকলে হতবাক হয়ে গিয়েছিল। একটি মার্কিন ওয়াচডগ বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রই মূলত তাদের এ সর্বনাশের মূল কারণ ছিল। খবর দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।

us taliban dealযুক্তরাষ্ট্রের সাথে চুক্তি সই, ফাইল ছবি

ওই মার্কিন ওয়াচডগের প্রতিবেদনের উপসংহারে বলা হয়েছে, আফগান সেনাবাহিনীর পতনের সবচেয়ে বড় কারণটি ছিল তালেবানের সাথে ট্রাম্প প্রশাসনের স্বাক্ষরিত একটি চুক্তি। যার মাধ্যমে আফগানিস্তান থেকে সেনাবাহিনী এবং ঠিকাদারদের প্রত্যাহারের মার্কিন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। বাইডেন প্রশাসনের দ্বারা সে চুক্তিটিই কার্যকর করা হয়েছিল। এর মাধ্যমেই মূলত অকার্যকর হয় এত বছর ধরে প্রস্তুত করা আফগান সামরিক বাহিনী।

গত মঙ্গলবার প্রকাশিত ওয়াচডগের প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের চুক্তি আফগান সামরিক বাহিনীর মনোবলকে একেবারেই নিঃশেষ করে দেয়। কারণ আফগানিস্তানের সামরিক বাহিনী হলেও এটি পুরোপুরি মার্কিন সামরিক সহায়তার উপর নির্ভরশীল ছিল।

afgan army 1আফগান সেনাবাহিনী

স্পেশাল ইন্সপেক্টর জেনারেল ফর আফগানিস্তান রিকনস্ট্রাকশন বা সিগার গত মঙ্গলবার রাতে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, সিগারের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী ২০২১ সালের আগস্টে আফগান জাতীয় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বাহিনী পতনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একক কারণটি ছিল ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন-তালেবান চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে আফগানিস্তান থেকে সামরিক বাহিনী এবং ঠিকাদারদের প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত। ২০২১ সালের এপ্রিলে নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর আফগান বাহিনীর প্রতি মার্কিন সামরিক সহায়তা কমে আসে। আগের চেয়ে বিমান হামলাও অনেকাংশে হ্রাস পায়। সিগারের ইন্সপেক্টর জেনারেল জন সোপকো বলছেন, ওই চুক্তির আওতায় বিমান হামলা কমিয়ে আনায় তালেবানের জন্য অনেক সুবিধা হয়।