advertisement
আপনি পড়ছেন

এবার প্রশান্ত মহাসাগরীয় বা প্যাসিফিক দ্বীপপুঞ্জ ঘিরে নতুন একটি জোটের অনানুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। জোটটির প্রাথমিক নাম দেওয়া হয়েছে, পার্টনারস ইন দ্য ব্লু প্যাসিফিক (পিবিপি)। এই জোটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, নিউজিল্যান্ড এবং যুক্তরাজ্য দ্বীপ দেশগুলোর সাথে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক বাড়াতে কাজ করবে। এই অঞ্চলে চীনকে টেক্কা দিতেই যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। টিআরটি ওয়ার্ল্ড।

joe biden boris johnson jacinda ardern fumio kishida anthony albaneseএই জোটে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, নিউজিল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, বাইডেন প্রশাসন ইন্দো-প্যাসিফিকের কার্যক্রমে জোরালোভাবে যুক্ত হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কারণ বিদেশি বিনিয়োগ পেতে আগ্রহী প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ দেশগুলোর সাথে চীন অর্থনৈতিক, সামরিক এবং পুলিশ সংযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

পার্টনারস ইন দ্য ব্লু প্যাসিফিক জোট প্রশান্ত মহাসাগরীয় আঞ্চলিকতাকে সমর্থন এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ ও বাকি বিশ্বের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার চেষ্টা করবে।

গতকাল শুক্রবার হোয়াইট হাউস জানায়, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জনগণকে উপকৃত করে এমন কার্যক্রমকে সমর্থন করার জন্য আমরা আমাদের সংকল্পে ঐক্যবদ্ধ। যুক্তরাষ্ট্র মনে করে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় আঞ্চলিকতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সর্বোপরি নেতৃত্বের নীতি অনুসারে অঞ্চলটির সার্বভৌমত্বের সুরক্ষা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

হোয়াইট হাউস ইন্দো-প্যাসিফিক সমন্বয়কারী কার্ট ক্যাম্পবেল গত বৃহস্পতিবার বলেন, তিনি আশা করেন, আরও উচ্চ-পর্যায়ের মার্কিন কর্মকর্তারা প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ দেশগুলো সফর করবেন। কারণ ওয়াশিংটন কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলে চীনকে মোকাবেলা করার জন্য তার ব্যস্ততা বাড়াচ্ছে।

ক্যাম্পবেল বলছিলেন, এই অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরও কূটনৈতিক সুবিধার প্রয়োজন এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপের দেশগুলোর সাথে আরও যোগাযোগের প্রয়োজন। কারণ এই দেশগুলো কখনও কখনও উন্নত বিশ্বের কম মনোযোগ পায়। সেক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে চায়।

চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই সম্প্রতি প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জে সফর সম্পন্ন করেন। ওই সফরেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়েছে, চীন এই অঞ্চলটি নিয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষা পোষণ করে। বিশ্বের স্থবির অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে চীন বিশ্বশক্তির নেতৃত্বের দৌঁড়ে সমানতালে এগিয়ে যেতে চায়। চীন ফিজির রাজধানী সুভাতে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি বৈঠকও আয়োজন করে।

বৈঠকে চীন জানায়, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর সাথে নীল অর্থনীতির বিকাশের জন্য যৌথভাবে একটি 'সামুদ্রিক অর্থনৈতিক পরিকল্পনা' বাস্তবায়নে দ্বীপ দেশগুলোর সাথে কাজ করতে চায় বেইজিং। দ্বীপ দেশগুলোতে চীনা বিনিয়োগ ও সাইবারসিকিউরিটিসহ নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থারও প্রস্তাব করেছে বেইজিং।