advertisement
আপনি পড়ছেন

দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে পাকিস্তান মুসলিম লীগের (পিএমএল-এন) প্রার্থী হামজা শাহবাজের পক্ষে ভোট দেওয়ায় পাঞ্জাব প্রাদেশিক পরিষদে পিটিআইর ২৫ এমপিএর আসন শূন্য ঘোষণা করেছে পাকিস্তান নির্বাচন কমিশন। এতে করে শাহবাজ শরীফের পুত্র হামজা পাঞ্জাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছেন এবং মুখ্যমন্ত্রী পদ আঁকড়ে রাখার পোশাকি বৈধতাও তার হাতছাড়া হয়েছে।

pakistan supreme court twsdদলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে পদত্ত ভোট গননা না করার নির্দেশনা দিয়েছেন পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্ট

পাকিস্তানের প্রধান নির্বাচন কমিশনার সিকান্দার সুলতান রাজা, নিসার আহমেদ দুররানি ও শাহ মোহাম্মদ জাতোই প্রেসিডেন্টের পাঠানো এক রেফারেন্সের উপর শুনানি শেষে এ রায় দেন। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিয়ে পিটিআইর ২৫ এমপিএ কার্যত দলত্যাগ করেছেন বলে তারা রায়ে উল্লেখ করেন।

এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট সেদেশের সংবিধানের ৬৩ (ক) অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যা চেয়ে এক প্রেসিডেনশিয়াল রেফারেন্সের উপর প্রদত্ত সিদ্ধান্তে বলেন, দলের বিরুদ্ধে গিয়ে এমএনএ ও এমপিএদের প্রদত্ত ভোট গণ্য হবে না। সুপ্রিম কোর্টের ওই রায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী পদে শাহবাজ শরীফ ও পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী পদে হামজা শরীফের থাকার বৈধতা কার্যত শেষ করে দেয়।

সুপ্রিম কোর্ট ব্যাখ্যায় বলেন, দলীয় নির্দেশনার বিরুদ্ধে প্রদত্ত ভোট গণনায় নেওয়া যাবে না এবং অবশ্যই গণনার বাইরে রাখতে হবে। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে কারো এমন ভোট প্রদানের পর দলীয় প্রধান তাকে দলত্যাগী বা বিদ্রোহী ঘোষণা করার উদ্যোগ নেয় অথবা নেওয়া থেকে বিরত থাকুক, সেটা বিবেচ্য নয়।

সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের পর ওইদিন রাতে শাহবাজ শরীফের দল পিএমএল-এন জোট শরিক পিপিপি ও অন্যান্য দলের নেতাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করে। বৈঠকে তারা সরকার হিসেবে কার্যক্রম অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেন। ইমরান খানের বিরুদ্ধে পার্লামেন্টে আস্থা ভোটের আগেই তার দল পিটিআইর এমপিরা পদত্যাগ করায় শাহবাজ শরীফ ও সঙ্গীরা এ মুহূর্তে অনাস্থা প্রস্তাবের ঝুঁকি থেকে মুক্ত।

তবে শাহবাজের মতো যেনতেনভাবে ক্ষমতায় থেকে যাওয়ার সুযোগ নেই তার পুত্র হামজার। কারণ পাঞ্জাব প্রাদেশিক পরিষদে পিটিআই এমএলএরা এখনো স্বপদে বহাল আছেন। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়া পিটিআইর ২৫ জনের সমর্থনে ভর করেই হামজা ২৭০ আসনের পাঞ্জাব পরিষদে নিজের পক্ষে ১৯৭ জনের ভোট দেখিয়েছিলেন।