advertisement
আপনি পড়ছেন

ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ইউরোপে জ্বালানি সংকট বিশেষ করে গ্যাস সংকট মারাত্মক হয়ে দেখা দিয়েছে। রুবলে বিল পরিশোধ ছাড়া রাশিয়ার গ্যাস না দেওয়া কিংবা রাশিয়া থেকে গ্যাস আমদানি বন্ধের প্রতিশ্রুতির কারণে ইউরোপের অনেক দেশ ভোগান্তি পোহাচ্ছে। এজন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) জ্বালানি সংকট মেটাতে ভিন্ন পথ ধরেছে।

israel to sell natural gas to euইউরোপে গ্যাস দেবে ইসরায়েল, ইইউর তোড়জোড়

গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলাপ-আলোচনাও শুরু করেছে ইইউ'র সকল সদস্য দেশ। সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে এবার জানা গেলো ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ করবে ইসরায়েল। ইসরায়েল হায়োমের বরাত দিয়ে ইসরায়েল ন্যাশনাল নিউজ এ খবর দিয়েছে।

খবরে বলা হচ্ছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নে গ্যাস বিক্রির জন্য দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করছে ইসরায়েল। মিশরের উপর দিয়ে পাইপলাইনে ইউরোপে গ্যাস দিতে চায় দেশটি। এজন্য উভয় পক্ষ ইতোমধ্যে খসড়া প্রস্তাব বিনিময় করেছে এবং আগামী গ্রীষ্মের প্রথম দিকে একটি চুক্তি কার্যকর হয়ে যেতে পারে। পরে উভয় পক্ষ সরাসরি গ্যাস কোম্পানিগুলোর সাথে আলোচনায় বসবে।

এদিকে আগামী শীতে গ্যাসের ঘাটতি মেটাতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা কিংবা চুক্তিতে আসতে চাচ্ছে। বিষয়টিকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে ইইউ। ইউরোপের বেশ কয়কটি দেশ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলস্বরূপ রাশিয়া থেকে গ্যাস কেনা বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। যুদ্ধের আগে রাশিয়া ইইউতে মোট চাহিদার প্রায় চল্লিশ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ করে আসছিল।

ইইউ আলোচকরা ইতোমধ্যে মিশরের জ্বালানিমন্ত্রী তারেক এল মোল্লা এবং ইসরায়েলের জ্বালানিমন্ত্রী কারিন এলহারারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। এলহারার ইউরোপীয় ইউনিয়নের জ্বালানিমন্ত্রী কাদরি সিমসনের সাথেও দেখা করবেন বলে কথা রয়েছে।

আগামী শীতের জন্য বিকল্প জ্বালানির উৎস খুঁজে বের করার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন উদগ্রীব হয়ে উঠেছে। ইউরোপীয় কর্মকর্তারা সতর্ক করছেন, যদি গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা না যায়, তাহলে কয়লা ব্যবহারে ফিরে যেতে হতে পারে। যা জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতি বাড়াবে।

ইসরায়েলি পক্ষের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যদি অপ্রত্যাশিত কোনো বাধা না আসে, তাহলে এই শীতের প্রথম দিকে ইসরায়েল ইউরোপের কাছে গ্যাস বিক্রি করতে পারে। এটি ইসরায়েল-ইইউ সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নাটকীয় পরিবর্তন সূচিত করবে। একইসঙ্গে মিশর-ইসরায়েল আরও কাছাকাছি আসতে পারবে।

এর আগেও ইসরায়েল বিভিন্ন সময় নিজ প্রয়োজনে ইউরোপের কাছাকাছি আসার চেষ্টা করেছে। বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ইসরায়েলের সেই প্রচেষ্টাকে আরও তরান্বিত করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।